শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৩

ডাকসুর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু আজ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ডাকসুর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক যে কোনো শিক্ষার্থী আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে বিতরণ শুরু হলেও আজই মনোনয়নপত্র নিচ্ছে না জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্যদিকে ছাত্রলীগ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারা। এদিকে নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে স্থাপনের দাবিতে গতকাল উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ এবং ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য’। আর নির্বাচনে অংশ নিতে প্রথম কোনো সংগঠন হিসেবে প্যানেল করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হচ্ছে। চলবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে বিতরণ শুরু হলে আজই তা না নেওয়ার কথা জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি জার্মানি থেকে ফিরে এলে মনোনয়নপত্র নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা। এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আগামীকালই মনোনয়নপত্র নেব না। আমরা সাত দফা দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে রয়েছি। আমরা দাবি আদায়ের জন্য কর্মসূচি দেব।’ কী ধরনের কর্মসূচি দেবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ভিসি ও চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব। ডাকসুর ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক। এমন কর্মসূচি দেব না, যাতে করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। তখন আবার বলা হবে, ছাত্রদলের জন্য ডাকসু নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেছে।’ ছাত্রলীগের মনোনয়নপত্র নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক মানববন্ধনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরে এলে তার সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা মনোনয়নপত্র নেব।’

ছয় দফা দাবিতে উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও : ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে স্থাপনসহ ছয় দফা দাবিতে গতকাল উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের দুই মোর্চা ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য’। দুপুরে বিশ^বিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে দুই জোটের নেতা-কর্মীরা যৌথভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলাভবনের সামনে দিয়ে টিএসসি ঘুরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের প্রবেশদ্বারে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র না দিলে নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, বাংলাদেশ ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি পারভেজ লেলিন প্রমুখ। সমাবেশে ইকবাল কবীর বলেন, ‘গত ১০ বছরে হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন সন্ত্রাসবাদ ও দখলদারি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলে স্থাপন করা হলে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র চাইলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা উপেক্ষা করছে। আমাদের কথা বিশ্বাস না হলে প্রশাসন গণভোটের আয়োজন করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ যেসব দাবি করেছে, তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর প্রশাসন আমাদের কর্মসূচি নিয়ে মুচকি হাসি হাসছে। আমরা বলতে চাই, ডাকসু নির্বাচন আমাদের প্রাণের দাবি। কেউ এটা বানচালের ষড়যন্ত্র করলে তা রুখে দেওয়াও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’ জি এম জিলানী শুভ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা একটি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বিজয়ী করতে প্রশাসন কাজ করছে।’ হলগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য প্রশাসন এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র গণমঞ্চের সভাপতি আফনান আক্তার, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিপুল চাকমা প্রমুখ। দুই জোটের দফাসমূহের মধ্যে রয়েছে ডাকসু ও হল সংসদ ফি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে প্রচারণার সুযোগ দেওয়া, গেস্টরুম-গণরুমে নির্যাতন বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রথম বর্ষ থেকে হলে বৈধ সিটের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি।

বিসিএলের প্যানেল ঘোষণা : ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)। গতকাল মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেল ঘোষণা করে সংগঠনটি। তাদের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো ছাত্র সংগঠন ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল ঘোষণা করল। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিসিএল তার মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা দিচ্ছে।’ ২৫ সদস্যের ওই প্যানেলে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমান রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে লড়তে ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান বিজয়কে মনোনয়ন দিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ের চাকরির বয়সসীমা ৩৫ করা, কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে বিসিএলের পূর্ণ সমর্থন ছিল। তাই অনাচারমুক্ত বিশ^বিদ্যালয় গড়তে বিসিএলের প্রার্থীদের রায় দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহজাহান আলী সাজু, ঢাবি শাখার সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমান রাহাত, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান বিজয় প্রমুখ।

আধুনিক গ্রন্থাগারের দাবিতে ছাত্রলীগের মানববন্ধন : আসনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ডিজিটালাইজ করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারকে যুগোপযোাপী করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গতকাল দুপুরে বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী এতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আধুনিক, যুগোপযোগী, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে সক্ষম কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার কমপ্লেক্সের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও বিশ^বিদ্যালয় শাখার নেতারা। মানববন্ধনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘আমরা যখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন আমাদের স্বপ্ন থাকে আকাশচুম্বী। কিন্তু প্রথম বর্ষে আমরা মেধাবিকাশের জন্য পড়াশোনার পরিবেশ পাই না। পড়ার জন্য সকালে উঠে লাইব্রেরিতে আসন পাওয়ার জন্য লাইন ধরতে হয়। এমনকি হলগুলোর রিডিং রুমেও আসন সংকট আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করে মেধাবিকাশের পরিবেশ দিতে হবে। সব ছাত্রকে একটি করে কার্ড দিয়ে লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজ করতে হবে।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। ছাত্রলীগ সব সময় সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে কথা বলে দাবি করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি বিশ্বমানের লাইব্রেরির দাবি করেছিলাম। কিন্তু তা পূরণ হয়নি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি, অনতিবিলম্বে আমাদের স্পষ্ট করে বলতে হবে, কবে নাগাদ এই উন্নত আধুনিক লাইব্রেরি গঠন করা হবে।’ মানববন্ধনে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর অনুপাতে ২০ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে হবে। বিশ^বিদ্যালয় লাইব্রেরিকে একটি আধুনিক, ডিজিটালাইজড, উন্নত মানের লাইব্রেরিতে রূপান্তর করতে হবে। আমরা সবাইকে কথা দিতে চাই, ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক লাইব্রেরি ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীকে উপহার দেব।’ দাবি মানা না হলে প্রশাসনকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির ঢাবি সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস।


আপনার মন্তব্য