শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৪

তৃণমূলে রাজনীতি

বগুড়া বিএনপির সাউন্ড নেই

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া

সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে না আসায় ভালো দিন যাচ্ছে না বগুড়ার বিএনপির। মান-অভিমান আর মামলায় জর্জরিত হয়ে আদালতেই দিন পার করছে বিএনপি নেতারা। জাতীয় পার্টি শক্তি সঞ্চারে ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছে। কর্মী সংকটে পড়েছে বাম দলগুলো। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে দল গুছিয়ে চলছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বগুড়ায় ৭টি আসনের মধ্যে মহাজোট জিতেছে ৪টিতে। এর মধ্যে দুটি আসনে বিএনপি এবং অপরটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪টি আসন নিয়ে নিজেদের ভিত শক্ত করে বসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা মহাজোট। আর ভরাডুবির পর থেকে বগুড়ায় বিএনপির তেমন সাউন্ড নেই। নীরবে কর্মসূচি পালন করছে। বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের ডেকে ফটো সেশন করছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গত ১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয় আলোচনা সভা ও মসজিদে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে। আর কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। ওই দিন বাদ জোহর বগুড়া শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে বগুড়া জেলা বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল করে জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের  সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিএনপি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময় সভা করেন। সেই সভাতেও তেমন কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝেও হতাশা ছিল। এক সময় বগুড়ায় বিএনপির সভা-সমাবেশে মিছিলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী দেখা গেলেও এখন আর সেই সুদিন নেই বিএনপির। বিএনপি অফিসে সন্ধ্যাবাতি জ্বললেও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের তেমন একটা দেখা যায় না। জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের দেখা গেলেও দেখা যায় না কর্মীদের। আবার কর্মীদের দেখা গেলেও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের দেখা যায় না। সংসদ নির্বাচনের পর পুরো বিএনপি ঝিমিয়ে আছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বগুড়া সদর থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর বগুড়ায় একদিন এসেছিলেন। সেটিও যাত্রা বিরতিতে। ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে বগুড়ায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো, শোকরানা এক রকম অভিমান করে কানাডায় রওনা হয়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি আর বিএনপির রাজনীতি করবেন না। সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন না পেয়ে হতাশায় ভুগছিলেন শোকরানা। শেষ পর্যন্তও তিনি অভিমান করে কানাডা প্রবাসী হতে চলেছেন। অথচ জেলা বিএনপির দুঃসময়ে, নেতা-কর্মীদের নামে মামলা-হামলাকালে জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চান, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলমের সঙ্গে শক্ত অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধা শোকরানা। এই শোকরানাই এখন বয়সের কথা বলে রাজনীতি থেকে অবসর নিতে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে জেলা যুবদলের সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারের প্রায় ৩ ডজন, শহর যুবদলের সভাপতি মাসুদ রানার নামে রয়েছে ১১৪টি মামলা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা এম আর ইসলাম স্বাধীন, মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, মাহবুবর রহমান বকুল, মেহেদী হাসান হিমুসহ বেশ কিছু নেতার নামে রয়েছে ডজন ডজন মামলা। আদালত-কোর্টচত্বর করতেই তাদের সময় ফুরাচ্ছে। সব মিলিয়ে বগুড়ায় বিএনপি ভালো নেই।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার কারণে অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে এবং কেউ পালিয়ে রয়েছেন। তবে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী। বগুড়ার যে দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন তাদের ভোট সংখ্যা প্রমাণ করে অন্যান্য আসনে কী ঘটনা ঘটেছে। ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলা আওয়ামী লীগের পালে হাওয়া লেগেছে। প্রায় ২ বছর আগে নতুন কিছু মুখ নিয়ে গঠিত হয় বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ। সাবেক ছাত্রলীগের একাধিক নেতা এখন জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন। অপর দিকে আওয়ামী লীগে যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদ আঁকড়ে ধরে পড়ে ছিল তাদের কেউ কেউ মনঃক্ষুণœ হলেও তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে চাঙ্গাভাবে সময় পার করছে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় ৪টি আসনে জয় পাওয়া দলটির প্রধান কর্তা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে মারা যাওয়ায় এই মুহূর্তে তারুণ্যনির্ভর আওয়ামী লীগে বইছে শোক। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান তারুণ্যনির্ভর কমিটি গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখেন মমতাজ উদ্দিন। সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির ঘাঁটিতে ৪টি আসনে মহাজোটের জয় নিয়ে এসেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন শোক কাটিয়ে আবারও দল ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের  প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মাহমুদ খান রনি জানান, প্রবীণ জননেতা মরহুম আলহাজ মমতাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে বগুড়ায় আওয়ামী লীগ অনেক আগে থেকেই শক্তিশালী। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় তার প্রমাণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার দুটি আসনে জাপার প্রার্থী জয়ী হলেও তাদের জেলা জাপা কার্যালয়ে তেমন একটা দেখা যায়নি। বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ ছাড়া অন্য কোনো উপজেলায় জাতীয় পার্টির কার্যক্রম চোখে পড়ে না। দ্বিতীয় দফায় জাপা এমপি পেলেও কাজের কাজ অতটা চোখে পড়ছে না। দলীয় নেতা-কর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করছেন খুব ধীরগতিতে। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) এলাকায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে মাঠে কাজ করছেন জেলা জাপার সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি। তিনি এমপি নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় জাতীয় পার্টির সংগঠন অনেকটা শক্তিশালী হয়েছে। বগুড়া জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ওমর এমপি জানান, বগুড়া জেলায় জাপার সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এখনো বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকছে জাসদ, জেএসডি, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য বামদলগুলো। বগুড়ায় বাম দলগুলো কখনোই শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। এখন এসে কর্মী সংকটে ভুগছে বামদলগুলো। নিয়মিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মিছিল মিটিং করলেও সেখানে কর্মী সংখ্যা একেবারে হাতে গোনা। যদিও বামদল থেকে বলা হচ্ছে, তাদের কর্মী সংখ্যা বাড়ছে। গণমানুষ তাদের কথা শুনছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর