Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৮

নওগাঁর নদ-নদী শুকিয়ে এখন মরা খাল

নদী বাঁচাও ৫৬

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর নদ-নদী শুকিয়ে এখন মরা খাল

নওগাঁর সীমান্তঘেঁষা সাপাহার-পোরশা উপজেলার একমাত্র নদী পুনর্ভবা। নিয়ামতপুর-মান্দা উপজেলার ওপর দিয়ে শিব নদ। সাপাহার-পোরশা ও মান্দা উপজেলার ওপর দিয়ে আত্রাই এবং রানীনগর-আত্রাই উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নাগর নদ। নদীগুলোর অবস্থা প্রায় একই। সব নদীই শুকিয়ে গেছে। দু-একটি নদীতে হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকলেও বাকিগুলো শুকিয়ে গেছে। এককালের খরস্রোতা পুনর্ভবা নদীর

পানি শুকিয়ে এখন মরা খাল। এটি এখন গোচারণভূমি ও খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া একই অবস্থা শিব নদ এবং আত্রাই ও নাগর নদীর। এসব নদীতে নৌকা চলা তো দূরের কথা, মাঝিদের নৌকাগুলো খরা মৌসুমে ডুবিয়ে রাখার মতো পানিটুকুও নেই। একসময় সারা বছর নৌকায় করে বিভিন্ন মালপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করা গেলেও অনেক নৌকা ফেলে রাখা হয়েছে ডাঙায়। নদীগুলোর দুকূল জুড়ে এখন শুধুই মরুভূমি। বর্তমানে শুকিয়ে যাওয়া নদীটি রাতের আঁধারে চোরাকারবারিদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদক, গবাদিপশু, আগ্নেয়াস্ত্রসহ হরেক রকম চোরাই পণ্য পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলার বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, এককালে ১২ মাসই বহমান ছিল এই পুনর্ভবা নদী। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে এলাকার রাস্তাঘাট অবহেলিত থাকায় সে সময় এই নদীই ছিল বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ। নদীর বুক চিরে ছোট-বড় হরেক রকম নৌকা দিয়ে মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে থাকত। এমনকি নদীতে বরযাত্রীদের বাহারি নৌকার বহরও চোখে পড়ত। সে সময় এসব নদীতে চলত মালবোঝাই ছোট-বড় নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার। এসব নদীর উজানে ভারত সরকার বাঁধ নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে নদী। একইভাবে সীমান্ত এলাকার পুনর্ভবা নদীটিও হারিয়ে ফেলেছে তার অতীত ঐতিহ্য। পুনর্ভবা নদীটি ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে ফিরে পেত তার পূর্ণ যৌবন। একই অবস্থা অন্য নদীগুলোর। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার বলেন, বর্তমান সরকার নদীবান্ধব সরকার। নদী রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে চলেছেন। জেলা ও উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির নিয়মিত সভায় নদীর ড্রেজিং পুনঃখননের কর্মপরিকল্পনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, নওগাঁর সবগুলো নদী রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। নদী রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর