শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ মে, ২০১৯ ২৩:৩৪

অষ্টম কলাম

রাজশাহীতে আম পারা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে আম পারা শুরু

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজশাহীর আম পাড়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিন নামানো আমের দাম বাজারে ছিল চড়া, কিন্তু বাগানে ছিল কম। ফলে আম চাষিরা  খুশি হতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দিনে গাছ থেকে নামনো আম ঝুড়ি ভর্তি হয়ে চলে গেছে বাজারে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানের চাষিরা বাগান থেকে গুটি জাতের আম নামানোর কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। দুপুরের মধ্যেই আম পৌঁছে যায় বাজারে বাজারে। জমে ওঠে বেচাকেনা। রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল, সাহেববাজার, শালবাগান ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় আম বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া জেলার সবচেয়ে বড় আমের হাট পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরেও আম উঠতে শুরু করেছে।

 সব বাজারেই আমের দাম ছিল বেশি। এদিন সকালে রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী দেওয়ানপাড়া এলাকার একটি বাগান থেকে আম নামাচ্ছিলেন চাষি মহব্বত আলী। তিনি জানান, দাবদাহের কারণে আম যে এবার আগেই পাকবে- সেটা সবাই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই জেলা প্রশাসনের ওই সভায় তারা আম পাড়ার সময় নির্ধারণের বিরোধিতা করেছিলেন। তারপরও সময় নির্ধারণ করা হয়। ওই সভা থেকে এসেই দেখেন, গাছ থেকে একটা-দুটো করে পাকা আম পড়ছে। কিন্তু গাছের আম নামাতে অপেক্ষা করতে হয়। তাই নিষেধাজ্ঞার সময় কাটার পর আর আম নামাতে এক মুহূর্ত দেরি করছেন না। বাঘা উপজেলার নূরনগর গ্রামের বাগান থেকে শ্রমিকদের দিয়ে আম নামাচ্ছিলেন রাজশাহী মহানগরীর ব্যবসায়ী শাকিল হোসেন। তিনি বলেন, ‘গাছে মুকুল আসার সময় চার বিঘার এই বাগানটা ৬০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। বাগানে প্রচুর আমও এসেছিল। কিন্তু প্রথমদিকে শিলাবৃষ্টিতে অনেক আম ঝরে যায়। সর্বশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় আকস্মিক ঝড়ে আরও কিছু আম ঝরে পড়ে। এখন আম নামানো শুরু হলেও প্রথম দিনেই অনেক কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছি।’

রাজশাহী মহানগরীর জিন্নানগর এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের পবা উপজেলার মিয়াপুর, খিরসানটিকর ও দারুশা এলাকায় কয়েকটি বাগান কেনা আছে। তিনি জানান, গতকাল তিনি চার মণ আম ভেঙেছেন। পাইকারী বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে হয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা মণ। প্রতি কেজি আমের দাম গড়ে মাত্র ২৩ টাকা। এই দামে আম বিক্রিতে তিনিও লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তবে উন্নতজাতের আম নামানো শুরু হলে ভাল দাম পাওয়া যাবে বলে তার আশা। দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশকিছু ব্যবসায়ীকে আম বিক্রি করতে দেখা যায়। এদের মধ্যে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, মেহেরচারা নামের (গুটি জাত) আম তিনি বিক্রি করছেন ১৫০ টাকা কেজি। গতকালই তিনি পাকা পাকা এসব আম পবার দামকুড়া এলাকা থেকে কিনে এনেছেন। তবে বাগানে কত দামে কিনেছেন তা জানাতে চাননি এ ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, গুটি আম বলে বাগানে দাম কিছুটা কম। তবে উন্নত জাতের আমগুলো ভাঙা শুরু হলে দাম বাড়বে। প্রসঙ্গত, রাজশাহীতে এবার সাত ধাপে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু পরিপক্ব আম গাছ থেকে পাড়া হবে। এর মধ্যে উন্নত জাতের গোপালভোগ পাড়া শুরু হবে ২০ মে। এছাড়া রানীপছন্দ ২৫ মে, খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৬ মে থেকে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১৭ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা জাতের আম। এর আগে আম নামালে আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

 


আপনার মন্তব্য