শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০১৯ ২৩:২১

অষ্টম কলাম

যেভাবে এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা

মানিলন্ডারিং আইনে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

যেভাবে এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা চুরির ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার রাতে রাজধানীর বাড্ডা থানায় এ মামলা করেন সিআইডির সাইবার ক্রাইম বিভাগের এসআই প্রশান্ত কুমার সরকার। এতে আসামি করা হয়েছে গত ১ জুন পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন থেকে গ্রেফতার হওয়া ৬ ইউক্রেনের নাগরিক ভ্যালেনটাইন, ওলেগ, ডেনিস, নাজেরি, সারগি, ভোলোডাইমাইর এবং পলাতক ভিটালিকে। জানা যায়, এটিএম বুথ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঠিক কী প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াত চক্রের সদস্যরা এভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, তা জানতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সোমবার বৈঠক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তাইয়ুপকিন নামে একটি ম্যালওয়ারের মাধ্যমে এটিএম বুথ হ্যাক করা হয়েছিল। ওই ম্যালওয়ার এটিএম বুথে ঢোকানোর সঙ্গে সঙ্গে বুথটি সাইবার হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সাধারণত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে যেসব এটিএম পরিচালিত হয়, সেসব এটিএমে এ ম্যালওয়ার কাজ করে বেশি। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালিত বেশিরভাগ এটিএমেই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেগুলো এনসিআর করপোরেশন নামে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে থাকে। তাইয়ুপকিন ম্যালওয়ারের মাধ্যমে যেভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথগুলোতেও একই পদ্ধতির প্রয়োগ দেখা গেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে জালিয়াত চক্রের সদস্যরা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এটিএম বুথে কার্ড প্রবেশ করানোর সময় ফোনে কথা বলছে। আর ফোনের অন্যপ্রান্তে চক্রের সদস্যরা সিস্টেম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোড ঠিক করে দিচ্ছে, যেন প্রতিবার একসঙ্গে ৪০টি করে ব্যাংক নোট বের হয়ে আসে।


আপনার মন্তব্য