Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২১

জিম্মি বিদেশে টাকা দেশে

মির্জা মেহেদী তমাল

জিম্মি বিদেশে টাকা দেশে

পাবনার শহিদুল ইসলাম। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মালয়েশিয়া  যান। কিছুদিন ভালোই কাটছিল তার। নিয়মিত যোগাযোগ ছিল স্বজনদের সঙ্গে। এক দিন হঠাৎ শহিদুলের নম্বর থেকে তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনে কল আসে। শহিদুলের ভাই ফোন ধরেন। ওপাশে চিৎকারের আওয়াজ। ভাই শহিদুলের গগনবিদারী আর্তনাদ- ‘আমাকে বাঁচাও। ভাইয়া আমাকে ওরা মেরে ফেলবে।’ কথা শেষ হতে না হতে আবারও চিৎকারের আওয়াজ। এরপর শহিদুল বলেন- ‘ওদের দুই লাখ টাকা না দিলে ওরা আমাকে জানে মেরে ফেলবে।’ কথাগুলো বলতে না বলতে কান্নাজুড়ে দেন শহিদুল। কিছুক্ষণ পর একই নম্বর থেকে আবারও ফোন। এবার ওপার থেকে ভেসে আসে ভারি কণ্ঠ। ওই ব্যক্তি বলছিলেনÑ ‘দুই লাখ টাকা পাঠাবি, নইলে তোর ভাইয়ের লাশ এই মালয়েশিয়াতেই কুকুর-শিয়ালে খাবে।’ এ কথার পরই পাশ থেকে শহিদুলের চিৎকার ভেসে আসে। বুক কাঁপে শহিদুলের ভাইয়ের।

দিগি¦দিক না পেয়ে শহিদুলের ভাই বলছিলেন- ‘ভাই, কীভাবে টাকা পাঠাব?’ এ সময় অপহরণকারীরা তাকে ৩-৪টি বিকাশ নম্বর দেয়। এসব নম্বরে দুই লাখ টাকা পাঠানো হলে মুক্তি মেলে শহিদুলের। 

এ ঘটনার পরই শহিদুলের ভাই পাবনার আমিনপুর থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদের নেতৃত্বে একটি টিম কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গত ৩০ জুলাই হামিদ হোসেনকে এবং ৩ আগস্ট আমানউল্লাকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, মালয়েশিয়াতে যাওয়ার পর শহিদুলের সঙ্গে মাহবুব হোসেন নামে একজনের পরিচয় হয়। মাহবুব তাকে কাজ দেওয়ার কথা বলে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করে। পরবর্তীতে দেশে থাকা তার স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে মাহবুবের আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার জন্য একাধিক বিকাশ নম্বর দেয়। স্বজনরা দাবিকৃত টাকা দেওয়ার পর চক্রটি তাকে ছেড়ে দেয়। টেকনাফের বাসিন্দা মাহবুব মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন থেকে তার কিছু মালয়েশিয়ার সহযোগীর মাধ্যমে একটি চক্র তৈরি করে। সেই চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় আসা অসহায় মানুষকে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাদের অপহরণ করে। তারপর নির্যাতন করে স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে অপহৃতদের আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা অপহৃতদের বাঁচানোর জন্য দাবিকৃত টাকা দিতে সম্মত হলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার সহযোগীদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে। অপহরণের পর শহিদুলের স্বজনের কাছ থেকে অপহরণকারীরা ৮টি বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই বিকাশ নম্বরের মধ্যে ৪টি সিম খোরশেদের নামে নিবন্ধন করা, একটি সিম হামিদের নামে নিবন্ধন করা। অন্য সিমগুলোর বিকাশ হিসাব বর্তমানে মালয়েশিয়াতে পলাতক ওই মামলার আসামি মাহবুবের নামে নিবন্ধন করা। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা বিদেশে অবস্থানরত মাহবুবের নির্দেশে সংগঠিত হয়ে এ ধরনের কাজ চালিয়ে আসছে। আমান বর্তমানে মাহবুব স্টোর নামে একটি দোকান পরিচালনাসহ খোরশেদ ও মাহবুব নামে নিবন্ধিত সব সিম দিয়ে ব্যবসা ও সব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই চক্রের সদস্যরা মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিককে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর