Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৩২

পবিত্র মক্কা-মদিনা ৩৬৫ দিন জেগে থাকে ২৪ ঘণ্টা

মোস্তফা কাজল, সৌদি আরব থেকে

পবিত্র মক্কা-মদিনা ৩৬৫ দিন জেগে থাকে ২৪ ঘণ্টা

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা-মদিনা বছরের ৩৬৫ দিনই ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকে। পবিত্র হজ এবং ওমরা পালনের জন্য প্রতিদিন সারা বিশ্ব থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে আসেন। তাদের জন্যই পবিত্র এ দুই নগরী জেগে থাকে। দুই শহরে আছে আবাসন, রেস্টুরেন্ট ও আধুনিক গণপরিবহন। রয়েছে ৩৬ হাজার আবাসন সুবিধা সম্বলিত হোটেল। একসঙ্গে ৩০ লাখ হাজীর থাকার ব্যবস্থা। প্রতি বছর ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটে আসছেন নানা ভাষার, নানা বর্ণের, নানা সংস্কৃতির মানুষ। কিন্তু সবার কণ্ঠে এক উচ্চারণ- আল্লাহু আকবর। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা.)। লাব্বাইক আল্লাহ হুম্মা লাব্বাইকা। মুসলিম সম্মিলনের মক্কা ও মদিনা এখন সারা বিশ্বের মুসলিম জাহানের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর ৯ জিলহজ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহতায়ালা বিপুল অনন্যতায় উদ্ভাসিত করেছেন মক্কা ও মদিনাকে। ফলে সেখানকার মাটি প্রতি মুহূর্ত মুমিন-মুসলমানকে আকর্ষণ করে। যে ব্যক্তি নিজ চোখে দেখেছেন প্রাণের শহর মক্কা-মদিনা, তিনি বড়ই সৌভাগ্যবান। কারণ আল্লাহর ঘর এবং তার প্রিয় রসুলের (সা.) রওজা দর্শনের চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি হতে পারে না একজন মুমিনের জীবনে। এ ছাড়াও এখানে রয়েছে আল্লাহর কুদরতের বহু নিদর্শন। হজ ও ওমরা যাত্রীদের কারণে এ দুই এলাকার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, লন্ড্রি, সেলুন ও সুপারসপগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। এসব বিবেচনায় প্রায় ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখানে প্রতি মুহূর্তে মক্কা ও মদিনায় বর্ষিত হয় রহমত, বরকতের ফল্গুধারা। পাপের বিশাল বোঝা নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিও এখান থেকে ফিরে যান গোনাহমুক্ত নিষ্পাপ জীবন নিয়ে। এ কারণে সর্বযুগে মানুষের কাছে মক্কা ও মদিনা সম্মানিত এবং ভালোবাসার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। মক্কার মসজিদুল হারাম বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম মসজিদ। সেখানে এক ওয়াক্ত নামাজ এক লাখ ওয়াক্তের নামাজের সমতুল্য। এ মসজিদের পাশেই রয়েছে জমজম কূপ। যার পানি এক জীবন্ত মোজেজা। এ পানি সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও কল্যাণকর পানি হচ্ছে জমজমের পানি। এ পানি যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ করে, তেমনি রোগবালাই থেকেও মুক্তিদান করে। পবিত্র মক্কা অনন্য মর্যাদায় উদ্ভাসিত হওয়ার কারণ হচ্ছে সেখানে রয়েছে হাজরে আসওয়াদ, মাকামে ইব্রাহিম, মিজাবে রহমত, হাতিম, মুলতাজাম, সাফা-মারওয়া পাহাড়, মিনা, আরাফা, মুজদালিফা প্রভৃতি বরকতময় স্থান। আর এ কারণে স্বয়ং আল্লাহর কাছেও মক্কানগরী অতি প্রিয়, সাধারণ মানুষের কাছে তো আছেই। হিজরতের প্রাক্কালে হজরত রসুলুল্লাহ (সা.) অশ্রুসজল নয়নে বলেছিলেন, হে প্রাণের মক্কা। পৃথিবীতে যত নগরী আছে। আল্লাহর কাছে তুমিই সেরা এবং সবচেয়ে বেশি প্রিয়। মক্কায় কথা হয় গোপালগঞ্জের হাজী ওসমান গণির সঙ্গে। তিনি বলেন, পবিত্র কাবা শরিফ দেখতে পারা পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দান করেছেন। অনেক শুকরিয়া। বাংলাদেশ থেকে আসা বেশির ভাগ হাজী ৪০ থেকে ৫০ দিনের ভিসা পেয়ে থাকেন। কিন্তু মূল হজের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র পাঁচ দিন। যে কারণে হজের পরে বা পূর্বে বেশ সময় মেলে। অপরদিকে ওমরা হজ পালন করতে লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। ওমরার ভিসা ১৪ থেকে ১৫ দিনের হয়ে থাকে। দীর্ঘ এই সময়টাতে এবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ইসলামিক নানা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো দেখে আসেন অনেকে। এতে জ্ঞান ভা ারের ঝুলিও সমৃদ্ধ হয়। এর পরে আরেক মর্যাদায় উদ্ভাসিত মদিনা। মদিনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াসরিব। হজরত রসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের পর এর নামকরণ হয় মদিনা তাইয়িবা তথা পবিত্র শহর। ইসলামের প্রচার-প্রসারের জন্য আল্লাহতায়ালা মদিনাকে নির্বাচিত করেছেন। সেখানেই প্রজ্বলিত হয়েছে ইসলামের মশাল, যার রশ্মিতে আলোকিত সমগ্র বিশ্বভুবন। এক বর্ণনায় রয়েছেÑ জিয়ারতকারীদের এই হাদিসের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার। যাতে নিজেদের কথাবার্তায়, কাজকর্মে, চলাফেরায় মদিনার মানুষ কষ্ট না পায়। মদিনার মাটিকে হজরত রসুলুল্লাহ (সা.) রোগের শেফা ঘোষণা করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে তিনি আঙ্গুলে থুথু নিয়ে মাটিতে ঘষে রোগীর জন্য দোয়া পড়তেন। হজরত রসুলুল্লাহ (সা.) হিজরত করে সর্বপ্রথম যে মসজিদ নির্মাণ করেছেন, তার নাম মসজিদে নববী। এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিন মসজিদের একটি। হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, এ মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব ৫০ হাজার ওয়াক্ত নামাজের সমতুল্য। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, আমার কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের একটি টুকরো। হাদিসের বিশেষজ্ঞরা লিখেছেন, ওই স্থানে জান্নাতের মতো অজস্র রহমত বর্ষিত হতে থাকে। সেখানকার ইবাদত জান্নাতে যাওয়ার উসিলা হবে। বাস্তবিক ওই স্থানটি জান্নাত হতে আনা হয়েছে। আসলে যে শহরে শুয়ে আছেন প্রিয়তম রসুল (সা.), যেখানে সকাল-বিকাল আগমন ঘটত ফেরেশতাকুল সরদার জিবরাইল (আ.)-এর। সে শহরের প্রতিটি ধূলিকণা রসুলুল্লাহ (সা.) কদম মোবারকের স্পর্শে ধন্য। সেখানকার পথঘাট, পর্বত-প্রান্তর সবকিছুই সর্বকালের মানুষের জন্য পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর