শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩৫

বদলে যাচ্ছে হাওর ২

পাখি আর মাছের অভয়াশ্রম হাকালুকি ও বাইক্কা বিল

মোস্তফা কাজল, মৌলভীবাজার থেকে ফিরে

পাখি আর মাছের অভয়াশ্রম হাকালুকি ও বাইক্কা বিল

ভ্রমণ পিপাসু মানুষের পছন্দের মধ্যে অন্যতম হাকালুকি হাওর ও বাইক্কা বিল। এ বিল সিলেটের উপকণ্ঠের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের প্রাণ। এখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। এক সময় শুধু শীতকালে এখানে অতিথি পাখি আসত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বাইক্কা বিল পরিযায়ী পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। ফলে বছরের বারো মাসই এখানে পাখি দেখা যায়। পাখি দেখার জন্য নির্মিত হয়েছে একটি তিনতলা পর্যটন টাওয়ার। প্রতি তলাতেই রয়েছে একটি করে শক্তিশালী বাইনোকুলার। দেয়ালে টানানো রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ছবি এবং সেই সঙ্গে নিচে তার আগমনকালের মাসের কথা উল্লেখ আছে। প্রতি বছর উঁচু উঁচু দালান ও যানজটের শহর ছেড়ে অতিথি পাখি আর হাইল হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ এবং সূর্যাস্ত দেখতে অনেক ভ্রমণপ্রেমিক ছুটে যান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বাইক্কা বিলে। আবার অনেকে যান হাকালুকি হাওরে। ফলে এ দুই স্থানে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটে। বর্তমান সরকার হাওরের পর্যটন বিকাশে নানা ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এসব স্থানে নির্মাণ করা হবে শেড, রেস্ট রুম ও হোটেল। আরও থাকছে রিসোর্ট। হাকালুকি হাওর : স্থানীয়ভাবে প্রবাদ আছে, হাওর মানে হাকালুকি আর সব কুয়া (কূপ), ব্যাটা (পুরুষ) মানে মনসুর আর সব পুয়া (ছেলে)। প্রকৃতির এই বিশাল দুনিয়ায় নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ, পাখি, শাপলা-শালুক, ঝিনুক, শত প্রজাতির জলজ প্রাণী আর হিজল, করচ, বরুন, আড়ং, মূর্তা, কলুমসহ সবুজের ঢেউ জাগানিয়া মনকাড়া পরিবেশ। এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির সীমানা মৌলভীবাজার জেলা ছাড়িয়ে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত। ৫টি উপজেলা (কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ) জুড়ে ২৩৮টি বিল নিয়ে এ হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪শ হেক্টর। বাইক্কা বিল : অতিথি আর দেশীয় পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হতে শুরু করেছে বাইক্কা বিল। ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিলের সুনাম প্রকৃতিপ্রেমীদের মুখে মুখে। নানা জাতের গাছ, মাছ আর পাখি। বিলের পাড়ে সবুজ ঘন বন। ওখানেই স্থায়ী নিবাস গড়া পাখি আর পোকামাকড়ের ডাক নিস্তব্ধতা ভেঙে ভিন্ন আমেজ। প্রকৃতি যেন একে অপরের সঙ্গে মিতালি গড়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, বাইক্কা বিলে প্রায় ৮০ প্রজাতির মাছ ও শতাধিক প্রজাতির পাখির অভয়াশ্রম।

এদের মধ্যে পানকৌড়ি, কানিবক, ডাহুক, জলমোরগ, ধলাবক, ধুপনি বক, রাঙ্গা বক, মাছরাঙা, গোবক, শঙ্খচিল, ভুবন চিল, পালাসী কুড়া ঈগল, গুটি ঈগল অন্যতম। কালো লেজ জৌরালি ও দাগিলেজ জৌরালি, লম্বা পায়ের পাখি দলপিপি, কালামাথা কাস্তেচরা, গেওয়ালা বাটান, মেটেমাথা টিটি, কালাপাখ ঠেঙ্গী এ বিলের নিয়মিত অতিথি পাখি পান ভোলানি। বিপন্ন তালিকায় থাকা পালাশী কুড়া ঈগল, অন্যান্য পাখির মধ্যে দাগি রাজহাঁস, খয়রা  চখাচখি, ল্যাঞ্জা হাঁস, পাকড়া কোকিল, নীললেজ সুইচোর, পাতি আবাবিল, দাগি ঘাসপাখি, সরালি উল্লেখযোগ্য। মাছের মধ্যে আইড়, মেনি, কাখলে, কই, ফলি, মলা, টেংরা, পুঁটি, পাবদা, মাগুর, শিং, টাকি, চিতল, কাতলা, বোয়াল, রুই, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। পাখি ও মাছের নিরাপদ আবাসস্থলের কারণে এখন পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বাইক্কা বিল। এমনটি জানালেন ওয়াচ টাওয়ারের তদারকির দায়িত্বে থাকা আহসান হাবীব ও রাজু আহমদ। তারা জানালেন শুক্র ও শনিবার এই দুই দিন পর্যটক ওখানে বেশি আসেন। বাইক্কা বিলের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সমাজভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন বড়গাঙ্গিনার সেক্রেটারি মিন্নত আলী জানালেন, এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর