শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১৬

সীমান্তে মিলনমেলা

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

সীমান্তে মিলনমেলা

হাঁটুজল পেরিয়ে এপার বাংলা-ওপার বাংলার হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বাউরা সীমান্তের ৮০৪ নং মেইন পিলারের কাছে ও ভারতের সীমা খুুকী কালীবাড়ী বিওপি ক্যাম্প সীমান্তে। প্রায় ২ কিলোমিটার জুড়ে দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে জড়ো হয় সীমান্তে, দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকায় একে অপরের সঙ্গে মিলিত হবার এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না কেউ। কালীপূজা  উপলক্ষে প্রতি বছর দুই দেশের স্বজনদের মিলন মেলায় পরিণত হয় এ সীমান্ত। সীমান্তজুড়ে নারী-পুরুষ- শিশু ও বৃদ্ধের আনন্দের অশ্রুধারা এপার ওপারের আত্মীয়-স্বজনদের চোখ দিয়ে বয়ে যায়। সরেজমিন দেখা যায়, সীমান্তের ওপারে সানিয়াজান নদীর হাঁটুজল পেরিয়ে নারী ও পুরুষ ছুটছে  কাঁটাতারের বেড়ার দিকে। সীমান্তে অন্যরকম উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দুই বাংলার মানুষ একত্রে হতে পেরে সবাই অনেক খুশি। বহুদিন পরে আত্মীয়স্বজনের দেখা পেয়ে অনেকে আনন্দে অশ্রু সংবরণ করতে পারেনি। মিলন মেলায় জলঢাকার চাপানী থেকে আসা সুখবালা জানায়, আমার মেয়ে মিনতী বালা ভারতে থাকে। তাই মেয়েকে এক নজর দেখতে এলাম। আমি বৃদ্ধ হইছি কদিন যে বাঁচি, ভারতে যেতে অনেক টাকা খরচ তাই মেয়েকে দেখে কেঁদে কেঁদে বলেন, সুখে থাকিস এই বলে মেয়ে মিনতী বালাকে আশীর্বাদ করলেন। মিলন মেলায় একে অপরের কুশল বিনিময় করে শাড়ি কাপড়, লুঙ্গি, বিস্কুট, আপেল ইত্যাদি জিনিসপত্র আদান-প্রদান করেন এবং অনেক কাঁটা তারের বেড়া ধরে দীর্ঘক্ষণ সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করেন।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে বিজিবির কড়া প্রহরাকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ স্বজনদের একনজর দেখার জন্য কাঁটাতারের বেড়ার দিকে ছুটে আসেন। বিজিবি সাধারণ মানুষকে আটকাতে পারেনি। প্রতি বছর দীপাবলিতে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া খুলে দেওয়ায় দুই দেশের মানুষ তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। বাউরার আনন্দ মোহন জানান, এভাবে প্রতিবছর বিশেষ দিনগুলোয় মিলন মেলার আয়োজন করলে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও সম্পর্ক আরও মধুর হবে। পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল বসুনিয়া জানান, প্রতিবছর কালীপূজায় দুই দেশের মানুষ কাঁটাতারের বেড়ার পাশে জড়ো হয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিজিবি ও বিএসএফ মিলন মেলার সুযোগ দেন। এ সুযোগ যেন প্রতি বছর থাকে। এই জনপ্রতিনিধি মনে করেন, দুই দেশের লাখো হতদরিদ্র রয়েছে যারা পাসপোর্ট করে স্বজনদের দেখতে যেতে ও আসতে পারেন না। তাই প্রতি বছর বিশেষ দিনে এ মিলন মেলা হলে উপকৃত হবে দুই বাংলার অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষগুলো।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর