শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৩

আবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

১৮ নভেম্বর গণশুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রাহক পর্যায়ে ফের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণকারী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বার্ক) বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। বিইআরসি আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির জন্য গণশুনানির আয়োজন করেছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ছয় মাসের মাথায় বার্কের কাছে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। আর এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিচালন ও জনবল বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন এবং সরঞ্জামের মূল্য বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্য দিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচের সঙ্গে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের মূল্যের ঘাটতির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে যে ভর্তুকি দিতে হয় তা সামঞ্জস্য করতেই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে।  বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৬২   শতাংশ উৎপাদিত হয় গ্যাসের মাধ্যমে। গ্যাসের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করেই মূল্য বৃদ্ধি করা যৌক্তিক কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, পাঁচ বছর আগের আর বর্তমান সময়ের বিদ্যুতের মধ্যে পার্থক্য আছে। মাঝে মধ্যে কারিগরি ত্রুটি থাকতেই পারে। বিশেষ করে সাব স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। যেমন, কোনাবাড়ী এলাকায় এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে আগামী দু-এক মাসের মধ্যে সেখানে একটি সাব স্টেশন তৈরি করা হবে। তখন সে এলাকায় উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পাবে। তবে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে কিছুটা সময় লাগবে, তা হবে ধারাবাহিক গতিতে। তারা আরও জানান, বিদ্যুতের তিনটি কোম্পানি-জেনারেশন, ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন। ক্ষতি কেবল জেনারেশনের হচ্ছে আর কোথাও হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমদ কায়কাউস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা এখন ৪ টাকা দামে গ্যাস কিনছি যার প্রকৃত মূল্য ১৫ টাকা। গত ছয় মাসে গড়ে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ হচ্ছে ৫ টাকা ৮৮ পয়সা। কিন্তু সরকার চার টাকা ৮৫ পয়সায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে বিক্রি করছে। অর্থাৎ এক টাকার কিছু বেশি টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে কম রাখছে। এই টাকা সরকার কোথায় পাবে? হয় সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে না হলে জনগণের কাছ থেকে এই টাকা নিতে হবে। বার্কের সৃষ্টি, এই বিষয়টিকে সমতা করে জনগণের কাছ থেকে সেবা মূল্য আদায় করার জন্য হয়েছে। সরকার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির নিবেদন এরই মধ্যে বার্কের কাছে উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের চার টাকা ৮৫ পয়সায় যখন বিদ্যুৎ কিনতে হয় তার সঙ্গে মার্জিন বা অপারেশনাল কস্ট অ্যাড করলে যা আসে তাতে বর্তমানে কোনো বিতরণকারী সংস্থার মূল্য বৃদ্ধি করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু চার টাকা ৮৫ পয়সার জায়গায় যদি ৫ টাকা ৮৮ পয়সা হয় তাহলে আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে।

আহমেদ কায়কাউস আরও বলেন, আমরা নতুন করে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলছি না। বরং বার্কের কাছে আবেদন করেছি যে, আমাদের আগে থেকেই বিদ্যুতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে এই বিষয়টি বিবেচনায় আনতে বলেছি। আমাদের যে উৎপাদন খরচ হয় তার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে হবে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে আমাদের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি তৎপরতার অংশ হিসেবে গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বিদ্যুতের একক ক্রেতা ও পাইকারি বিক্রেতা পিডিবি, সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি এবং বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি, ডেসকো, বিআরইবি, ওজোপাডিকো ও নেসকো নিজেদের চাহিদা তুলে ধরে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে মূল্য বৃদ্ধির আবেদন জমা দিতে থাকে। আর এক্ষেত্রে কমিশন পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় নিলে গ্রাহক পর্যায়েও মূল্য বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।  বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, পিডিবিসহ সব কোম্পানিই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করার আবেদন করেছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর এসব আবেদন নিয়ে গণশুনানির গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বার্ক। এর ফলে আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে পাইকারি মূল্যহার ও সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। এই ধারাবাহিকতায় ১ ডিসেম্বর পিডিবি ও নেসকোর খুচরা মূল্যহারের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আবেদনের ওপর শুনানি হবে। ৩ ডিসেম্বর ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুতের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। এর আগে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তখন গড়ে ইউনিট প্রতি ৩৫ পয়সা মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। যা ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। আর ২০১৫ সালে সর্বশেষ পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।


আপনার মন্তব্য