প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৬

মাটির সুরে মাতল ঢাকা

মোস্তফা মতিহার

মাটির সুরে মাতল ঢাকা

হেমন্তের আকাশে সূর্যটা সবেমাত্র ডুব দিয়েছে। রঙবেরঙের আলোতে সাঝের আঁধারটাতেও বর্ণিল হয়ে উঠল রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়াম। আর সেই আলোকের ঝরনাধারায় সুরের ধারা ছড়িয়ে পড়ল গোটা স্টেডিয়ামে। মাটির সুরের ঢেউ দোলা দিয়ে গেল সুরপিয়াসীদের হৃদয়ের জমিনে। শেকড়ের সুরে ঐতিহ্যের খোঁজে নিজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় এভাবেই পর্দা উঠেছে তিন রাতের ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব-২০১৯’ এর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে আসে বাংলাদেশের নাচের দল ‘ভাবনা’। কালজয়ী সুরস্রষ্টা ও রাধারমণের ‘আমি রবো না রবো না গৃহে, বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না’ গানটির সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিবেশনা শুরু করে দলটি। এরপর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর আরও একটি দলীয় নৃত্য শেষে ‘কোন দিন জানি’ বিচ্ছেদ গানের সঙ্গে তারা পরিবেশন করে একটি লোকনৃত্য। সবশেষে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে আরও একটি মনকাড়া সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে মঞ্চ ত্যাগ করে ভাবনার শিল্পী প্রেমা ও তার দল। লোকগানের সঙ্গে লোকনৃত্যের সংমিশ্রণে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার সন্ধ্যাকে উপভোগ্য করে দেশীয় এই নাচের দলটি। উদ্বোধনী রাতের দ্বিতীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন জর্জিয়ার ফোক গানের দল শেভেনুরেবি। মঞ্চে উঠেই প্রাণের ভাষা বাংলায় দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে বলে ওঠেন ‘ধন্যবাদসহ আমি তোমাকে ভালোবাসি’। বিদেশি শিল্পীর মুখে দেশীয় ভাষা শুনে স্টেডিয়ামভর্তি দর্শক-শ্রোতারা করতালিতে প্রকম্পিত করে তোলেন সমগ্র স্টেডিয়ামকে। এরপর নিজেদের পরিবেশনাতে জর্জিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ফোক গান পরিবেশন করেন ২০০১ সালে সংগীতের ভুবনে নিজেদের প্রকাশ ঘটানো এই দলটি। সুরের সুষমার ক্ষেত্রে ভাষা কোনো বাধা মানে না সে বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে জর্জিয়ার এই দলটির অনবদ্য পরিবেশনাতে। জর্জিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের আটটি গান পরিবেশন করে এদেশের দর্শক-শ্রোতাদের সুরে ভেজান জর্জিয়ার গানের দল শেভেনুরেবি। সবশেষে ‘থ্যাংক ইউ বাঙালি’ বলে মঞ্চ ছাড়েন বিদেশি এই গানের দলটি। রাতের তৃতীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন শাহ আলম সরকার।  দেহতত্ত্ব ও শেকড়ের সুরের মিশেলে সমগ্র স্টেডিয়ামকে সুরের রাজ্যে পরিণত করেন পালাগানের দেশীয় এই শিল্পী। শিল্পীর পরিবেশনার পরতে পরতে লুকিয়ে ছিল বাঙালি জাতিসত্তার স্বরূপ। রাতের সর্বশেষ পরিবেশনা ছিল ভারতের বিহারের পাটনার শিল্পী দালের মেহেন্দী। ১৯৯৫ সালে ‘বোলো-তা রা রা রা’ অ্যালবামের মাধ্যমে ভারতীয় এই শিল্পী ‘পাঞ্জাবি ভাঙড়া’ গান দিয়ে উপমহাদেশের সংগীতে নিজের দাপটের জানান দেন। ওই অ্যালবামটি প্রায় ২০ মিলিয়ন কপি বিক্রির রেকর্ড গড়ে সংগীতের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড তৈরি করে। তিন দশক ধরে হিট গান উপহার দিয়ে আসা ভারতীয় এই শিল্পীর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিন রাতের ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোক ফেস্ট-২০১৯’ সমাপ্তি ঘটে।

কাল শনিবার শেষ হবে মাটির সুরের তিন রাতের এই আসর। এবারের উৎসবে অংশ নিচ্ছে ছয় দেশের দুই শতাধিক শিল্পী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর