শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৮

সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন

নিজামুল হক বিপুল, মাদ্রিদ (স্পেন) থেকে

২৫তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন শেষের দিকে চলে এলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।  বিশেষ করে এ সম্মেলনে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া জরুরি সেটি হচ্ছে প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬। কিন্তু ধনী ও উন্নত দেশগুলোর অনাগ্রহের কারণে এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি। আজ ১৩ ডিসেম্বর সম্মেলনের শেষ দিন। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের সম্মেলনের একমাত্র ইস্যু হচ্ছে আর্টিকেল-৬। অথচ কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর অনাগ্রহের কারণে এই ইস্যুটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সম্মেলন শেষ হতে যাচ্ছে, যা দুঃখজনক। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত হয়তোবা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবে কপ। জানা গেছে, আর্টিকেল-৬, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ও ফাইন্যান্স ইস্যুতে দুই দিন ধরে মন্ত্রী পর্যায়ে দেনদরবার চলছে। আজ শেষ দিনেও এ দেন দরবার চলবে। এদিকে বুধবার স্থানীয় সময় রাতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক পার্শ্ব সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. হাছান মাহমুদ। বাংলাদেশ, কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে এ পার্শ্ব সম্মেলন আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী। এ সময় হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজন বিশ্বের সব দেশের সমন্বিত ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্পাপ শিকার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের হার মাত্র দশমিক ৫ টন। আর উন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু গড় কার্বন নিঃসরণ ৬ টন। দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ নিয়ে নিজ উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রপথিক। আমরা সবার আগে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করেছি। ইতিমধ্যে নিজস্ব অর্থে ৭২০টি অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে স্থাপন করা হয়েছে ৫০ লাখেরও বেশি সোলার সিস্টেম।  তথ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বাংলাদেশে দৃশ্যমান। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে চলেছে, দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মরুকরণ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পানির প্রধান উৎস হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে। ফলে বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক হুমকির মুখে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। শুধু উপকূলীয় অঞ্চলেই ৪২ মিলিয়ন জনগণ বসবাস করে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাবে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর