শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৭

রাশিয়ার বাণিজ্যের চোখ বঙ্গোপসাগরে

মেরিটাইম চুক্তির প্রস্তাব

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

রাশিয়ার বাণিজ্যের চোখ বঙ্গোপসাগরে

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও জাপানের পর এবার বঙ্গোপসাগর নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে আরেক পরাশক্তি রাশিয়া। দেশটি তার জাহাজ নিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার চাইছে। এ জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে প্রভাবশালী এই দেশটি। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে চুক্তির একটি খসড়াও পাঠিয়েছে তারা। ‘কো-অপারেশন ইন দ্য ফিল্ড অব মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট’ শীর্ষক এই চুক্তি কার্যকর হলে যুদ্ধজাহাজ এবং সরকারের অ-বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিচালিত জাহাজ, প্রমোদতরী ও ক্রীড়া ভ্যাসেল ব্যতীত রাশিয়ার সব ধরনের জাহাজ বঙ্গোপসাগরে ঢুকতে পারবে। এসব জাহাজ বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অবাধ সুযোগ পাবে। অবশ্য চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশও রাশিয়ায় একই ধরনের সুবিধা লাভ করবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাশিয়ার পক্ষ থেকে মেরিটাইম সহায়তার বিষয়ে চুক্তির প্রস্তাব পাওয়া গেছে গত ১৮ নভেম্বর। এখন সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। সূত্রগুলো জানায়, এর আগে ২০১৬ সালেও চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল দেশটি। রাশিয়া বলেছিল, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই চুক্তিটি করতে ইচ্ছুক তারা। সেই খসড়ার সঙ্গে গত নভেম্বরে পাঠানো খসড়াটির মধ্যে কোনো ভিন্নতা রয়েছে কিনা এখন সেটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। সূত্রগুলো জানায়, রাশিয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি চুক্তির যে খসড়াটি পাঠিয়েছে, সেখানে তারা শুরুতেই বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে এই বলে যে, তাদের চুক্তির এই উদ্দেশ্যটি কেবল বাণিজ্যিক লক্ষ্যে। কোনো ধরনের সামরিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে নয়। খসড়ার শুরুতেই (আর্টিকেল-১) বলা আছে, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্র সম্পর্কিত সম্পর্কের উন্নয়ন করা, দ্বিপক্ষীয় জাহাজ চলাচলে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে অবদান রাখাই এ চুক্তির লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্লু-ইকোনমি এবং মেরিটাইম বিষয়ে এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী ভারতের সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। আগ্রহ দেখাচ্ছে প্রভাবশালী যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। উপরন্তু মেরিটাইম চুক্তি স্বাক্ষরের তাগিদ রয়েছে চীনের পক্ষ থেকেও। এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ব্যাপারেও প্রস্তাব দিয়েছে চীন। বঙ্গোপসাগর ঘিরে শক্তিশালী দেশগুলোর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও সম্পর্কোন্নয়নে এই আগ্রহের বিষয়টিকে অবশ্য ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন বলে জানান সরকারের নীতিনির্ধারকরা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিব আবদুস সামাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাশিয়ার মেরিটাইম চুক্তির প্রস্তাবটি আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। আমরা মনে করি, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমুদ্র যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের চুক্তির ফলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিসীমা আরও সমৃদ্ধ হবে। রাশিয়া যে চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছে তাতে (আর্টিকেল-৮) উল্লেখ আছে, দুই দেশের মধ্যে একটি দেশের ‘ট্রান্সপোর্ট’ তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থানরত ওই দেশের জাহাজ বহরে যোগ দেওয়ার জন্য অথবা জাহাজ পরিবর্তনের জন্য অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনে ট্রানজিট সুবিধায় আরেক দেশের ‘টেরিটরি’ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। শুধু তাই নয়, এ ধরনের টেরিটরি সুবিধা নেওয়ার সময় জাহাজে অবস্থানকারী নাবিকগণ চুক্তিবদ্ধ দেশের বন্দর সংলগ্ন শহরে বিনা ভিসায় অবস্থান করতে পারবে। এমনকি এ অবস্থায় কোনো নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসাকালে তাকে/তাদের অবস্থানের সুযোগ অথবা সংশ্লিষ্ট নাবিক বা নাবিকদের অন্য কোনো দেশে নেওয়ার প্রয়োজন পড়লে সীমানা পেরুনোর সুযোগ দিতে বাধ্য থাকবে। একটি দেশের জাহাজ চুক্তিবদ্ধ অপর দেশের সীমানায় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা সমস্যায় পড়লে স্বাগতিক দেশ সব ধরনের সহায়তা দেবে। আর এ ধরনের সহায়তার সময় জাহাজ অবস্থানকালীন কোনো ধরনের শুল্ক বা সার্ভিস চার্জ বা অন্য কোনো ধরনের করারোপ করা যাবে না।


আপনার মন্তব্য

close