শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৯

জেলার রাজনীতি বরিশাল

বিশেষ নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগ, বিএনপিতে দ্বন্দ্ব

রাহাত খান, বরিশাল

বিশেষ নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগ, বিএনপিতে দ্বন্দ্ব

বরিশালে আওয়ামী লীগ এখন অনন্য উচ্চতায়। কিছু লোক বাদ দিলে প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। আর আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করছে সেরনিয়াবাত পরিবার। দলের বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। আর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ। তাঁরা পিতা-পুত্র। মূলত তাদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৬ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হন। সে পদে থাকা অবস্থায় তিনি সিটি মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। কমিটির দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেও তিনিই মহানগরের রাজনীতির নীতিনির্ধারক। মেয়র সাদিকের বাবা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বরের সম্মেলনে। এর আগে তিনি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বরিশাল-২ আসনের এমপি মো. শাহে আলম, বরিশাল-৪ আসনের এমপি পংকজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ আসনের এমপি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম নিজ নির্বাচনী এলাকায় আলাদা বলয় সৃষ্টির চেষ্টা করলেও জেলার সার্বিক রাজনীতিতে তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। অন্যদিকে মামলা-হামলায় বিধ্বস্ত বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও নেতাদের অন্তঃকলহ চরমে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে নিজ অনুসারীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ঠান্ডা লড়াই চলছে মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার ও জেলা (দক্ষিণ) সভাপতি এবায়দুল হক চানের মধ্যে। দুই নেতার দ্বন্দ্বে ইতিমধ্যে একাধিকবার সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে দুই দফা আন্দোলনে মামলায় পড়েছেন বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী। আগে যেখানে দলীয় কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির সভাপতি সরোয়ারের উপস্থিতিতে হাজারো নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণ ছিল, সেখানে এখন শতকের ওপরে উঠছে না। এ অবস্থায় নিজেদের হানাহানিতে আরও কমেছে তৃণমূল কর্মীদের অংশগ্রহণ। দলের যে কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বরিশালে পালিত হয় মাত্র ২০ হাত দূরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে আধঘণ্টা আগে-পরে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দৃশ্যমান কর্মসূচি না থাকলেও গোপনে সরব তারা। কৌশলে নতুন কর্মী তৈরি এবং পুরনো কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ-সহযোগিতা রক্ষার কারণে ফুরিয়ে যায়নি তারা। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির তেমন অবস্থান নেই বরিশালে। নেতানির্ভর এই সংগঠনে নতুন কর্মী সৃষ্টি হচ্ছে না। পুরনো কর্মীরাও নিষ্ক্রিয়। অনেকেই ভিড়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির পতাকাতলে। বরিশালে আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের নোটিসে বড় সমাবেশ করে শক্তিমত্তা দেখিয়েছে। বড় দুই দলের বাইরে একমাত্র তারাই নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে সফল সমাবেশ করার সামর্থ্য আছে। স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক ইস্যুতে রাজপথে সরব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে ভোটের মাঠে এখনো সুবিধা করে উঠতে পারেনি তারা। সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের আলোচিত নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী ব্যতিক্রমী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সম্প্রতি ভুয়া রাজাকার তালিকা বাতিল আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তার। এ ছাড়া স্থানীয় এবং জাতীয় নানা ইস্যুতে সরব থাকায় মনীষার মিছিল-সমাবেশে দিন দিন বাড়ছে জনসম্পৃক্ততা। সরকারের মিত্র জাসদের পৃথক দুটি গ্রুপের (বাংলাদেশ জাসদ ও জাসদ-ইনু) কমিটি রয়েছে বরিশালে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজপথে তাদের তেমন কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। সরকারের আরেক মিত্র ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বরিশালের বাবুগঞ্জের সন্তান হওয়ায় এ অঞ্চলে পার্টির একটা অবস্থান আছে। সব জেলা-উপজেলায় ওয়ার্কার্স পার্টির কমিটি থাকলেও ভোটের মাঠে সুবিধা করতে পারছে না তারা। কয়েক বছর ধরে গণসংহতি আন্দোলনও বরিশালের স্থানীয় নানা ইস্যুতে সরব ভূমিকা পালন করছে। বরিশালে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কমিটি থাকলেও তারা অনেকটা প্রেস রিলিজনির্ভর।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর