শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০১

জেলার রাজনীতি ভোলা

আওয়ামী লীগের দখলে মাঠ তৎপরতা নেই বিএনপির

ভোলা প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের দখলে মাঠ তৎপরতা নেই বিএনপির

প্রায় এক যুগ ধরে ভোলার রাজনৈতিক মাঠ এককভাবে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। চোখে পড়ার মতো মাঠের বিরোধী দল বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ড নেই। পুলিশি বাধায় মাঠে নামতে পারছেন না বলে তাদের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। মামলার আতঙ্কে গেল জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেকেই মাঠ ছেড়ে ঘরে উঠেছিলেন। এখনো তাদের মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। এদিকে বিরোধী দলের শত শত নেতা-কর্মী সরকারি দলে যোগ দিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করে চলছেন। তাদের কেউ বাগিয়েছেন পদ-পদবি, আবার কেউ চাকরি কিংবা ঠিকাদারি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ভোলার রাজনৈতিক মাঠ বেশ শান্তই রয়েছে। ভোলা জেলায় সংসদীয় আসন রয়েছে চারটি। অতীতে এখানে বিএনপির প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকলেও বর্তমানের চিত্র ভিন্ন। গত টানা দুটি জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-১ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) আসনে আলী আজম মুকুল, ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে সাবেক বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল জ্যাকব এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ভোলা সদর আসনে জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর বিএনপির শাসন আমলে ভোলা-২ আসনে বিএনপির হাফিজ ইব্রাহিম, ভোলা-৩ আসনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মেজর  (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ভোলা-৪ আসনে বিএনপির নাজিম উদ্দিন আলম এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত নির্বাচনে ভোলার চারটি আসনের কোনোটিতেই বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা মাঠে দাঁড়াতে পারেনি। ওই নির্বাচনের পর ভোলা সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর ছাড়া অপর তিন প্রার্থীর কেউই এলাকায় আসেন না। বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, প্রার্থীরা এলাকায় এলেই স্থানীয় নেতা-কর্মীরা হামলা মামলার শিকার হন। তাই প্রার্থীরা এলাকামুখী হন না। এদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের এখন দলীয় কার্যালয় আর আদালতের বারান্দা ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায় না। বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে তারা প্রার্থীদের এলাকায় পাচ্ছেন না। দলীয় প্রধানকে মুক্ত করার জন্য জোরালো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক নেতা-কর্মী সরকারি দলে যোগ দিয়ে পদ-পদবি কিংবা চাকির-বাকরি নিয়ে ভালোই আছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ গজনবী মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক রেদওয়ান চৌধুরী নয়ন, বোরহানউদ্দিন পৌর ছাত্রদল সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর ইবনে মাহমুদ সোহাগ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি সরোয়ার্দী হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর কবির পালোয়ান, লালমোহন যুবদলের সভাপতি ইমাম কমিশনার, পরাজগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোতাহার মৃধাসহ শতাধিক নেতা-কর্মী সরকারি দলে যোগ দিয়ে স্বার্থ হাসিল করেছেন। অপরদিকে সরকারি দলের নির্বাচিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যই প্রতি মাসে দু-চারবার করে এলাকায় আসছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের পাশে থাকছেন। স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্টসহ সব ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। বিশেষ করে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, রাস্তাঘাট পাকাকরণ এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর বিজেপি জেলা সদরে সীমিত আকারে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান পার্থ মাঝেমধ্যে এলাকায় এসে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে চরমোনাইর পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যথাযথভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা-কর্মীকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। কোথাও তাদের দলীয় কার্যালয় চোখে পড়ে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর