শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৯

জয়-পরাজয়ের ফাঁদ

মির্জা মেহেদী তমাল

জয়-পরাজয়ের ফাঁদ

গত শুক্রবার আদাবর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (নম্বর-২২) করেছেন একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর ছেলে। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত বুধবার সকালে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী তার বাবার ব্যক্তিগত গ্রামীণফোনের একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়- ‘আমি ওসি আদাবর থানা, আমি আপনার জন্য নির্বাচনে কিছু করতে পারলাম না। কিন্তু আপনার জন্য একটি পথ তৈরি করে দিই। আপনি সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০২০-এ আদাবর থানা ৩০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর প্রার্থীর কাছে ওসি পরিচয়দানকারী তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর (একটেল) থেকে প্রার্থীকে একটি বাংলালিংক নম্বর দিয়ে বলে যে- এটি ম্যাজিস্ট্রেটের নম্বর। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ওই বাংলালিংক নম্বর থেকে প্রার্থীর নম্বরে ফোন দিয়ে বলে, ‘আপনি কি সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০২০ এ জয়ী হতে চান? যদি হতে চান তা হলে আপনাকে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। নির্বাচনের আগে ৫ লাখ টাকা এবং পাস করার পর বাকি ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।’ তখন কাউন্সিলর প্রার্থী রাজি হয়ে আদাবরের সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ভাই ভাই মেডিকেল হলের বিকাশ এজেন্ট গ্রামীণ নম্বর থেকে বিকাশ করা পৃথক ১১টি একটেল নম্বরে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা (যথাক্রমে-৫৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা), দুটি এয়ারটেল নম্বরে ৬০ হাজার টাকা এবং একটি বাংলালিংক নম্বরে ৩০ হাজার টাকা বিকাশ করেন। টাকা পেয়ে ফের ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়দানকারী ব্যক্তি তার বাংলালিংক নম্বর থেকে ফের ফোন করে বলে যে ‘আপনাকে আরও ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে।’ বিষয়টি কাউন্সিলর প্রার্থী সন্দেহ হলে তিনি ওসি আদাবরকে ফোন দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বললে ওসি বলেন, ‘আমি এসব বলি নাই।’ ওসি আদাবর দ্রুত থানায় আসতে বলেন ইয়াসিন মোল্লাকে। পরে ওসির সঙ্গে কথা বলে ওই কাউন্সিলর প্রার্থী বুঝতে পারেন যে প্রতারিত হয়েছেন তিনি। নির্বাচন ঘিরেও প্রতারণার জাল বিছিয়েছে ডিজিটাল প্রতারক চক্র। ঢাকার দুই সিটিতে অংশগ্রহণকারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতে তারা সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সিম ক্লোনিং-স্পোফিং করত। তারপর টার্গেট প্রার্থীকে ‘বিশেষ ক্ষমতাবলে’ নির্বাচনে জিতিয়ে দেওয়াসহ নির্বাচনী প্রচারণায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের আভিযানিক ঝামেলামুক্ত রাখার কথা বলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। ডিজিটাল এ প্রতারক চক্রের মিথ্যা আশ্বাসের ফাঁদে পড়ে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারিত হয়েও নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে ভেবে কেউ চেপে গেছেন বিষয়টি; কেউ হয়েছেন আইনের দ্বারস্থ। এর আগেও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশের আইজি, ডিসি, ওসিদের মোবাইল নম্বর কপি তথা ক্লোন করে স্পোফিং প্রতারকরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে- যা গণমাধ্যমের কল্যাণে জানা গেছে। মোবাইল সিম ক্লোনিং প্রতারক চক্রের আশ্বাসের খপ্পরে পড়ে কিছুদিন আগে ৫ লাখ টাকা খুইয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর প্রার্থী (স্বতন্ত্র)। রাজধানীর আদাবর থানার ওসির মোবাইল সিম ক্লোনিংয়ের পর নম্বর স্পোফিং করে প্রতারণা করা হয় এ প্রার্থীর সঙ্গে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর