শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৯

অষ্টম কলাম

কলকাতায় সারা রাত বাংলা ভাষা উৎসব

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

কলকাতায় সারা রাত বাংলা ভাষা উৎসব

যথাযথ মর্যাদায় কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এ উপলক্ষে শুক্রবার কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সকালে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ করা হয়। এরপর কলকাতার ৩, সোহরাওয়ার্দী এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে একটি সুদৃশ্য প্রভাতফেরি বের হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’Ñএই ধ্বনিকে সামনে রেখে সেই প্রভাতফেরি কলকাতার পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্টে ক্রসিং-আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে। এরপর মিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে সালাম-বরকতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপহাইকমিশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র, তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ¯েœহাশিস সুর প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ট্যুইট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লেখেন ‘আজ অমর ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলাজুড়ে পালিত হচ্ছে ভাষা শহীদ দিবস। এই ঐতিহাসিক দিনে বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের মাতৃভাষাসহ আমরা সব ভাষাকেই ভালোবাসি।’ বিশেষ এই দিনটিকে মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহুকুমাগুলোতেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে ‘অমর একুশে’। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় সারারাত অনুষ্ঠান করছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া একাডেমি অব ফাইন আর্টস’এর সামনে রাণুছায়া মঞ্চে শুরু হয় সারারাত বাংলা ভাষা উৎসব। শুক্রবার ভোরে প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। রাত ১২টায় হয় মশাল মিছিল। রাত ১২.১০ মিনিটে বাংলাদেশের ঢাকার শহীদ মিনারের ফুল দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানো হয়। এ ছাড়াও উৎসবে যোগ দেন বাংলাদেশ, আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা।

শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক ময়দানে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন  শিলিগুড়ির মেয়র তথা সিপিআইএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহম্মদ আনোয়ার সম্রাট সে দেশের ১৫ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে পৌষ মেলার মাঠ থেকে বাংলাদেশ ভবন পর্যন্ত একটি পদযাত্রা বের হয়। তাতে শামিল হন বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের হিলির উজ্জীবন সোসাইটি এবং বাংলাদেশের হিলির মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্তের যৌথ উদ্যোগে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য দিয়ে অমর একুশে পালন করা হয়।


আপনার মন্তব্য