শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪১

প্রকাশনায় কাব্যগ্রন্থ এগিয়ে থাকলেও বিক্রিতে হতাশা

মোস্তফা মতিহার

প্রকাশনায় কাব্যগ্রন্থ এগিয়ে থাকলেও বিক্রিতে হতাশা

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গেলবারের মতো এবারও প্রকাশনায় এগিয়ে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু বিক্রিতে রয়েছে হতাশা। প্রকাশকরা এজন্য দারুণ হতাশ। গতকাল এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবারও সর্বাধিক প্রকাশিত হয়েছে কাব্যগ্রন্থ। গতকাল মেলার ২২তম দিন পর্যন্ত কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে ১ হাজার ১৯৮টি। 

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় এ পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ৩ হাজার ৮৩৮টি। এর মধ্যে শুধু কবিতার বইয়ের সংখ্যাই ১ হাজার ১৯৮টি। অর্থাৎ মোট প্রকাশনার এক-তৃতীয়াংশই কাব্যগ্রন্থ। পুরনো কবিদের পাশাপাশি নতুন নতুন কবির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তবে প্রকাশকরা বলছেন, প্রকাশনায় এগিয়ে থাকলেও বিক্রিতে পিছিয়ে রয়েছে কবিতার বই। হাতে গোনা কয়েকজন প্রথিতযশা কবির কাব্যগ্রন্থ ছাড়া অন্য লেখকদের কবিতার বই চলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রকাশক জানান, ‘শুধু নতুন কবিদের বই-ই নয়, পুরনো অনেক কবির বইয়ের বিক্রিও হতাশাজনক। শখের বশে কবিতা লিখে অনেকেই কাব্যগ্রন্থের মধ্য দিয়ে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে প্রকাশকদের দ্বারস্থ হন। আর প্রকাশকরাও নানা কারণে ভিন্ন উপায়ে এসব বই প্রকাশ করে থাকেন। যার কারণে কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনার সংখ্যা বরাবরের মতো এবারের মেলায়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের কবি ও তাদের কবিতা নিয়ে সুধীজন ও পাঠকদের মনে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি করবে।’ কবিতার বইয়ের চাহিদা শুধু ভালোবাসা দিবসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক। তবে আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান, মহাদেব সাহা, সৈয়দ শামসুল হক, রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শহীদ কাদরী, রফিক আজাদ, হেলাল হাফিজ প্রমুখ কবিদের পুরনো কাব্যগ্রন্থগুলো খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানান প্রকাশকরা। এবারের মেলায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে শব্দশৈলী প্রকাশিত হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা’। আরও রয়েছে প্রিয়বাংলা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘বিপ্লব বসত করে ঘরে’ অক্ষর প্রকাশনী থেকে ‘নির্বাচিত ৩০০ কবিতা’ টাঙ্গন প্রকাশ থেকে বিমল গুহের দ্বিতীয় বৃত্ত, অনন্যা থেকে মহাদেব সাহার দুটি কাব্যগ্রন্থ ‘চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি’ ও ‘তোমার পায়ের শব্দ’, আনিসুল হকের কবিতাসমগ্র, জোনাকী প্রকাশনী এনেছে জয়িতা শিল্পীর রক্ত ধারায় বঙ্গবন্ধু, আগামী প্রকাশনী প্রকাশ করেছে জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন, অন্যধারা প্রকাশ করেছে সা’দাত হোসাইনের তোমাকে দেখার অসুখ, অন্যপ্রকাশ প্রকাশ করেছে শিহাব শাহরিয়ারের ‘অদৃশ্য গুচ্ছ’ এবং হক ফারুক আহমেদের ‘মেঘদরিয়ার মাঝি’ ও নওশাদ জামিলের ‘প্রার্থনার মত একা’ বায়ান্ন প্রকাশনী থেকে এসেছে মারজুক রাসেলের কবিতার বই ‘দেহবণ্টন বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’। এ ছাড়া অনেক অসংখ্য নবীন কবির কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে এবারের মেলায়। গতকাল ২২তম দিনে মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচন করা হয় বিকাল ৩টায় আর যথারীতি মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।

তোফায়েল আহমেদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন : প্রকাশনা সংস্থা জার্নিম্যান বুকস প্রকাশ করেছে সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ রচিত ‘রক্তঝরা মার্চ ১৯৭১ : অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা’ শিরোনামের বই। একাত্তরের উত্তাল মার্চের বিভিন্ন ঘটনা অবলম্বনে বইটি রচনা করেছেন সাবেক এই মন্ত্রী। গতকাল বিকালে প্রকাশনা সংস্থা জার্নিম্যান বুকসের প্যাভিলিয়নের সামনে বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রসঙ্গে অনুভূতি প্রকাশ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণসহ ’৭১-এর মার্চের নানা ঐতিহাসিক ঘটনাকে বইটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই বইটির মাধ্যমে আমাদের ইতিহাসের দলিলকে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। ’৭১-এর ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান এক বেতার ভাষণে ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন একতরফাভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা করেন। এমন নানা ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সংযুক্ত হয়েছে গ্রন্থটিতে।  তবে এ বইটি আমি নিজে লিখিনি। আমার বলা কথার ভিত্তিতে শ্রুতিলিখন করেছেন দুজন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এ সময় মুনতাসীর মামুন বলেন, ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির এই দিনেই এক জনসভায় তোফায়েল আহমেদই শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে পথ চলেছেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার প্রমুখ। 

মাসরুর আরেফিনের উপন্যাস ‘আলথুসার’ : ‘দমন-পীড়নমূলক রাষ্ট্রযন্ত্র’ তত্ত্বের জনক লুই আলথুসারের স্লিপওয়াকের বাসা দেখতে লন্ডনে হাজির এই উপন্যাসের নায়ক। এই স্লিপওয়াকই ছিল আলথুসারের নিজ হাতে স্ত্রী হত্যার কারণ। তারা বলছে, এই নিপীড়নবাদী দুনিয়া বদলাতে হবে, না হলে পৃথিবী টিকবে আর মাত্র বারো বছর। নায়ক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল জীবনানন্দ দাশের ধানসিঁড়ি নদীকে, তাঁর রূপসী বাংলাকে বাঁচানোর। চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি আর ভাষার ব্যবহারে দক্ষ এই কথাশিল্পীর ‘আলথুসার’ প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশনী। মূল্য ৬৫০ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায় প্রথমা প্যাভিলিয়নে। 

মূলমঞ্চ : গতকাল বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মুর্শিদা বিন্তে রহমান রচিত ‘স্বাধীনতার পথে বঙ্গবন্ধু : পরিপ্রেক্ষিত ১৯৭০-এর নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন মুস্তাফিজ শফি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আলোচনায় অংশ নেন আখতার হুসেন, মাহবুব সাদিক এবং আলম খোরশেদ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর