শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৫

ভোটার টানা নিয়ে চিন্তায় ইসি

গোলাম রাব্বানী

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন ও পাঁচ উপনির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া এই ছয় নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীর পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি নিয়ে চিন্তায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার উপস্থিতির বিষয়টাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। আসছে ২১ মার্চের তিন উপনির্বাচন এবং ২৯ মার্চের চট্টগ্রাম সিটিসহ দুই উপ-নির্বাচনের ভোটে ভোটাররা আসবেন কি না- তা নিয়ে যেমন রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা, তেমনি কৌতূহল রয়েছে নির্বাচন কমিশনেও। যদিও ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সকাল ৯টায় ভোট শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া কেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে আসন্ন সব নির্বাচনে এজেন্টের উপস্থিতির রেকর্ড সংরক্ষণ করবে কমিশন। এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনাও জারি করেছে ইসি। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনোভাবেই প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু না করেন, সেই বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুপুর ২টা আগে এবং রাত ৮টার পরে কোনোভাবেই প্রার্থীরা মাইকে প্রচার করতে পারবেন না। দলীয় প্রার্থীরা নিজ দলের ‘প্রধান’ ছাড়া অন্য কারও ছবি পোস্টার-লিফলেটে ব্যবহার করতে পারবেন না।  চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় ইসি সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি ও শূন্য ঘোষিত বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ সকাল ৮টার পরিবর্তে ৯টায় শুরু করা হবে। কেননা ভোটাররা ৮টায় ঘুম থেকে ওঠেন না। এ জন্য ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটগ্রহণ সকাল ৯টা থেকে ৫টা করা হয়েছে। সকালে ভোট হলে ভোটার উপস্থিতি কম দেখি। এটা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে, এ জন্য কমিশন ভোট শুরুর সময় ৮টার পরিবর্তে ৯টা করেছে বলেও জানান তিনি। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম সিটি ও পাঁচ উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। চট্টগ্রাম সিটি ও ঢাকা-১০ আসনে ইসি শতভাগ ইভিএমে ভোট নেবে। এজন্য যত বেশি ট্রেনিং, ডেম স্টেশন করতে পারবে তত ভোটারদের মধ্যে কনফিডেন্স তৈরি হবে। তখন তারা দলে দলে ভোট দিতে যাবে। সব মিলে ব্যাপকভাবে ইভিএমের প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।

ইসির কর্মকর্তাদের মতে, বিগত ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম হওয়ায় চট্টগ্রাম ও পাঁচ উপনির্বাচনে কত শতাংশ ভোটার আসবে তা নিয়ে কমিশন টেনশনে আছে। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় ভোট নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি ইসির প্রতি আস্থাহীনতার বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। তাই নির্বাচন কমিশন আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি, ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।


আপনার মন্তব্য