শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৩

থমকে গেছে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ

শ্রমিকরা গ্রামে । কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেললাইন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বন্ধ পুরোপুরি । মেট্রোরেলের কাজ চলছে সীমিত আকারে । শুধু পদ্মা সেতুতে আছে গতি

নিজামুল হক বিপুল

থমকে গেছে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ছোবলে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও থমকে গেছে জীবনযাত্রা। থমকে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সব উন্নয়ন কর্মকা-ও। বিশেষ করে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর প্রায় সব কটির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। নির্মাণ শ্রমিকরা চলে গেছেন গ্রামে। এর মধ্যে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে পুরোপুরি। যদিও মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলছে সীমিত আকারে। আর পদ্মা সেতুর কাজ এখনো বেশ গতিতেই চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সূত্রে এবং প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০২২ সালের শুরুতেই চালু হওয়ার কথা দেশের প্রথম মেট্রোরেল লাইন-৬। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে রাজধানীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতেই কাজ চলছিল মেট্রোরেল নির্মাণের। কিন্তু সেই কর্মযজ্ঞে হঠাৎ করেই কালো মেঘের ছায়া নেমে এসেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশ অঘোষিত লকডাউনে চলে যাওয়ায় কাজ সীমিত করে ফেলেছেন প্রকল্প- সংশ্লিষ্টরা। এখন আর মাঠের কাজ অর্থাৎ বহু শ্রমিকের অংশগ্রহণে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে যে কাজ হচ্ছিল সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে কাজের গতিও কমে গেছে। তবে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, আমাদের কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই আমাদের কাজ সীমিত আকারে চলছে। এখন শ্রমিকরা কাজ করতে পারছে না। তবে আমরা হোম অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে কাজ করছি। বিশেষ করে বিদেশিরা হোম অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে কাজ করছেন। এখন মেট্রো লাইন-১ এর নকশার কাজ চলছে। এটি ঘরে বসেই করা যায়। বিদেশিরা সেই কাজ করছেন। এ ছাড়া আমরা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে বসে অনেক কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। এর মধ্যে লাইন-৬ এর প্যাকেজ ৭ ও ৮ এর কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। আর্চার ক্লক কীভাবে, কোথায় কোথায় স্থাপন হবে সেগুলো চূড়ান্ত করছি। ডিজিটাল ঘড়ি বসানোর কাজও একইভাবে করা হচ্ছে। এভাবে যেসব কাজ হোম অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে করা যায় সেগুলো করে ফেলছি। শুধু শ্রমিকদের অংশগ্রহণে যেসব কাজ সেগুলো হচ্ছে না। তিনি জানান, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভিডিও কলে জরুরি মিটিংগুলোও বাসায় বসেই করা হচ্ছে।

তবে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের পরিচালক হারুনর রশীদ চৌধুরী গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, প্রথম দুই দিন সীমিত আকারে কিছু কাজ চললেও এরপর থেকে পুরোপুরি কাজ বন্ধ রয়েছে। এখন আল্লাহ যদি দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে তবেই সংকট কেটে গেলে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৫১ শতাংশ।

চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজও থেমে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর প্রথম দুই দিন শ্রমিকরা কাজ করেছিলেন। কিন্তু পরে আর কোনো কাজ করা যায়নি। শ্রমিকরা সবাই চলে গেছেন। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, দেশীয় শ্রমিকরা চলে গেছেন। আর বিদেশি শ্রমিকরা ঘরে আছেন। তারা শুধু নকশার কাজ করছেন। আর সব রকম কাজ একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এই প্রকল্পের এখন পর্যন্ত ৩৯ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্যোগ দীর্ঘায়িত না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২০২২ সালের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে আশা করছি।

রাজধানীর কাওলা থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এই প্রকল্পের কাজও থমকে গেছে। চীনের উহানে করোনাভাইরাস আক্রমণের পর থেকেই এই প্রকল্পের কাজের গতি কমতে শুরু করে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক এ এইচ এম শাখাওয়াত আকতার। তিনি জানান, এই প্রকল্পের জন্য টাকা-পয়সার সব চুক্তিই হয়ে গিয়েছিল। শুধু চীন থেকে টাকা ছাড় করার বাকি ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেই অর্থছাড় বিলম্বিত হয়। তার পরও কাজ চলছে। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে এখন পুরোপুরি বন্ধ অবস্থা দীর্ঘায়িত না হলে আমরা আবারও কাজ শুরু করব এবং যে সময় নষ্ট হচ্ছে সেটি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রথম ভাগে ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ভাগ খুলে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

কাজ চলমান পদ্মা সেতু প্রকল্পের : এটি হচ্ছে সরকারের মেগা প্রকল্পের অন্যতম। এই প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। কিছুটা গতি কমলেও দেশি-বিদেশি শ্রমিকরা প্রকল্প এলাকায় থাকার কারণে নির্মাণ কাজ এখনো অব্যাহত আছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাধারণ ছুটি বেশি দীর্ঘায়িত না হলে পদ্মা সেতুর কাজে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এই মেগা প্রকল্পের কাজের গতি আগের তুলনায় কিছুটা হলেও কমেছে।


আপনার মন্তব্য