শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৪৮

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফায় ভ্যাকসিনের পরীক্ষা

দেশে দেশে প্রচেষ্টা অব্যাহত

প্রতিদিন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফায় ভ্যাকসিনের পরীক্ষা

করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় মানব শরীরে ভ্যাকসিন পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ওষুধ এবং ভ্যাকসিন তৈরি করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগও হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইনোভিও গত সোমবার করোনার একটি ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়াতে এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ করা হয়েছে। ইনোভিও বলছে, এর মাধ্যমে ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। ইনোভিওর এই ভ্যাকসিন নিয়ে মার্কিন বিজ্ঞানীরা করোনার দুটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালালেন। ইনোভিওর একজন মুখপাত্র বলেছেন, চলতি বছরের গ্রীষ্মের শেষের দিকে এই ভ্যাকসিনটির ফেইজ-১ ট্রায়াল সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি সেই সময় মিসৌরি, কানসাস সিটি এবং ফিলাডেলফিয়ার ৪০ জন সুস্থ এবং প্রাপ্ত বয়স্ক স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফেইজ-১ ট্রায়ালের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং যাদের শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে; তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাক্সিক্ষত সাড়া দিচ্ছে কিনা সেটি জানা। তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য আরও বেশি সংখ্যক মানুষের শরীরে এর প্রয়োগ করা দরকার বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এর ফলে চূড়ান্ত ভ্যাকসিন পেতে আরও দীর্ঘ কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. পাবলো টেবাস বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক এই গবেষণাকে এফডিএর দ্রুত তালিকাভুক্তির প্রত্যাশা করছি। এই ভ্যাকসিনটি যারা  তৈরি করেছেন; তাদের মধ্যে মহামারী থেকে মানুষকে রক্ষা করার একটি প্রবল আকুতি আছে। যত দ্রুত সম্ভব তারা এই ভ্যাকসিনটি সফল প্রমাণ করতে চান।’

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের অপর একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে মডার্না। গত মার্চে মার্কিন এই বায়োটেক কোম্পানি ভ্যাকসিনটির প্রথম ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। ইনোভিওর ভ্যাকসিনটি জিনগত উপাদান থেকে তৈরি করা হয়েছে। ইনোভিও এই ভ্যাকসিনের নাম দিয়েছে আইএনও-৪৮০০; যা ডিএনএ থেকে তৈরিকৃত। করোনার এই ভ্যাকসিনটি তৈরিতে অর্থায়ন করেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের বিল গেটসের দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন।

মুখে খাওয়ার ওষুধ তৈরি : মার্কিন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, তারা গবেষণাগারে করোনাভাইরাসের একটি ওষুধ বানিয়ে এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক মার্কিন সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা  গেছে, পরীক্ষিত ওই ওষুধ মুখে খাওয়া যাবে। ওষুধটিকে গবেষকরা বলছেন, ‘ইআইডিডি-২৮০১’- এটি মূলত সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের উচ্চ সংখ্যায় পুনরুৎপাদন এবং সংক্রমণে বাধা সৃষ্টি করে। গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’ সাময়িকীতে। সায়েন্টিফিক আমেরিকানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওষুধটি টেস্টটিউবে মানুষের ফুসফুসের কোষের প্রতিলিপিতে করোনাভাইরাস বিস্তারে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছে। ইঁদুরের ওপরও এটি প্রয়োগ করে সফলতা  পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এতে ইঁদুরের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত করোনাভাইরাসকে পুনরুৎপাদনে বেশ কিছু দিন বাধা দেওয়ার এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকরা বলছেন, তাদের তৈরি ওষুধটি এখনো মানুষের দেহে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। তবে এর প্রভাব যদি মানুষের  ক্ষেত্রেও একই রকম হয়, তবে কোভিড-১৯ মহামারীর  ক্ষেত্রে এটাই হবে প্রথম বড়ি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখে খাওয়ার ওষুধ বা বড়ি হিসেবে করোনার ওষুধ  পেলে তা আশীর্বাদ হবে। কারণ, শিরায় ইনজেকশন  দেওয়ার চেয়ে বেশি লোককে ওষুধ দেওয়া সহজ হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর