বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা

প্রশাসন নয়, সংকট সমাধানে সবাইকে নিয়ে উদ্যোগ নিন

-খালেকুজ্জামান

প্রশাসন নয়, সংকট সমাধানে সবাইকে নিয়ে উদ্যোগ নিন

শুধু প্রশাসননির্ভরতা দিয়ে মহামারী করোনাভাইরাস সংকট সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই ভয়াবহ জাতীয় দুর্যোগ সরকার একা মোকাবিলা করতে পারবে না। এটা হয়তো শতভাগ মোকাবিলাও করা যাবে না। তারপরও যত বেশি সম্ভব মানুষকে সেবা দিয়ে ক্ষতি কমিয়ে আনতে হবে। তাই এই সংকট সমাধানে সকল শ্রেণি-পেশার সবাইকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খালেকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, আমরা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলাম জাতীয় দুর্যোগ জাতীয়ভাবে মোকাবিলা করুন। সরকার তাতে সাড়া না দিয়ে একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে। এ দুর্যোগ সঠিকভাবে মোকাবিলা না করতে পারলে ক্ষতি বেশি হবে। ইতিমধ্যে ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতিও দেখছি। এই বাম নেতা মনে করেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংকট আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনে আরও বেশি হবে। তখন মানুষ লকডাউন মানবে না। কিন্তু এখনো সময় আছে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। পরে এটাও হাতে না থাকতে পারে। এখনো দেশে পর্যাপ্ত করোনা রোগীর পরীক্ষা নেই। আবার করোনাবহির্ভূত রোগীরাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। হাসপাতালগুলোতে তাদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। খালেকুজ্জামান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রোজাকে সামনে রেখে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে বাজারে দ্রব্যমূল্য হু হু করে বেড়ে চলেছে। করোনা সংক্রমণের জন্য সাধারণ ছুটি, পরিবহন বন্ধ থাকায় সরবরাহ চেইন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এতে উৎপাদক কৃষক ও সবজি চাষি তাদের ফসলের দাম পাচ্ছেন না। কিন্তু রাজধানীসহ সারা দেশে ক্রেতাসাধারণকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম। ইতিমধ্যে বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মসুর ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কর্মহীন, রোজগারহীন সাধারণ মানুষ। তার মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এ সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ এবং ভোগ্যপণ্য সরবরাহ চেইন সচল রাখতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়িয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মজুদদার-মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেটের হোতাদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।