শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মে, ২০২০ ২৩:৪৩

ইমিউনিটির কারণে জীবন রক্ষা খেটে খাওয়াদের

বিপাকে রোগাক্রান্ত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) মজবুত হওয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও প্রাণে বেঁচে যাচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বিপাকে পড়েছেন আগে থেকেই  ডায়াবেটিস, কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা। এর মধ্যে অনেকের বাড়িতে, অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করায় ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে করোনাভাইরাস। জনস্বাস্থ্যবিদ আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, লকডাউন তুলে দিয়ে জনগণকে সচেতন হতে বলা হচ্ছে। কাজে বের হতে হচ্ছে মানুষকে। শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল হলে করোনাভাইরাস কাবু করে ফেলছে তাদের। অনেকের অবস্থার অবনতি হচ্ছে আগে থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকার কারণে। এ সময় নিয়মিত ব্যায়াম করা, শরীরে ইমিউনিটি বাড়ে এমন পুষ্টিযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গত ১২ মে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন রংপুরের ধানকাটা শ্রমিক ফরহাদ হোসেন। কুমিল্লায় এক বিদেশফেরত ব্যক্তির বাড়িতে ধানকাটতে গিয়েছিলেন তিনি। পরে ওই প্রবাসীর সংস্পর্শে যাওয়া সবাইকে পরীক্ষা করে কয়েকজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলে। ফরহাদসহ তিনজন ধানকাটা শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের শরীরে কোনো ধরনের উপসর্গ ছিল না। আট দিন পরেই তাদের করোনা নেগেটিভ আসে। এ ব্যাপারে ভাইরাস বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, সবার শরীরের ইমিউনিটি এক রকম নয়। তাদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। তারা বয়সে তরুণ ও শরীরে অন্য কোনো জটিলতা নেই। ওই শ্রমিকরা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন। তাদের ইমিউনিটি সিস্টেম মজবুত হওয়ায় করোনা তাদের কাবু করতে পারেনি। টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন খলিল মিয়া। তার স্বজন জানান, আক্রান্ত হওয়ার পরে খলিল মিয়া জমির পাশে একটি ঘরে থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে রাখতে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। বয়স ৬০ ছুঁইছুঁই হলেও শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। সময় কাটাতে তিনি ভোরে উঠে নিজের জমিতে কাজ করতেন ও রান্না করে খেতেন। কোনো ধরনের জটিলতা না থাকায় ওষুধ খাওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি। জমির টাটকা শাক, সবজি খেয়ে তিনি ১৪ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। করোনায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্তরা। করোনায় কাবু হয়ে পড়েছেন তারা। অনেকে করোনা আক্রান্ত না হলেও ভয়ের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। যাদের বয়স বেশি তারা আরও ঝুঁকিতে রয়েছেন। শারীরিক পরিশ্রম করেন না এমন মানুষের ঝুঁকি বেড়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস কক্ষ, বাসা, গাড়িতে করোনাভাইরাস দীর্ঘ সময় জীবিত থাকে। তাই এসব ব্যবহারকারীর ঝুঁকিও বেড়েছে। শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেমকে হারিয়ে দিয়ে জিতে যাচ্ছে করোনা। ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে। শরীরের মাংসপেশি এবং হৃদযন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। একই সঙ্গে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছবে। তখন শরীরের কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে। প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। তিনি আরও বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে, গাড়িতে করোনাভাইরাস অনুকূল পরিবেশ পায়। এ সময় জীবাণুমুক্ত থাকতে সতর্ক থাকতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর