শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ আগস্ট, ২০২০ ২৩:৫২

যখন সন্ধ্যা নামে কর্ণফুলীর মোহনায়

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

যখন সন্ধ্যা নামে কর্ণফুলীর মোহনায়

কর্ণফুলী নদী নানামাতৃক কারণে দেশের নদ-নদীর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে সংস্কৃতি ও নৈসর্গিক প্রকৃতির কারণে এ নদীর রয়েছে বিশ্বজুড়ে সুখ্যাতি। বিশেষ করে রাতের কর্ণফুলী নদী ও নদীর মোহনা এক ভিন্ন রং, ভিন্ন রূপ নিয়ে হাজির নিসর্গপ্রেমীদের কাছে। যেন কোনো এক দক্ষ চিত্রশিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ভেসে ওঠে আলো আর ছয়ার মূর্ত-বিমূর্ত রূপ।

সন্ধ্যাশেষে রাতের আঁধার নেমে আসতে না আসতেই এ সৌন্দর্য আরও দৃশ্যমান হতে থাকে, হতে থাকে আরও নান্দনিক। সন্ধ্যার পর কর্ণফুলী নদী ও নদীর মোহনায় যখন হাজার হাজার লাইটার জাহাজ ও ছোট-বড় জলযানে বাতি জ্বলে ওঠে এবং নদীর দক্ষিণপাড়ে দেশের অন্যতম ইউরিয়া সারকারখানা (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানির (কাফকো) চূড়ায় আলো জ্বলে ওঠে, তখন দিনের সৌন্দর্য লুপ্ত হয়ে নতুন বিভায় দেখা দেয় এ নদী। দেশের ঐতিহ্যবাহী সাম্পানের সঙ্গে মিশে আছে যে নদী, যে নদীকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য কালজয়ী লোকসংগীত এবং মিথ, সে নদীর রাতের দৃশ্য সত্যিই মুগ্ধ করে ভ্রমণপিপাসু এবং সৌন্দর্য পিয়াসীদের। কর্ণফুলী নদীর রাতের সৌন্দর্যটা যেন অন্য এক জগতে নিয়ে যায় তাদের, অপলক তাকিয়ে থাকতে বলে বর্ণিল আলোছায়ার ওই ক্যানভাসে। এদিকে রাতভর কর্ণফুলীতে দেশি-বিদেশি জাহাজ চলাচল করে ভেঁপু বাজিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরের হাজার বছরের ঐতিহ্য মিশে আছে এ নদীর সঙ্গে। নদীতীরে আছে জাহাজ-কেন্দ্রিক নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কিনারে জেগে থাকে এক ঐতিহ্যবাহী নগরী। সার্চলাইট জ্বালিয়ে সশব্দে ছুটে চলা জাহাজের সঙ্গে এগিয়ে যায় মাছধরা ট্রলারগুলো, চলে ইঞ্জিনচালিত নৌকাও। কিন্তু এরই মাঝে আবার নীরবে পানির ভিতরে বৈঠা ডুবিয়ে গন্তব্যে এগিয়ে যায় ছোট নৌকাগুলো। এসবের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক ভিন্নমাত্রার রঙের খেলা। দিনের কর্ণফুলীকে দেখে সেটা কল্পনা করাও হয়তো কারও পক্ষে সম্ভব নয়। নদীর মোহনায় নেভাল একাডেমি সংলগ্ন সড়কবাঁধে প্রতিদিন শত-সহস্র মানুষ সন্ধ্যার পর ভিড় করেন রাতের কর্ণফুলীর সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য। এ সময় কেউ ছুটে যান মোটরসাইকেলে করে, কেউ যান প্রাইভেটকারে কিংবা আরও দামি বাহনে চড়ে। কিন্তু মোহনায় মিলিত হয়ে সবাই হয়ে যান একই কাতারের। পরিচয়ও একটাই- সৌন্দর্য পিয়াসী বা প্রকৃতিপ্রেমী। এভাবে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত নির্দ্বিধায় অবস্থান করা যায় মোহনায়। কেউ কেউ মধ্যরাত অবধি কাটিয়ে থাকেন মোহনার মৃদুমন্দ বাতাস ও নদীর ছলাত ছলাত ঢেউ আর জাহাজবাতির অপরূপ রূপের সঙ্গে মিতালী করে।


আপনার মন্তব্য