শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৪

সারা দেশে বেহাল সড়ক

বন্যা ও বন্যা পরবর্তী দুর্ভোগ, ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন, ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে দ্বিগুণ সময়, বাড়ছে ভাড়া, প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে বেহাল সড়ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝুঁকি নিয়ে সড়কে যানবাহন চলছে (বামে)। জামালপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক -বাংলাদেশ প্রতিদিন

সারা দেশেই সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। আন্তজেলা পর্যায়ের সড়কগুলোর অবস্থা আরও করুণ। চলমান বন্যা ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে সড়কগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না যানবাহন। খানাখন্দে ভরা সড়ক-মহাসড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেই। ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। বাড়ছে দুর্ঘটনা। কোথাও কোথাও চলতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ভাড়াও বাড়ছে। বর্ধিত ভাড়ার কারণে প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। সড়কের এ বেহাল দশার কারণে একদিকে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের চড়া দামে খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বাগেরহাট : দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর মোংলায় সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কটির (এন-৭) দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা। বাগেরহাট সড়ক বিভাগ বলছে, তাদের অংশে ৫ কিলোমিটার যানবাহন চলার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ১৯৮৪ সালে দুই লেনের এ মহাসড়কটি নির্মিত হওয়ার পর এখনো প্রশস্ত করা হয়নি। এ কারণে মোংলা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্য আনা-নেওয়ায় তীব্র সমস্যা হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়কটি ভেঙে ১০ কিলোমিটার অংশ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুততম সময়ে কাঁচামাল আনতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। বাড়ছে পণ্য পরিবহন খরচ। অন্যদিকে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের দশানী-রামপাল-মোংলা ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়কটিরও বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পিচঢালা সড়ক যেন গ্রামের মেঠোপথে পরিণত হয়েছে। ভোলা : ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে, চলতি বর্ষায় অতি জোয়ার ও বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় ভোলার শতাধিক গ্রামীণ পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের অধিকাংশই খানাখন্দে ভরা। যানবাহন চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। দ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। জানা যায়, সদর উপজেলার ইলিশা, বাপ্তা, রাজাপুরের বেশ কয়েকটি সড়ক জোয়ারের পানির তোড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই অবস্থা জেলার অন্য ছয় উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোরও। অধিকাংশ সড়কে বড় বড় গর্ত। বর্ষায় পানি জমে থাকে। কোথাও পিচ সরে গিয়ে যানবাহন চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কবে সড়কগুলো সংস্কার করা হবে তাও জানেন না এলাকাবাসী। এদিকে কন্দকপুর, চর মোহাম্মদ আলী, বাহাদুরপুর, মেদুয়া- এ চার গ্রামের চলাচলের একটি সড়ক জনতাবাজার থেকে চর মোহাম্মদ আলী। এর পুরো রাস্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে রাস্তা ভেঙে গেছে। সেখানে সড়কের ওপর গাছ দিয়ে স্থানীয়রা দুটি সাঁকো নির্মাণ করে নিয়েছেন। ওই সড়ক এখন যানবাহন চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বগুড়া : বগুড়া পৌরসভায় ৪৫০ কিলোমিটার পাকা সড়কের অধিকাংশই এখন ক্ষতবিক্ষত, খানাখন্দে ভরা। ফলে চরম দুর্ভোগ-ভোগান্তিতে ভুগছেন সেখানকার মানুষ। আবার সড়কের ওপর যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। করা হয় ইচ্ছেমতো পার্কিং। পৌরসভাসূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার ২৬৬ কিলোমিটার সড়কের বড় অংশ এখন ভাঙাচোরা। পৌর এলাকার হাকির মোড়, মালতিনগর নামাপাড়া, ভাটকান্দি ব্রিজ রোড, উত্তর ভাটকান্দি, চেলোপাড়া টু চন্দনবাইশা সড়ক, কালীতলা, করোনেশন স্কুল সড়ক, উপশহর, ধরমপুর সড়ক, জাহেদ মেটাল মোড়, জহরুল নগর, নুরানী মোড়, বাদুড়তলা, পিটিআই মোড়-বকশীবাজার, নিশিন্দারা সড়ক, কামারগাড়ী-হাড্ডিপট্টি, চামড়াগুদাম লেন সড়ক, কারমাইকেল সড়ক খানাখন্দে ভরা। সড়কের পাশের ড্রেনও নষ্ট হয়ে পড়েছে। এ পথ দিয়ে যানবাহন চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পথচারীরা যানবাহনে চলতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হন। পৌর শহরের থানা মোড় থেকে কাঁঠালতলা হয়ে ফতেহ আলী ব্রিজ পর্যন্ত সড়েকের অবস্থা শোচনীয়। কাঁঠালতলা থেকে বড়গোলা পর্যন্ত ৩ নম্বর রেলগেট পার হয়ে সড়কটি ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। কাঁঠালতলায় সড়কের ওপর বাজার বসায় এবং ময়লা-আবর্জনার স্তূপ করে রাখায় পথচারীদের বছরজুড়েই যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর-মফিজ মোড় আঞ্চলিক সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার বেহাল দশা। প্রতি মুহূর্তে ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কটির বিভিন্ন স্থানের পিচ-পাথর উঠে যাওয়ায় পরিণত হয়েছে গর্তে। জানা গেছে, ভাঙা রাস্তার ওপর দিয়ে ট্রাক, ট্রলি, নসিমন, করিমন, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবহন যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটছে। পণ্যবোঝাই যানবাহন রাস্তার গর্তে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও চালকরা। দুই বছর পার হলেও এ রাস্তাটি সংস্কার করছে না বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় বরই বাজার হওয়ায় শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বরই ব্যবসায়ী, বরইবোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন এ রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে। ফলে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া রাস্তাটি অতি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। চুয়াডাঙ্গা : জেলার অন্তত চারটি সড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা নাজুক। এর ফলে এসব সড়কে চলাচলকারীরা প্রতিদিনই নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঘটছে দুর্ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। তিন বছর ধরে এসব সড়কে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সরোজগঞ্জ থেকে হিজলগাড়ী বাজার পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কটি খুবই নাজুক। ডিঙ্গেদহ বাজার থেকে হিজলগাড়ী বাজারের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। এ পথেও অনেক স্থানে রয়েছে খানাখন্দ ও গর্ত। এ এলাকার মানুষদের চুয়াডাঙ্গা শহরে আসতে হলে ভাঙাচোরা এ রাস্তাটি ব্যবহার করেই চলাচল করতে হয়। অন্যদিকে হিজলগাড়ী বাজার থেকে উথলি পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রাস্তাটিও প্রায় তিন বছর ধরে ভাঙা। আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর মোড় থেকে আসমানখালী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তাও ভাঙা। কুমিল্লা : দীর্ঘদিনেও সংস্কার হয়নি কুমিল্লার দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সংযোগ সড়কগুলো। এর মধ্যে ফতেহাবাদ-দুলালপুর, এগারগ্রাম-বালিনা, মুগসাইর-বেড়াখলা সড়ক এখনো পাকা হয়নি। বাকিগুলো পাকা হলেও অবস্থা নাজুক। বেড়াখলা-দুলালপুর সড়ক যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেখানে ইট ফেলে রাস্তা মেরামত করা হলেও অধিকাংশ ইট উঠে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফতেহাবাদ-দুলালপুর সড়কটিতে একটি ইটের কণাও পড়েনি। একই অবস্থা এগারগ্রাম-বালিনা ও মুগসাইর-বেড়াখলা সড়কের। রাস্তাগুলোয় কাদা থাকে বছরজুড়ে। বেহাল সড়কগুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা। তারা বলছেন, মনে হচ্ছে এ সড়কগুলোর মা-বাপ নেই। এদিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশায় যাত্রীদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সড়কের গর্তগুলো দিন দিন বড় হচ্ছে। একটু বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে পরিণত হচ্ছে পুকুরে। গর্তে গাড়ি আটকে প্রায় সময় সড়ক অচল হয়ে যাচ্ছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরসহ অন্য জেলার যাত্রীরা। দ্রুত সংস্কার করা না হলে আবার সড়কটি যে কোনো সময় অচল হয়ে পড়তে পারে। বেশি খারাপ অবস্থা বাগমারা বাজার, লাকসাম মিশ্রি ও বাইপাসের দক্ষিণাংশে। এ ছাড়া লালমাই, হরিশ্চর, লাকসাম উত্তর বাইপাস, খিলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, সোনাইমুড়ী, বেগমগঞ্জ থানা এলাকাসহ মাইজদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙা রয়েছে। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লাকসামের দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস ও লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার। এখানেই সড়কে খানাখন্দের জন্য বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। দিনাজপুর : শহরের লিলিমোড় থেকে বালুয়াডাঙ্গা হয়ে কাঞ্চন ব্রিজ রোডে প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের ইট, পিচ ও খোয়া উঠে কোথাও ছোট কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ডায়াবেটিক হাসপাতাল মোড় দিয়ে নাজমা কিন্ডারগার্টেন স্কুল হয়ে চক্ষু হাসপাতাল মোড় হয়ে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত পৌনে ১ কিলোমিটার সড়ক চলার অবস্থায় নেই। শেখ ফরিদপুর কবরস্থান থেকে বড়পুর সড়কের যেখানে-সেখানে খানাখন্দে ভরা, যেন দেখার কেউ নেই। শহরের পাটুয়াপাড়া ঈদগাহ মাঠের মোড় থেকে রামনগর মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটির করুণ অবস্থা। এ ছাড়া চক্ষু হাসপাতাল থেকে পুলহাট, শহরের ব্র্যাক কার্যালয়, উকিলবাড়ী এবং ড্রইং স্কুলের সামনের সড়কটিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাটি নিচু করে নির্মাণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি বলে জানান স্থানীয়রা। আবার একটু বৃষ্টি হলেই রামনগর চামড়াপট্টি মোড়টি পানিতে ডুবে যায়। রামনগর-বাঙ্গীবেচা রোডের মামুনের মোড় থেকে লালঘর মোড় পর্যন্ত সড়কটিও বেহাল। ইকবাল উচ্চবিদ্যালয় থেকে পাহারপুর মোড় পর্যন্ত স্থানে স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে।

ফেনী : ফেনী-সোনাইমুড়ি আঞ্চলিক সড়কের ফেনী অংশের তেমুহনী থেকে গনিপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের বেহাল দশা। প্রায় ৪ লাখ মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই অনুপযোগী সড়কটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়। সড়কের অনেক জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। পুরো সড়কের বেশির ভাগ অংশে পিচ পাথর উঠে গিয়ে সুরকি-বালু বেরিয়ে এসেছে। সড়কটির তেমুহনী থেকে বোর্ড অফিস পর্যন্ত বড় বড় গর্ত হয়ে ডোবায় পরিণত হয়েছে। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে প্রায় সময় কোনো না কোনো যানবাহন সড়কেই বিকল হয়ে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন পরিবহনের যন্ত্রাংশ। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লাখ লাখ যাত্রী ও চালকদের। টানা বৃষ্টি, উজানের অব্যাহত পানির প্রবাহ ও নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করায় এই হাল। সড়কে খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। ফেনীর পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ঝুঁকি নিয়েই বাধ্য হয়ে এ সড়কটি ব্যবহার করছেন। তেমুহনী থেকে বিরলী, রাজাপুর, সিন্দুরপুর, অলাতলী, দরবেশের হাট, গাজীরহাট, কানকির হাট হয়ে সোনাইমুড়ি পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। জামালপুর : বন্যার তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জামালপুরবাসী। বছরের পর বছর বন্যায় ভেঙে যাওয়া সড়কগুলো মেরামত করা হয় না। এবার বন্যা চলে গেলেও সড়কজুড়ে রেখে গেছে ক্ষতচিহ্ন। এ বছরের বন্যায় জামালপুর জেলায় কাঁচা ১৯৪ কিলোমিটার এবং পাকা সড়ক ৬৬ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া চারটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং পাঁচটি ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে গেছে। বিশেষ করে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের আমতলি, বলিয়াদহ, ডেবরাইপ্যাঁচ, মাহমুদপুর সড়কের কয়েক কিলোমিটার বন্যায় ভেঙে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইসলামপুরের সঙ্গে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের সড়ক যোগাযোগে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঝিনাইদহ : জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি মহাসড়কসহ অধিকাংশ সংযোগ সড়কের বেহাল দশা। ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যে লাউদিয়া, চুটলিয়া, তেঁতুলতলা, বিষয়খালী, কয়ারগাছি, ছালাভরা, বেজপাড়া, খয়েরতলা, নিমতলা বাসস্ট্যান্ড,  মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিটুমিন আর পাথর উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝিনাইদহের গাড়াগঞ্জ-কুষ্টিয়া মহাসড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেলা-উপজেলার সড়কগুলো বর্ষা মৌসুমে নাজুক হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের মধ্যে কালীগঞ্জ থেকে ডাকবাংলা পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শৈলকুপা বাজার হয়ে নাঙ্গলবাঁধ বাজার পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার, দত্তনগর-জিন্নানগর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থাও খুব খারাপ। জয়পুরহাট : চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৭ মে কার্যাদেশ পাওয়া জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের ১৮ কিলোমিটার উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজ গত বছর ২৬ আগস্ট সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২৫ মাস, অর্থাৎ এ বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২৭ মাসে কাজটির অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫৬ ভাগ। অথচ উন্নয়নের জন্য কাজের শুরু থেকে সড়কটির কার্পেটিং তুলে সময়মতো কাজ শেষ না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন বিকল হচ্ছে অসংখ্য যানবাহন। জয়পুরহাট রেলগেট থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার রাস্তার কাজও শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছর আগস্টের মধ্যে। কিন্তু তা না করে রাস্তার পাশে গাছ কেটে পুরনো কার্পেটিং তুলে নতুন করে বালু, খোয়া ও পাথর ফেলা হয়েছে। এই সড়কটির উপরিভাগের ইটের খোয়া ও পাথরগুলো রোলার না করায় বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সড়কের কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া জয়পুরহাট-হিলি সড়কের প্রশস্তকরণ এবং উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বন্যার স্রোতে সড়কগুলো ভেঙে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের শত শত বাসিন্দাকে। কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ, ঢালজোড়া, সূত্রাপুর, চাঁপাইর, মৌচাক, মধ্যপাড়া, বোয়ালী, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এখানকার লাখ লাখ মানুষ। তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি কমে এখনো অনেক সড়ক পানির নিচে থাকলেও ধীরে ধীরে জেগে উঠছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি প্রধান আঞ্চলিক সড়ক। খুলনা : সংস্কারের অভাবে খুলনার অধিকাংশ সড়কই খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কে কার্পেটিং উঠে কয়েকটি স্থানে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে চলাচলে ভোগান্তিসহ এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। খুলনা নগরীর ব্যস্ততম সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এম এ বারী লিংক রোড, আবু নাসের হাসপাতাল রোড, মুজগুন্নি সড়ক, রূপসা স্ট্যান্ড-শিপইয়ার্ড সড়ক ও সামছুর রহমান রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তির মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে জয়বাংলার মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কে কার্পেটিং ও ইট উঠে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বিভিন্ন অংশে পানি জমে রীতিমতো ডোবায় পরিণত হয়েছে। ভাঙা সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কুষ্টিয়া : ভেড়ামারা-জুনিয়াদহ সড়ক কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মানুষের কাছে অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। ২০ কিলোমিটার  দৈর্ঘ্যরে এ সড়ক সংস্কার হয় না ৫ বছর। গত বছর বর্ষাকালে সড়ক সংস্কারের দাবিতে স্থানীয়রা রাস্তায় ধান রোপণ করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর পর রাস্তার অবস্থা আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। যে রাস্তায় যাতায়াতে ৩০ মিনিট সময় লাগার কথা এখন সেখানে লাগছে দেড় ঘণ্টা। বৃষ্টির কারণে রাস্তার খানাখন্দ এখন চৌবাচ্চার আকার ধারণ করেছে। মালবাহী গাড়ি ভাঙা রাস্তার কারণে যততত্র উল্টে পড়ে থাকছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন এলাকার মানুষ। এরপরও কাজের প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে মানুষ। এদিকে প্রায় ৮ মাস আগে সড়কটি সংস্কারে দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেও কাজ শুরু হয়নি। চলতি বর্ষা মৌসুম শেষ না হলেও কাজ শুরু করা যাবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। লাকসাম (কুমিল্লা) : নাঙ্গলকোটের ঘোড়াময়দান জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু ভেঙে পড়ার তিন বছরেও সংস্কার হয়নি। এতে বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সেতুটি দিয়ে মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক্টর, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সেতুটির মাঝখান বরাবর বিশাল একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এ ছাড়া লাকসামের হারাখাল-কৃষ্ণপুর সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটিতে জলাবদ্ধতা এবং খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের আংশিক পাকা হলেও বেশির ভাগ এখনো কাঁচা। এতে কাদায় একাকার ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বেশির ভাগ অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যেন ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। মানিকগঞ্জ : হেমায়েতপুর ভায়া মানিকগঞ্জ-ঝিটকা-পাটুরিয়া যাওয়ার রাস্তাটি  সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই   পৌরসভার  আন্ধারমানিক এলাকা সড়কটি পানিতে ডুবে যায়। কাদা পানিতে এখানে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে বোঝার উপায় থাকে না এটি রাস্তা না জলাশয়। শহরের কালীগঙ্গা সেতুর দক্ষিণ পশ্চিমে আন্ধারমানিক এলাকার ক্ষতবিক্ষত রাস্তাটি পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শত শত যানবাহন চলাচল করে। মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এ রাস্তায় চলাচলকারীদের। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে। প্রতিদিন  ঘটে  ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ময়মনসিংহ : চলতি বর্ষায় খানাখন্দে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ময়মনসিংহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কগুলো। শহরতলির অনেক সড়কও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে এখন চলাচলের অনুপযোগী অনেক সড়ক। এরপরও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হালকা থেকে ভারী যানবাহন চলছে এসব সড়কে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অসুস্থ ব্যক্তিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা যায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা থেকে ধোবাউড়া পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়কের ১৭ কিলোমিটারই বেহাল। রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সড়কটি উন্নয়নে একাধিকবার দরপত্র দেওয়া হলেও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে দুবার কার্যাদেশ বাতিল করে এলজিইডি। অন্যদিকে তারাকান্দা থেকে ধোবাউড়া উপজেলার সংযোগ বওলার সুতারপাড় ৫০০ মিটার সড়ক এমনই বেহাল যে প্রতিদিনই মালবাহী ট্রাক পিকআপ সড়কের ওপর আটকে যাচ্ছে। হালকা যানবাহনও এই পথে চলতে গলদগর্ম হচ্ছে। চলতি বর্ষায় সড়কটি এমন হয়েছে যে, পায়ে হেঁটেও পার হওয়া যায় না। ফলে তারাকান্দা থেকে ধোবাউড়া উপজেলায় যেতে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। নান্দাইল উপজেলার অনেক সড়কেও দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে পিচ, সুরকি উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। মুশুল্লী চৌরাস্তা-কালীগঞ্জ বাজারের প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের এমন বেহাল দশা। বেহাল অংশের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ পথে চলাচলকারীদের। গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর থেকে শ্যামগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কটির প্রায় ২ কিলোমিটার চলাচলের অনুপযোগী। সড়কটির শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিং, গৌরীপুর সড়কের মোড়, ধানমহাল, ইটাখলা মোড় ও মইলাকান্দা এলাকা পর্যন্ত অন্তত ১০টি স্থানে বড় গর্ত। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। নওগাঁ : জেলার মহাদেবপুর উপজেলা শহর বর্তমানে এক অবহেলিত জনপদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট বেহাল। পিচ-খোয়া উঠে প্রধান প্রধান স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। পথচারী ও গাড়ির যাত্রীদের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুই লেন সড়ক ও শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো শহরবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। উপজেলা সদরের ঘোষপাড়া মোড় থেকে মাসুদ ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত কার্পেটিং উঠে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে এ সড়কে চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং সিএনজি-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সড়ক। উপজেলা সদরের নতুন হাটের মোড় থেকে আখেড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের জায়গায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ : জেলার পঞ্চবটিতে অবস্থিত বিসিক হোসিয়ারি শিল্প নগরীতে রয়েছে ৬৫০টি গার্মেন্ট কারখানা। বিসিক শিল্পনগরীর সেই লাখ লাখ শ্রমিককে গার্মেন্টে আসতে হয় পানির নিচে ডুবে থাকা রাস্তা দিয়ে। বর্ষায় এ রাস্তার ওপর থাকে হাঁটুপানি। আর যখন বৃষ্টি থাকে না তখনো এ রাস্তার ওপর পানি জমে থাকে। রয়েছে ড্রেনের গর্ত। ফলে প্রতিনিয়ত এখানে ঘটছে দুর্ঘটনা। বিসিক শিল্পনগরী-সংলগ্ন খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে এ পরিস্থিতি। বিসিক হোসিয়ারি শিল্পনগরীর বিভিন্ন গার্মেন্টের শ্রমিক পপি, বুবলি বেগম, নিয়াজ, রোকসানা জানান, জলাবদ্ধ এ পানি দিয়ে যাওয়া-আসা করায় তারা চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। রাস্তার ওপরে মানুষের মলও থাকে। বাধ্য হয়ে এ পানি মাড়িয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় বিভিন্ন উপজেলার সংযোগ সড়কগুলো সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদাররা। সেই সঙ্গে যেটুকু কাজ করা হয়েছে সেখানে ব্যবহৃত ইট, বালু, পাথর ও বিটুমিনের মান ভালো নয় বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের। ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ তাদের। এম এ এইচ, রানা বিল্ডার্স, ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন ও তানভীর কনস্ট্রাকশন এসব কাজ করছে। অন্যদিকে ঠাকুরোকোন কলমাকান্দা সড়কটি যেন মানুষের জীবনে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে- এমন অভিযোগ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের। জেলা সুজনের সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল জানান, নি¤œমানের কাজের কারণে এমন দশা হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো নজরদারি না থাকায় ঠিকাদাররা মানহীন কাজ করে চলে যাচ্ছেন। রাজবাড়ী : বালিয়াকান্দি উপজেলায় বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বালিয়াকান্দি থেকে সোনাপুর সড়কের বেশির ভাগ অংশ এবং বালিয়াকান্দি-মৃগী সড়কের বালিয়াকান্দি থেকে নারুয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের সবচেয়ে বেশি খানাখন্দে ভরা। বেশির ভাগ জায়গার পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ব্যাটারিচালিত গাড়িগুলোর চলাচল করা চরম কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাজশাহী : রাজশাহীর হরিয়ান থেকে দুর্গাপুরের ১৫ কিলোমিটার রাস্তাটি এখন ভয়ঙ্কর খানাখন্দে ভরা। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করার কারণে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে পুরো রাস্তা। শুধু এই রাস্তাটি নয়, জেলার বায়া থেকে তানোর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়কেরও একই অবস্থা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই রাস্তাটি সংস্কারকাজেও নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে রাজশাহী-তানোর যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় খানাখন্দে ইট-খোয়া ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। কিন্তু সেটিও হয়নি। ফলে দুর্ভোগও কাটেনি পথচারীদের। হরিয়ান থেকে দুর্গাপুর প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তাটির কোথাও কোথাও রাস্তার একাংশ ভেঙে পাশে পুকুরের মধ্যে চলে গেছে। কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও এবার গোটা বর্ষায় হাঁটুপানি জমে আছে। এর মধ্যে প্রতিদিন লাখো মানুুষকে চলাচল করতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। রাস্তার হরিয়ান থেকে চৌপুখরিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। সখীপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একমাত্র সংযোগ সড়ক সখীপুর টু সিডিস্টোর। কয়েক মাস ধরে এ সড়কের সখীপুর থেকে বাটাজোর পর্যন্ত ৯.২২ কিলোমিটার জুড়ে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে থাকে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার পথযাত্রী। প্রতিদিনই মালবাহী ট্রাক, পিকআপ অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছে। জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই সখীপুর টু সিডিস্টোর সড়কের গর্তগুলো ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়। এ কারণে সিএনজি, অটোরিকশা, পিকআপ, ট্রাক, এমনকি মোটরসাইকেল নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। এদিকে স্থানীয় পোলট্রি খামারি ও অন্য ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে সখীপুর থেকে কালিদাস ৫.৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ১২ ফুট প্রশস্ত সড়কের শৌখিন মোড় এলাকা যেন মরণফাঁদ। সীমাহীন দুর্ভোগে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন পথচারীরা। এ সড়কের শৌখিন মোড় এলাকায় ৫০০ মিটার জুড়ে বড় কয়েকটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সখীপুর-ভালুকা দুই উপজেলার সংযোগ সড়কের সখীপুর অংশের মাত্র ১৪০০ মিটার কাঁচা সড়কের জন্যই বেড়েছে দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টি হলেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এ এলাকার কয়েক হাজার মানুষের। শরীয়তপুর : শরীয়তপুরে বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়কের দশা একরকম বেহাল। গ্রামীণ সড়কসহ আঞ্চলিক মহাসড়কের রাস্তাঘাট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বালুর বস্তা ও ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছে সড়ক বিভাগ। তবে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মেরামতের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি এলজিইডি। বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে গেছে গ্রামীণ সড়কগুলো। টাঙ্গাইল : বন্যায় জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলার ৩২৮টি রাস্তা ও ৭৩টি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে ২৬৬ কোটি ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার কারণে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলার যোগাযোগ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এতে করে মানুষ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তা ও কালভার্টগুলো পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া কালিগঞ্জ সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে তীব্র যানজট লেগে থাকে। এসব কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে শিলমুন, মরকুন, মধুমিতা, আরিচপুর, পাগাড়, আউচপাড়া, বনমালা, দত্তাপাড়া, সাতাইশ, মুদাফা, গাজীপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার অবস্থা করুণ। টঙ্গী-বনমালা সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এই রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ার বনমালা হয়ে গাজীপুরগামী বাইপাস সড়কটির সুফল পাচ্ছেন না পথচারীরা। বনমালা রেললাইন পার হওয়ার পর হায়দরাবাদ ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর