শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৬

গাঙচিল বাহিনীর প্রধান গ্রেফতার

পুলিশ-র‌্যাব হত্যা, অস্ত্র লুটসহ একাধিক মামলার আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার আমিনবাজার এলাকা থেকে কুখ্যাত গাঙচিল বাহিনীর প্রধান সালাউদ্দিন ওরফে এমপি সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় তার দুই সহযোগী আকিদুল ও আসাদকেও গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আমিনবাজারের সালেহপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, ১৯০ গ্রাম হেরোইন, ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব বলছে, সাভার থানার এসআই হত্যা, দুই র‌্যাব সদস্যকে হত্যা ও পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্র লুটসহ একাধিক খুন, অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি সালাউদ্দিন। র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক জানান, ২০০০ সাল থেকে সাভার আমিনবাজার ও তার আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনার মধ্য দিয়ে উত্থান হয় গাঙচিল বাহিনীর। যার প্রধান ছিলেন আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার। বেশির ভাগ সময় পানিবেষ্টিত এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করায় এর নাম দেওয়া হয় গাঙচিল বাহিনী। ২০১৭ সালে আনারের মৃত্যুর পর তার সহযোগী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে এলাকায় আবারও সন্ত্রাসী কর্মকা- শুরু হয়। এ বাহিনী মূলত আমিনবাজার, গাবতলী, ভাকুর্তা, কাউন্দিয়া, বেড়িবাঁধ, কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে আসছিল। গাঙচিল বাহিনী ২০০২ সালে সাভার থানার একজন এসআইকে হত্যা, ২০০৭ সালে দুজন র‌্যাব সদস্যকে হত্যা, দিয়াবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্র লুট এবং আমিনবাজার এলাকায় নৌ-টহল দলের অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ বাহিনী তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর বালুভর্তি ট্রলার, ইটের কার্গোতে ডাকাতি ও আমিনবাজার এলাকার শতাধিক ইটভাটা থেকে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করত। এ ছাড়া এলাকার প্রভাবশালীদের টার্গেট করে গাঙচিল বাহিনীর সদস্যরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করত। চাঁদাবাজি, খুন, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ তুরাগ আর বুড়িগঙ্গা নদীর দুই ধারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার ছিল এই বাহিনীর প্রধান কাজ।

র‌্যাব-৪ এর প্রধান মোজাম্মেল হক আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা সব সময় নদী ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাদের কর্মকা- পরিচালনা করত। এ ছাড়া বেশির ভাগ সময় নদীপথে যাতায়াত করে। তাদের যাতায়াতের বাহন ছিল ডাবল ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। সাভার-আমিনবাজার এলাকার বিভিন্ন ইটভাটার মালিক ও তুরাগ-বুড়িগঙ্গা নদীতে চলাচলকারী বালুভর্তি ট্রলার মালিকের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করত গাঙচিল বাহিনী। এই বাহিনীকে ধরতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। গাঙচিল বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে আগে সাভার মডেল থানায় খুন, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মারামারির একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন। এই বাহিনীর সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর