শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:১৩

ডিজিটাল সেবায় বদলে যাচ্ছে গ্রাম

৫ হাজার ৮৬৫ ডিজিটাল সেন্টার থেকে ২০০ ধরনের সেবা নিচ্ছে গ্রামের মানুষ

শামীম আহমেদ

ডিজিটাল সেবায় বদলে যাচ্ছে গ্রাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মনু মোহন বাপ্পা। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরের বসনইল গ্রামে। লকডাউনের ছুটিতে বসে না থেকে গ্রামে গিয়ে ‘রেইনবো ম্যাঙ্গো স্টেশন’ নামে ফেসবুক পেজ খুলে শুরু করেন আমের ব্যবসা। লকডাউনে দেশের অধিকাংশ মানুষ যখন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন, বাপ্পার পকেটে তখন দৈনিক ঢুকতে শুরু করে হাজার হাজার টাকা। বর্তমানে আমের মৌসুম না থাকায় ফেসবুকে পৃথক দুটি পেজের মাধ্যমে বিক্রি করছেন তৈরি পোশাক ও খাদ্যপণ্য। রাজশাহীতে পড়ালেখার পাশাপাশি অনলাইনে এই ব্যবসা দুটি চালিয়ে ছাত্রজীবনেই উদ্যোক্তা হয়েছেন বাপ্পা। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন আরও অনেকের। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা আমার অনেক আগে থেকেই। যেহেতু অনলাইনে ব্যবসা করা অনেক সহজ, দোকান ভাড়া করতে হয় না, যে কোনো স্থান থেকে এটা করা যায়, তাই ছাত্রজীবন থেকেই শুরু করে দিয়েছি। বর্তমানে ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করছি, শিগগিরই ওয়েবসাইট চালু করব। ওয়েবসাইট থাকলে লেনদেনটা সহজ হয়। শুধু বাপ্পা নয়, গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে যাওয়ায় আজ ঘরে ঘরে তৈরি হয়েছে উদ্যোক্তা। সংসার সামলানোর পাশাপাশি অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা করে অনুকরণীয় সফল উদ্যোক্তা বনে গেছেন রাজধানীর ফারহানা ইয়াসমিন মুক্তা। খুলনার সাথী রহমান বিউটি পারলার খুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে রাতারাতি হয়েছেন জনপ্রিয়। লকডাউনে কলেজ বন্ধ হওয়ায় মার্চের শেষে ঢাকার হোস্টেল ছেড়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সোনাখালী গ্রামে বাবা-মায়ের কাছে চলে যান আফিফা শিকদার। তখন থেকে মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজধানী ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করা মায়ের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলছেন জুয়েল। নিচ্ছেন খোঁজ-খবর। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যখন প্রয়োজন তখনই মায়ের কাছে পাঠাচ্ছেন টাকা। একইসঙ্গে প্রত্যন্ত গ্রামে বসে অনলাইনেই মিলছে চিকিৎসা, কেনাকাটা থেকে শুরু করে দুই শতাধিক সরকারি সেবা। সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুফল আজ শহর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে প্রান্তিক গ্রাম পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। যার নিজের কম্পিউটার বা মোবাইল নেই তাকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে সরকার সারা দেশে গড়ে তুলেছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারা দেশের ৪ হাজার ৫০০টি ইউনিয়ন, ৩২৯টি পৌরসভা, সিটি করপোরেশনগুলোর ওয়ার্ড ও দেশের বাইরের কিছু নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টার থেকে মানুষ সেবা পাচ্ছে। এই সেন্টারগুলো থেকে প্রতি মাসে সেবা নিচ্ছেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ, যার অধিকাংশই গ্রামের। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম পূরণ, অনলাইনে চাকরির আবেদন, পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া, ভিসা যাচাই, বিদ্যুৎ বিল প্রদান, পাসপোর্টের ফরম পূরণসহ প্রায় দুইশ সেবা পাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্য দিয়ে এ স্বপ্নের যাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয় থেকে এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্বোধন করেন। যদিও এটি শুধু ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বর্তমানে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং গার্মেন্ট কর্মীদের জন্য স্পেশালাইজড ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। উন্নয়নের পথপরিক্রমায় এখন প্রান্তিক মানুষের নাগরিক সেবার আস্থার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে এটি। সূত্র জানায়, ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য সব সেবা ডিজিটাল প্লাটফরমে এনে সেবাপ্রাপ্তির বিষয়টি সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করা। ইতিমধ্যে ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাল করায় গ্রামের মানুষটিও ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে বা ঘরে বসে নিজের কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করে নামজারি করতে পারছেন। শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্র পৌঁছে গেছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। এতে যার হাতেই একটি মোবাইল আছে, তিনি টাকা জমানো, টাকা পাঠানো বা দূরের কারও কাছ থেকে টাকা আনতে পারছেন সহজে। সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা পৌঁছে যাচ্ছে মোবাইলে। কৃষক গ্রাম থেকে একটি ফোনকলে ঢাকার বাজারের কৃষিপণ্যের দর জানতে পারছে। একাধিক পাইকারি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছেন। চিকিৎসা সেবায়ও এসেছে ডিজিটাল ছোঁয়া। ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে ২৪ ঘণ্টা দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারছেন জনগণ। শুধু করোনার কয়েক মাসেই ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে চিকিৎসা পরামর্শ নিয়েছেন সারা দেশের এক কোটি ২৩ লাখের বেশি মানুষ। টেলিমেডিসিন সেবা চালুর ফলে গ্রামের মানুষটিরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেলিমেডিসিন সেবা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যে কোনো বিপদ বা সমস্যায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেই মিলছে জরুরি সেবা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের সার্বক্ষণিক পরামর্শে গত ১১ বছরে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাত একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। শহরের সব সুবিধা গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। আজ মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। মোবাইলের মাধ্যমে গ্রামেও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। ১০ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মোবাইলে আর্থিক সেবা, রাইড শেয়ারিং, ই-কমার্স, বাস-ট্রেন-বিমানের টিকিট ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি সেবা মিলছে। জমির ই-পর্চা, মিউটেশন, পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ভিসা আবেদন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ই-চালান, পেনশনভাতাসহ নানা সেবা মিলছে অনলাইনে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সব রোডম্যাপে সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর পরামর্শে ২০২৫ সালের মধ্যে ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের দুই হাজার ৮০০ সেবা ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তথ্য-প্রযুক্তি সেবার আওতায় আনতে সারা দেশে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের চিন্তাটা তারই। এখন পাঁচ হাজার ৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টার থেকে ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। নয় শতাধিক সেবা অনলাইনে আছে।

তিনি বলেন, ৩৮৫টি ভূমি অফিস ডিজিটালাইজড করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম একটি অঙ্গীকার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। অর্থাৎ, শহরের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় এনেছি। বাকি ৭০০ ইউনিয়নে ২০২১ সালের মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ দেওয়া হবে।

আইসিটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আরও ৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপিত হচ্ছে। ৩০০ নির্বাচনী আসনে স্কুল অব ফিউচার করা হবে। আইসিটি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৫ হাজার ৮৬৫টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে প্রায় ১১ হাজার তরুণের কর্মসংস্থান হয়েছে। গ্রামে বসেই তারা উদ্যোক্তা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার তৈরি হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ার এই কর্মযজ্ঞকে গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে যেতে করোনাকালেও অনলাইনে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ প্রজেক্টের আওতায় ৫০ হাজার যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। পাঁচ হাজার জন অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জন শুরু করেছে। এটাকে স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করতে মন্ত্রণালয় সারা দেশে ১৯টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন শুরু করেছে। স্বাস্থ্য খাতে একটা বড় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয়। এখন আইসিটি ডিভিশন থেকে ২৫টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে টেলিমেডিসিন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যাতে গ্রামের মানুষ স্বল্প খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে এখনো টেলিমেডিসিন সেবা সেই অর্থে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য হয়নি। তবে গত ছয় মাসে ৩৩৩ ও ১৬২৬৩ হটলাইনে যেভাবে মানুষ ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে তা বিস্ময়কর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা টেলিমেডিসিন সেন্টারে ২৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক করোনা রোগীদের স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতেন। সেখানে ৯০ হাজারের বেশি রোগী সেবা নিয়েছেন। ডিজিটালাইজেশনের সুফল এখন গ্রামের কৃষকও পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আড়াইশ এগ্রিকালচার ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপিত হয়েছে। সেখান থেকে গ্রামের কৃষকরা বিভিন্ন কৃষি তথ্য পাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি কলসেন্টার থেকেও তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ধান-চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে এখন অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা নাম নিবন্ধন করছে। পরে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই করা হচ্ছে। এতে কৃষক ফসলের দামটাও বেশি পাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে ২০টি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে ৬৪ জেলাতেই এটা বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল ন্যায্যমূল্যে দ্রুত সংগ্রহ করা যায়। এ ছাড়া কৃষিকে ডিজিটালাইজড করতে ১০০টা গ্রামে ‘ডিজিটাল ভিলেজ’ নামে পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ১০০ গ্রামে ৫০ হাজার কৃষককে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। সেই ফলাফলের ভিত্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কৃষি ও মৎস্য খাতকে ডিজিটালাইজড করা হবে।

গ্রাম পর্যন্ত ডিজিটাল সেবা পৌঁছে গেছে উল্লেখ করে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এবার করোনার সময় প্রধানমন্ত্রী ৫০ লাখ অসহায় পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজে আড়াই হাজার টাকা করে দিয়েছেন। ১০ লাখের বেশি গার্মেন্ট শ্রমিককে বেতন দেওয়া হলো একই পদ্ধতিতে। পরিচয় নামের গেটওয়ে ব্যবহার করে সঠিক মানুষকে শনাক্ত করে গ্রাম পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে যাচ্ছে খুব সহজে। তিনি বলেন, আমরা উপজেলা পর্যন্ত ১৮ হাজার অফিসকে ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের আওতায় এনেছি। ফলে লকডাউনের সময়ও দাফতরিক কার্যক্রম চালু রাখতে পেরেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য আরও ১ লাখ ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠানকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের আওতায় আনা। এখানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পোস্ট অফিস, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সব থাকবে। আমাদের লক্ষ্য, ৫ বছরের মধ্যে একটা কাগজহীন অফিস কার্যক্রমে যাওয়া, যাতে কাগজের বোঝা বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য একেবারেই না থাকে। আমরা ভার্চুয়াল কোর্টকে পূর্ণাঙ্গ বিচার পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি। যাতে মামলার জন্য গ্রামের মানুষকে শহর পর্যন্ত ছুটে আসতে হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর