শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:১৬

দুই মাস পরে জাগল রাস্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই মাস পরে জাগল রাস্তা
মিরপুর উত্তর বিশিল এলাকার এ রাস্তায় জুলাই-আগস্টেও ছিল হাঁটুপানি। এখন পানি শুকালেও ময়লার ভাগাড় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দোকানের সামনে হাঁটু পানি থাকায় দেড়-দুই মাস বন্ধ উত্তর বিশিল এলাকার লামিয়া আক্তার তাজনুর ফার্নিচারের দোকান। প্রায় দুই মাস পানিতে ডুবে ছিল এই দোকানের সামনের রাস্তা। এখন রাস্তা জেগে ওঠলেও সব দোকান খোলা শুরু হয়নি। বিভিন্ন দোকানের সামনে এখন রয়েছে স্যুয়ারেজ লাইনের নোংরা বর্জ্যরে ভাগাড়। কবে এই রাস্তার ময়লা পরিষ্কার হবে, আর কবে দোকান খুলতে পারবেন তা জানেন না এই দোকানি। এদিকে প্রায় দুই মাসের জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে ছিল মিরপুরের উত্তর বিশিল এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজি করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। অভিযোগ উঠেছে, বাঁশের সাঁকো বসিয়ে দিনে অন্তত লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন তারা। গত দুই মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। সরেমজিন ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। উত্তর বিশিল এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানান, উত্তর বিশিল এলাকার বেহাল দশা। বর্ষা হলেই রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়িতে পানি ওঠে। হাঁটুপানি জমে রাস্তায়। টানা বর্ষায় এক থেকে দেড় মাসও বন্ধ থাকে ওই এলাকার দোকান। জুলাই-আগস্ট মাসজুড়েই ওই এলাকার একটি রাস্তা পানির নিচে ছিল। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পানি নামতে শুরু করে। তবে রাস্তায় এখনো ময়লার ভাগড়া রয়েছে। স্কেভেটর দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে।

এদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, অবৈধ স্থাপনার কারণেই এই এলাকার পানি নামতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। নতুন করে কাজ শুরু করা হয়েছে। রাস্তাগুলোও ৩০ ফিট করা হবে। সব কাজ ঠিকঠাক হলে এই এলাকায় আর পানি জমবে না। ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, মিরপুরের উত্তর বিশিল এলাকার এই সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে জমে ছিল বৃষ্টি আর স্যুয়ারেজ লাইনের নোংরা পানি। চলাচলের জন্য বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাঁদাবাজি করেছেন। উত্তর বিশিলের এই সড়কের প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দাদের ঝুঁঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। এই মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে পানি নেমেছে। গত ৩০ আগস্টও এই রাস্তা দেখলে খাল মনে হতো। দীর্ঘদিন ধরে স্যুয়ারেজ লাইনের নোংরা পানি জমে থাকার কারণে এখনো অনেক দোকান বন্ধ রয়েছে, যে কয়টা খোলা আছে তাদের সামনেও বর্জ্যরে ভাগাড় রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কাসেম মোল্লা (আকাশ) বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই সমস্যাটা ১০ বছর আগের। বিশেষ করে ১০/১২ বছরে ওই এলাকায় অনেক অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। ফলে পানি নিষ্কাসনের পথ বন্ধ হয়। রাস্তা যেখানে ৩০ ফিট হওয়ার কথা, সেখানে ১৮/২০ রয়েছে। এ ছাড়া এবারে বন্যার কারণে নদীর পানি বেশি ছিল। ফলে নদীর পানি এলাকায় ঢুুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডে কিছুটা গাফিলতির কারণেও এই জলাবদ্ধতা হয়। তিনি বলেন, পানি জমে থাকার আরও কিছু কারণ আছে। এর মধ্যে অবৈধ স্থাপনার কারণে এই এলাকার পানি নামতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। নতুন করে কাজ শুরু করা হয়েছে। রাস্তাগুলোও ৩০ ফিট করা হবে। সিটি করপোরেশন নতুন করে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আশা করছি, কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে ওই এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর