শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৪০

অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস

আনিস রহমান

অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস

প্রতিটি বাড়ির রং হবে জাতীয় পতাকার রং লাল-সবুজের সমন্বয়ে। বাড়ির আয়তনও হবে একই সমান। দুটি বেড রুম, বারান্দাসহ একতলা বিশিষ্ট প্রতিটি বাড়িতে থাকবে আলাদা বাথরুম, টিউবওয়েল এবং গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালনের জন্য পৃথক সেড। ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব জমিতে এই বাড়ি নির্মাণ করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এলজিইডি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি উপজেলায় ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৭ কোটি ৯৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, এই আবাসন বরাদ্দের জন্য অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ-প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী ও সন্তান আবেদন করতে পারবেন। বীরাঙ্গনাদের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো যাচাই-বাচাই ছাড়াই আবেদনটি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যাচাই-বাচাই শেষে সরাসরি তাদের বিপরীতে আবাসন বরাদ্দ দেবে। সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব মনোনীত করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এই কমিটির কাজ এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় এক শ্রেণির দালালের উদ্ভব ঘটেছে। তারা বাড়ি পেতে সহায়তা করার নামে অনেক মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। ‘বরাদ্দপ্রাপ্ত আবাসনের ব্যবহারে’ শীর্ষক কলামে উল্লেখ করা হয়েছে বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীকে বরাদ্দপ্রাপ্ত বাড়িটি শুধু নিজের বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করবেন মর্মে চুক্তিপর্বে অঙ্গীকার করতে হবে। এই বাড়িটি কোনোভাবেই বিক্রি বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। নির্মিত বাড়িটির মূল অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন পরিবর্ধন বা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা যাবে না। বাড়িটি সংস্কার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী নিজ খরচে বহন করবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে তার নাম ঠিক করা হয়েছে ‘বীর নিবাস’। এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে নির্মাণ করা হবে প্রায় ১৬ হাজার বাড়ি। প্রতিটি বাড়ি হবে ৯৮০ বর্গ ফুটের। চার ডেসিমাল জমিতে ৯০০ বর্গফুট আয়তনের এক একটি ভবনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শেষে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। অসহায় এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও প্রায় ১৬ হাজার বাসস্থান নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম ফেইজে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বসবাসের জন্য ২ হাজার ৯৬১টি আবাসন নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। যার নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শেষ হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর