শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:৩০

ফয়জুল-মামুনুলের গ্রেফতার দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ

১ ডিসেম্বর সারা দেশে মানববন্ধন ও সমাবেশ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের গ্রেফতারসহ সাত দফা দাবিতে গতকাল রাজধানীর শাহবাগে এক ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কর্মসূচি থেকে আগামী ১ ডিসেম্বর সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিকালে শাহবাগ মোড় আটকিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে শাহবাগ মোড়ে আসে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এতে অংশ নেয় সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও নায়ায়ণগঞ্জ শাখার হাজার হাজার নেতা-কর্মী। বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। এ সময় সমাবেশ বিশাল আকার নেয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ভাস্কর শিল্পী রাশাসহ অন্য নেতারা।

সমাবেশে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি, হয় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধীদের বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেব, না হলে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে দেব, যদি পাকিস্তান তাদের ফেরত নেয়। এই দেশে তাদের কোনো জায়গা নেই।’ তিনি বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙতে আসবে, আমরা তাদের হাত ভেঙে দেব। সে ফয়জুল করিম হোক, বা মামুনুল হকই হোক। এরা রাজাকারের সন্তান, রাজাকার। এরা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। সময়ের সঙ্গে তারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সঙ্গে একাত্ম হবে বলে আমরা ভেবেছিলাম। কিন্তু তারা হয়নি। তাদের শেষ করে দেওয়ার সময় এসেছে।’

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বাংলাদেশের যে সাম্প্রদায়িক শক্তি আছে তাদের রুখে দিতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। মামুনুল হক মহানবী (সা.)-এর অবমামনা করেছে। নবীজি কীভাবে ঠোঁট নাড়াতেন তা দেখিয়েছে। কিন্তু কোনো মুসলমান তার বিরুদ্ধে মাঠে নামেনি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেখানে কোরআন গবেষণা করে, তখন এ ধর্ম ব্যবসায়ীরা ছাত্রদের পায়ুপথ আবিষ্কার করে তাদের বলাৎকার করছে। আর একজন ছাত্রও যদি বলাৎকারের শিকার হয়, আমরা তাদের লিঙ্গ কেটে নেব।’ তিনি বলেন, ‘ফয়জুল করিমের বাবা ছিলেন রাজাকার। সেই অঞ্চলের মা-বোনরা মাদ্রাসায় আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন। তার বাবা তাদের গণিমতের মাল হিসেবে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের রক্তে এখন পাকিস্তানের বীজ। যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা তাদের যেখানে পাব, গণধোলাই দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেব।’

মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন জানান, সাত দফা দাবিতে ১ ডিসেম্বর বেলা ৩টায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সব জেলা ও মহানগর ইউনিটে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হবে। এতেও দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক গুজব ও অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়ানো, মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত গাওয়া ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা প্রভৃতি। বিকাল ৫টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ ত্যাগ করেন।


আপনার মন্তব্য