শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:১৫

অষ্টম কলাম

বাংলাদেশি রোগী বেড়েছে, খুশি কলকাতার হাসপাতাল

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অন্যতম প্রধান আয়ের উৎসই বাংলাদেশ থেকে আসা রোগী। কিন্তু করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মার্চ মাসের শেষের দিক থেকেই ভারতজুড়ে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক স্থল সীমান্ত ও বিমান পরিষেবা। স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। কিন্তু পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে এগোতেই ফের বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা একটু একটু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর তাতেই দীর্ঘ সাত মাস পর আশার আলো দেখতে পাচ্ছে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলো। বিশেষ করে গত কয়েক মাসের তুলনায় গত মাসে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এ সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে মনে করছে একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরের পিয়ারলেস হাসপাতালের সিইও সুদীপ্ত মিত্র বলেন, ‘দীপাবলির পর থেকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং এটা আগামী দিনে আরও বাড়বে। বর্তমানে ১১ জনের মতো বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ১৫ দিন ধরে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১০-১১ জন বাংলাদেশি রোগী আসছেন। সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছে এবং চলতি মাসের মধ্যে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি জানান, কভিডের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ জনের মতো রোগী বহির্বিভাগে দেখাতে আসতেন। এ ছাড়া গড়ে ১৫ জন বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। মুকুন্দপুরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেসেও (আরটিআইআইসিএস) বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, করোনার আগে মার্চ পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৬ হাজার রোগী আসতেন এখানে।

আরটিআইআইসিএসের আঞ্চলিক পরিচালক আর ভেঙ্কটেশ বলেন, ‘নভেম্বরে বহির্বিভাগে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে। আমরা আশা করছি, চলতি ডিসেম্বরে এ সংখ্যাটা বাড়বে। কিন্তু করোনা মহামারীর আগে যতসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী এখানে আসতেন, তা হয়তো হবে না।’

ভেঙ্কটেশের অভিমত, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি শিথিল না হওয়া বা নন-কভিড শয্যার সংখ্যা না বাড়ানো পর্যন্ত বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা বাড়বে না।

এএমআরআইর মতো আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালেও নভেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ইনডোরে ১৫ জন ও বহির্বিভাগে ৩৫ জন বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশা ডিসেম্বরে সংখ্যাটা অন্তত ১০ শতাংশ বাড়বে। হাসপাতালের সিইও রূপক বড়ুয়া জানান, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের তিনটি শাখা মিলিয়ে ৪০ জনের বেশি বাংলাদেশি রোগী ইনডোরে ভর্তি হতেন। অন্যদিকে মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের চেয়ারপারসন অলোক রায় জানান, তাদের হাসপাতালে দৈনিক ১২ জনেরও কম বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসা করাতে আসছেন। তবে আগামী দিনে সংখ্যাটা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর