শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:১৮

অসাম্প্র্র্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের শপথ

সারা দেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অসাম্প্র্র্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের শপথ

অসাম্প্র্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের দৃপ্ত শপথের মধ্য দিয়ে গতকাল সারা দেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকীতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের মূল রূপকার, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির সেসব শ্রেষ্ঠ বীর সন্তানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে জাতি। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে গতকাল প্রথম প্রহরেই জেগে ওঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সর্বস্তরের মানুষের পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধ। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ করোনার প্রকোপ, কুয়াশা ও ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে হাজির হন স্মৃতিসৌধ এলাকায়। আসেন অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাও। বিজয় দিবসের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে স্মৃতিসৌধকে ঘিরে গোটা সাভার পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। একাত্তরের পরাজিত শক্তির যে অনুসারীরা আজও বাংলাদেশে উগ্রবাদের বিষ ছড়াচ্ছে, সেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দেওয়ার দৃপ্ত শপথ নিয়েছেন বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল বিজয় দিবসের সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়েছে সেই শপথের সুর। সমাজের তরুণ প্রতিনিধিরা বলেছেন, একাত্তরের সেই ঘাতক-দালাল আর তাদের আজকের দোসরদের নির্মূল করা না গেলে ভবিষ্যতেও তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশের জন্য হুমকি তৈরি করবে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মূল উপড়ে ফেলতে হবে। শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের মুখে ছিল ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান আর বিজয়ের গান। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, দোকানপাট সবখানেই ছিল জাতীয় পতাকার লাল-সবুজের উৎসব। লাল সবুজের মাস্ক পরিহিত মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। পোশাকেও ছিল লাল-সবুজের সরব উপস্থিতি। বাতাসে ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধক গানের কথা। গতকাল অলিগলিতে ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই কালজয়ী ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

গতকাল ভোর সাড়ে ৬টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। একই সময়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শুরু হয় শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব। সাড়ে ৬টার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে একাত্তরের মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সামরিক কায়দায় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। আগের বছরগুলো রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বিজয় দিবসে সাভারে গিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অন্য অনেক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মতো এবারের বিজয় দিবসের কর্মসূচিও সীমিত করা হয়েছে। বিজয় দিবসের দিন জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজ (প্যারেড) হয়নি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষেও শহীদ বেদিতে ফুল দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যায় স্মৃতিসৌধ এলাকা। এ সময় যেন পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদবেদি।

আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা : মহান বিজয় দিবসের সূর্যোদয় ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া সকাল ৯টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সকাল সোয়া ১০টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলটি। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান ও আবদুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে একটি অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তি। এবার বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হচ্ছে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দেব। দিনের প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে পৃথকভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের বলেন, বিজয়ের এই দিনে জাতিগতভাবে সব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় নিতে হবে।

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুর সামাদ ডন ও আবদুল আউয়াল শামীমের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ সমাধিসৌধ বেদিদে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এ শ্রদ্ধা জানান। পরে নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী ইমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন। পরে জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মাহবুব পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মানুষের ঢল : বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধুর’ প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গতকাল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সকাল সোয়া ১০টায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়। 

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো হয়। কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপির নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্য প্রযুক্তি ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্নশ্রেণি-পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের জনগণ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।

মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা নিবেদন : মহান বিজয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক বি এল এফ মুজিব বাহিনীর যুদ্ধকালীল কমান্ডার মোহাম্মদ আবদুল হাই সিআইপি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, আলহাজ শরীফ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন পাহাড়ি বীরপ্রতীক, কমান্ডার মোশাররফ হোসেন, কমান্ডার মো. আবুল বাশার প্রমুখ।

জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি এই শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সহসভাপতি ওমর ফারুক, আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, মাঈনুল আলম প্রমুখ। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-(ডিইউজে) ও মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড, সাব এডিটরস কাউন্সিল, ঢাকা সাংবাদিক পরিবার বহমুখী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ। এ সময় শ্রদ্ধা জানান ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, সহ-সভাপতি এম এ কুদ্দুস, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব আবদুল মজিদ, কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ডের সভাপতি শামসুদ্দিন পেয়ারা, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভুইয়া প্রমুখ।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ফল-মিষ্টি : বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ফল এবং মিষ্টি পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু এবং সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ফল-মিষ্টি পৌঁছে দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস এবং উৎসবে তাদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির অবমাননা এবং নব্য রাজাকারদের উত্থানের চেষ্টায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যে কোনো মূল্যে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি থেকে ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

বিজয় দিবসের র‌্যালি ও মাস্ক বিতরণ : বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কলাবাগানের আল আমিন রোড সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বিজয় র?্যালি ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। সকালে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ ক ম সিরাজুল হকের নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেন, মুক্তাদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কাজী রোজিনা ইয়াসমীন, এয়াম এ মান্নান, আবদুল নূর, রুমেল প্রমুখ অংশ নেন। র‌্যালির আগে সমিতির পক্ষ থেকে আল আমিন রোড হোল্ডিং ম্যাপ উদ্বোধন করা হয়।

বিপিপির আলোচনা সভা : রাজধানীর আইইবি সেমিনার হলে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ (বিপিপি) আয়োজিত আলোচনা সভা করে। বিপিপির সভাপতি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, প্রকৌশলী এস এম মনজুরুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন শীবলু বক্তব্য দেন।

আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানান, করোনাকালেও সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে আসা নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে স্মৃতিসৌধ এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে কৃষক লীগ, যুবলীগ, এফবিসিসিআই, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফোরাম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জনসেবা পার্টি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি, রেড ক্রিসেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাসদ, বাসদ ও ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব ড্যাব, জার্নালিস্ট সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার, আশুলিয়ার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ১, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। এদিকে বাঙালির উৎসব ও আনন্দের এই দিনে জাতীয় স্মৃতিসৌধের চারপাশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।


আপনার মন্তব্য