শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫২

মানব পাচারে স্বল্প শিক্ষিতদের টার্গেট করত ওরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তারা হলেন- জালিস মাহমুদ ও অমল জয়ধর। গতকাল ভোরে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা, ৭১টি পাসপোর্ট, মালয়েশিয়ার ১১টি জাল ভিসা, ফ্রান্সের তিনটি জাল ভিসা, ভুয়া বিএমইটি ছাড়পত্রের ফটোকপি ২৪টি, ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট ৮টি, ভুয়া বিমান টিকিট ১০টি জব্দ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এস এম এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির পরিচালক জালিস মাহমুদ ও ফিল্ড অফিসার অমল জয়ধরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রিপন মাহমুদ পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির ভাড়া করা রুম থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। সবাই গা-ঢাকা দিয়েছেন। রিক্রুটিং লাইসেন্স না থাকলেও ২০১৮ সাল থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছিল এস এম এন্টারপ্রাইজ। গ্রেফতারকৃতরা বিদেশ যেতে ইচ্ছুক স্বল্প শিক্ষিতদের টার্গেট করত। এরপর ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া দেখাত ভুক্তভোগীদের। তৈরি করত জাল টিকিট, ভিসা ও বিএমইটি কার্ড। এ কাজের জন্য তাদের একটি অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ টিম রয়েছে। বিএমইটি কার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কারও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর নামে এই চক্রটি এখন পর্যন্ত ৬৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ জন ভুক্তভোগী সিআইডিতে অভিযোগ করেছেন। ঘটনা ২০১৯ সালে হলেও ভুক্তভোগীরা কয়েক দিন আগে মামলা করেছেন। কারণ টাকা দিয়ে তা ফেরত নেওয়ার জন্য বারবার এজেন্সির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। বারবারই তারা সময় দিয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীরা স্বল্প শিক্ষিত। আইনি ব্যবস্থা নেবেন সে বিষয়ে তারা সাহস পাচ্ছিলেন না। সম্প্রতি বেশ কিছু মানব পাচারকারী চক্র গ্রেফতারের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার হয়, সেই পরিপ্রেক্ষিতে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভাগ্য বদলানোর জন্য মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছেন তারা। বিমানবন্দরে যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে এস এম এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরতের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বারবার সময় দিয়েও টাকা ফেরত পাননি। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তাদের রিক্রুটিং এজেন্সি থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। সম্প্রতি তারা বনানী থানায় মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর