শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৫

কৃষি

নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে সুমিষ্ট মাল্টা

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে সুমিষ্ট মাল্টা

নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর, ঘাটনগর, সরাইগাছী,  তেঁতুলিয়া, বড়গ্রাম, তিলনা, গাঙ্গুরিয়া এলাকায় মাল্টা বাগানের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ১৫০ জন বাগান মালিকের ২০০টিরও বেশি মাল্টা বাগান রয়েছে। একটি বাগানে সারি সারি মাল্টা গাছ। ছোট ছোট গাছে ঝুলছে  থোকায় থোকায় মাল্টা। একেকটি গাছে ১৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত মাল্টা ধরে আছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাটির গুণাগুণ মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানকার মাল্টা আকারে বড় ও সুমিষ্ট। তাই এলাকার মাল্টা ব্যাপক জনপ্রিয়। ফলে আমের পর নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পোরশা উপজেলা সদরের মাল্টা বাগানের মালিক ওবায়দুল্লাহ শাহ জানান, উপজেলায় তিনিই প্রথম মাল্টা চাষ ২০১৬ সালে শুরু করেন। তিনি আগ্রহ দেখালে উপজেলা কৃষি অফিস  থেকে তাকে বারি মাল্টা-১ জাতের ৬০টি মাল্টা গাছের চারা দিয়ে লাগানোর প্রস্তাব দেন। ওই চারা ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ  থেকে আনা একই জাতের আরও দেড় হাজার মাল্টা গাছের চারা লাগিয়ে উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে নিজের ৭ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন মাল্টার বাগান। এক বছরের মাথায় তার গাছগুলোতে ১০-১২টি করে ফল ধরে। পরের বছর গাছগুলোতে আরও ফল ধরে। এ বছর একটি গাছ থেকেই  দেড় থেকে দুই মণ মাল্টা সংগ্রহ হবে। চলতি বছর তিনি আরও ছয় বিঘা জমিতে নতুন করে মাল্টা বাগান গড়ে তুলেছেন।

 ২০১৮ সাল থেকে বাগানের মাল্টা বিক্রি শুরু করেন। ওই বছর আড়াই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন। গত বছর মাল্টা বিক্রি হয়েছে ৬ লাখ টাকার। মাল্টা বাগান করার পরিকল্পনার কথা জানালে প্রথমে এলাকার অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন। তার আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামের অনেক মানুষই তখন বলেছিলেন এই এলাকার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী নয়। এখানে মাল্টা গাছ হবে না। গাছ হলেও এখানকার মাল্টা সুমিষ্ট হবে না। তারপরও তিনি মাল্টা চাষের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে  ফেলেননি। সাহস করে বাগান করেছেন এবং তাদের সব কথা মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। যারা তখন তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন এখন তারাই মাল্টা চাষের জন্য তার কাছে পরামর্শ চাইতে আসেন।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, মাল্টা চাষকে জনপ্রিয় করা গেলে একদিকে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন অন্যদিকে পুষ্টিকর এ ফল আমদানিনির্ভরতা কমবে। ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এই এলাকার মাটির গুণাগুণ মাল্টা চাষের উপযোগী। পাঁচ বছর আগেও মাত্র একটি বাগান ছিল। এখন উপজেলায় প্রায় ২০০টি মাল্টা বাগান। এখানকার উৎপাদিত মাল্টা বেশ সুমিষ্ট হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর