শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৩

নির্দলীয় ভোট হলে অংশগ্রহণ বাড়বে বিশ্লেষকদের অভিমত

ইউপি ভোটে আগ্রহ নেই সব দলের

প্রথম ধাপের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১১, ৭ দলের প্রার্থী ১-৬ জন

গোলাম রাব্বানী

Google News

তৃণমূলের সবচেয়ে বড় নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদে অংশ নিতে আগ্রহ নেই নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের। প্রথম ধাপের এ নির্বাচনে ৩৯ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অংশ নিচ্ছে মাত্র ১১টি। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ-জাপাসহ তিন দলের প্রার্থী বেশি থাকলেও নামেমাত্র নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে আটটি দল। ইসি জানিয়েছে, ৩৭১ ইউপির মধ্যে একটি করে ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়েছে তিন দল। আর তিনজন করে প্রার্থী দিয়েছে দুই দল। ছয়জন করে প্রার্থী দিয়েছে দুই দল। আর ১৫ জন প্রার্থী দিয়েছে একটি দল।  ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে ৩৫৮ ইউপিতে, বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন চার প্রার্থী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী দিয়েছে ২২৭ ইউপিতে, বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ১০ প্রার্থী। জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছে ৩২ ইউপিতে, বাদ পড়েছেন একজন প্রার্থী। জাকের পার্টি-প্রার্থী দিয়েছে ১৫ ইউপিতে, বাদ পড়েছেন দুজন প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১০৯৭ জন, বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ৫৩ জন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্বতন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও এ দলের নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি-জেপি ছয় ইউপিতে, জাসদ তিন, বিকল্পধারা তিন, ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এক, কমিউনিস্ট পার্টি এক ও বাংলাদেশ কংগ্রেস এক ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাহীনতা, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকা, সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়া, জালভোট ও কারচুপির কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী নয় রাজনৈতিক দলগুলো। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার  বলেছেন, পুরো নির্বাচনই একটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে। কেন   নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ছে না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, ভোটের পদ্ধতির ওপর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। যারাই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পান, তারাই নির্বাচিত হন। মানুষ ভোট দিতে পারে না। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ নেই।’ এ নির্বাচন বিশ্লেষক বলেন, নির্বাচন এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। শুধু রাষ্ট্রের টাকা খরচ হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক হতো, এর মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান করা যেত। কিন্তু এখন তো স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা মানুষের প্রতিনিধিপ্রণ, তারা দলের প্রতিনিধি। এক অর্থে সরকারের প্রতিনিধি। এবং তারা তাদের স্বার্থে কাজ করছেন, জনগণের স্বার্থে কাজ করছেন না।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছি। তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বিকেন্দ্রীকরণের জন্য স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে পথে হাঁটছি তা শুভকর নয়। সুজন সম্পাদক বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে আবারও নির্দলীয় নির্বাচন হলে, নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক হতো। নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ত। সুষ্ঠু ও আইনসম্মত নির্বাচন হলে অনেকেই এ নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে সরকার যদি আন্তরিক না হয়, তাহলে কিছুই সম্ভব নয়। 

নির্বাচনী লড়াইয়ে ২০ হাজার প্রার্থী : প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৬৮০ জন। এরমধ্যে ৩১ ইউপিতে একক প্রার্থী রয়েছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন ৩৫৪ ইউপিতে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছেন ২১৭ ইউপিতে। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন ৩১ ইউপিতে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। বিএনপি অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগসহ ১১টি দল অংশ নিয়েছে এ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে তিন পদে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ২০ হাজার ১৩৬ জন।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৭৫০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯৭ জন ও দলীয় প্রার্থী ছিলেন ৬৫৩ জন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৭০ জনের মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। সেই হিসাবে বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৬৮০ জন। এ ছাড়া সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ২৫০ জন, সাধারণ ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রার্থী সংখ্যা ১৪ হাজার ২০৬ জন। চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন  ৩১ ইউপিতে। প্রত্যাহারের সময় শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে।

১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ভোট হবে। চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। একই দিন ১১ পৌরসভা ও একটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন রয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহীরা ১৮ মার্চ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন; গত ১৯ মার্চ বাছাই হয়। আগামীকাল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। পৌরসভাসহ সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলোয় অংশ নিলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলটির অনেক প্রার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।