শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৬

মেট্রোরেলে করোনার ধাক্কা

কমেছে কাজের গতি, ৭ হাজার কর্মীর মধ্যে আক্রান্ত ৫ শতাধিক

মানিক মুনতাসির

মেট্রোরেলে করোনার ধাক্কা
Google News

বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসের প্রভাব গত বছর বাংলাদেশে কিছুটা সহনীয় থাকলেও এ বছর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্তের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আর এ ধাক্কা লেগেছে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর কাজেও। গত সপ্তাহেই এ প্রকল্পে কর্মরতদের মধ্য থেকে অর্ধশত কর্মী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে দুই শিফটে কাজ চলছে এ প্রকল্পের। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক সূত্র জানান, করোনা মহামারী সত্ত্বেও জাপানে তৈরি মেট্রোরেলের কোচের প্রথম লট এ মাসের শেষ দিকে ঢাকা এসে পৌঁছাবে। এদিকে করোনার ধাক্কায় কাজের গতি কিছুটা কমেছে। মার্চ পর্যন্ত লাইন-৬ প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৫ শতাংশ। আর এ প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬২ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা ঢেউয়ের ধাক্কার কিছুটা প্রভাব এ প্রকল্পেও পড়ছে। ফলে চলতি বছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এজন্য আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রথম অংশের কাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ‘দ্বিতীয় দফা করোনার ধাক্কায় এক সপ্তাহেই আমাদের ৪৮ জন কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব প্রকল্পের কাজে পড়ছে না। অন্যদিকে জাপানে মেট্রোরেল কোচ তৈরি হয়ে আছে। আশা করা হচ্ছে চলতি মাসের শেষের দিকে এসব উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে চলাচলের জন্য ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।’

সূত্র জানান, মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্পে মোট ৭ হাজার কর্মী দুই শিফটে কাজ করছেন। এর মধ্যে দেশি কর্মী রয়েছেন ৬ হাজার। বাকি ১ হাজার বিদেশি কর্মী। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ শতাধিক কর্মী, যার প্রায় সবাই সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরে এসেছেন। তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় শুধুু গত সপ্তাহেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ জন। আক্রান্তের এ হার প্রতিদিনই বাড়ছে। নতুন করে আক্রান্তের বেশির ভাই মেট্রোরেল প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী স্বাস্থ্য পরিচর্যা ক্যাম্পে সেবা নিচ্ছেন। এর মধ্যে গাবতলীর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১০ শয্যার একটি অস্থায়ী স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র ও উত্তরার পঞ্চবটীতে ১৩ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ দুটি কেন্দ্রে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে এসব কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে প্রকল্প এলাকায়। এজন্য প্রকল্প এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের প্রকল্প এলাকার বাইরে বেরোনোয় নিরুৎসাহ করা হচ্ছে। এদিকে মিরপুর ডিওএইচএসের দিক থেকে ১৩৮ নম্বর পিয়ার ধরে একটু সামনে গেলেই চোখ আটকে যাবে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায়। বহুল প্রত্যাশিত দেশের প্রথম মেট্রোরেলের (লাইন-৬) উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনের স্ট্রাকচার দাঁড়িয়ে গেছে। দ্রুতগতিতে চলছে এর নির্মাণকাজ। শুধু উত্তরা দক্ষিণ নয়, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা উত্তর স্টেশনের কাজও চলছে সমান গতিতে। একই সঙ্গে রেলট্র্যাক বসানোর কাজও চলছে। দিনে-রাতে হাজার হাজার শ্রমিকের ব্যস্ত হাত আর অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে।