শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১০

করোনায় চলে গেলেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনায় চলে গেলেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক
Google News

করোনায় চলে গেলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক। তিনি গতকাল ভোর ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। গতকাল জোহরের নামাজের পর কেরানীগঞ্জের বড় মনোহারিয়ায় জানাজা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে বেলা ১১টায় তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে। সেখানে ফুল দিয়ে মিতা হককে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার সহকর্মী, স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহীরা। এ সময় সমস্বরে তারা গেয়ে ওঠেন, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে’, ‘জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে’ ও ‘পথে চলে যেতে যেতে’ গানগুলো। মিতা হক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন ছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। করোনা থেকে সেরে উঠেছিলেন তিনি। চার দিন আগে করোনার নমুনা পরীক্ষা করিয়ে দেখা যায়, তিনি করোনামুক্ত। তাঁকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অসুস্থবোধ করলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর ছিল নানা শারীরিক জটিলতা। এত দিন সেসবের সঙ্গে লড়াই করে টিকেছিলেন এই শিল্পী। গতকাল ভোর ৬টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে যান মেয়ে ফারহিন খান জয়িতাসহ সহকর্মী, বহু শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিতা হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি শোকবার্তায় মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। রাষ্ট্রপতি বার্তায় বলেন, দেশে রবীন্দ্রচর্চা ও রবীন্দ্রসংগীত সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিতা হকের প্রচেষ্টা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গতকাল ছায়ানট ভবনের উঠানে লাশবাহী শীতল ভ্যানের ভিতরে রাখা হয় মিতা হকের মরদেহ। বাইরে থেকে ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান শিল্পী স্বজনরা। মিতা হককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন শিল্পীদের অনেকেই। অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পী বাপ্পা মজুমদার, লাইসা আহমদ লিসা, বুলবুল ইসলাম প্রমুখ। মিতা হক প্রয়াত দর্শকপ্রিয় অভিনেতা খালেদ খানের স্ত্রী। একমাত্র মেয়ে জয়িতাও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্যে মিতা হককে একুশে পদক দেওয়া হয় ২০২০ সালে। এর আগে ২০১৬ সালে তিনি শিল্পকলা পদক লাভ করেন। মিতা হক ছায়ানটের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ‘সুরতীর্থ’ নামে তাঁর একটি গানের স্কুল রয়েছে। তিনি রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন। মিতা হকের জন্ম ঢাকায় ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে। তাঁর চাচা ওয়াহিদুল হক ছিলেন দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা-ব্যক্তি ও রবীন্দ্রগবেষক। মিতা হক বাংলাদেশ বেতারের সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। ১৯৯০ সালে বিউটি কর্নার থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম ‘আমার মন মানে না’। দুই শতাধিক রবীন্দ্রসংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিতা হক। রবীন্দ্রসংগীত জগতে জনপ্রিয় এই শিল্পীর এককভাবে মুক্তি পাওয়া অ্যালবাম ২৪টি। মিতা হক পাঁচ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করে ভালো ছিলেন তিনি। তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন তিনি।