শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৪

করোনা

চলে গেলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলে গেলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু
Google News

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাবেক আইনমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। বুধবার বিকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টে থাকা বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। প্রতিথযশা এই আইনজীবীর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল ঢাকায় দুই দফা ও জন্মস্থান কুমিল্লায় তিন দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।  মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও সুধী মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আবদুল মতিন খসরুর জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে।  বাবার নাম মো. আবদুল মালেক ও মা জাহানারা বেগম। তিনি চার ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিন খসরু কুমিল্লা-৫ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য। ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আবদুল মতিন খসরু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কুমিল্লা জেলার অবিভক্ত বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। আবদুল মতিন খসরু মাধবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি ও ¯œাতক করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে। আর কুমিল্লা ল কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজ কোর্টে যোগদান করেন। পরে ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে নিয়মিত প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি। অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু একজন সংগ্রামী, আত্মপ্রত্যয়ী, প্রখর বিবেকবোধসম্পন্ন জনবান্ধব সাদা মনের? রাজনীতিবিদের নাম। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির চূড়ায় অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা থেকে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্য তিনি। এরপর তিনি অখ- কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, সর্বশেষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডয়াম সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, কিছুদিন পর পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।? তিনি ?জাতীয় সংসদে কালাকানুন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের ওপর তিনি জাতীয় সংসদে পরম আবেগ? ও যুক্তিনির্ভর যে ভাষণ দিয়েছেন, তা সংসদীয় ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকাকালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচারের পথ খোলা হয়। তিনি কুমিল্লা বার থেকে উঠে এসে ক্রমশ সর্বোচ্চ আদালতে একজন বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে অপরিহার্য করে গড়ে তুলেছিলেন। ?যার ফলে মাত্র কদিন আগেই এই অমর ব্যক্তি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। ১২ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব নিলেও চেয়ারে বসা হয়নি তাঁর। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হওয়া। আইনজীবীরাও তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন। কিন্তু চেয়ারে বসার সুযোগ হলো না তাঁর। বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আগেও কালো গাউন পরে সুপ্রিম কোর্টের ‘এই ভবন থেকে ওই ভবন’ ঘুরে বেড়িয়েছেন। গতকালও সকাল ১০টায় এসেছিলেন শেষবারের মতো। তবে সাদা কফিনে মোড়ানো অবস্থায়। সকালে যখন তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয়, তখন অবণা হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। সহকর্মী আর শুভাকাক্সক্ষীদের চোখের জলে শেষবিদায় জানানো হয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতিকে। জনপ্রিয় আইনজীবী নেতা মতিন খসরুর এই অসময়ে চলে যাওয়া যেন কেউই মেনে নিতে পারেননি। তাই তো  কফিনবন্দী লাশ দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। করোনার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অনেকেই ছুটে আসেন প্রিয় নে জানাজায় অংশ নিতে। সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় দ্বিতীয় জানাজায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সায়েম খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদীসহ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের পক্ষ থেকে  কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে, ডেপুটি স্পিকারের পক্ষে, আওয়ামী লীগের পক্ষে মাহবুব-উল আলম হানিফ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের আইন উপ-কমিটি, আবদুল মতিন খসরু অ্যাসোসিয়েটস, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ ও ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। জানাজার আগে আবদুল মতিন খসরুর জীবনী পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল। জানাজার আগে আবদুল মতিন খসরুর ছেলে আবদুল মুনায়েম ওয়াসিফ  বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। জানাজা শেষে এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সালাম (গার্ড অব অনার) প্রদান করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এর আগে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্টে জানাজা শেষে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ১৯৯৬ সালে আইনমন্ত্রী থাকাকালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের সময় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা আজও স্মরণীয়। সেদিন তিনি মানুষকে কাঁদিয়েছিলেন।  মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। আরও শোক জানিয়েছেন যারা : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক জাতীয় সংসদের  স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পরকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, ময়মনসিংহ সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু, কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণতন্ত্রী পার্টির অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, নুরুর রহমান সেলিম, শাহাদাৎ হোসেন, এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ। আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর তিনটি জানাজা কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। বাদ জোহর  নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরের আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান, সাধারণ সম্পাদক বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আখলাক হায়দার, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহের, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন স্বপন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ, মতিন খসরুর ছোট ভাই অ্যাডভোকেট আবদুল মুমিন ফেরদৌস, ছেলে আবদুল মুমিন ওয়াছিফ, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুছ ছালাম বেগসহ অনেকে। চতুর্থ জানাজা বিকাল ৪টায় ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর তাঁর গ্রামের বাড়ি মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। জানাজা শেষে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জানাজার আগে বিভিন্ন দল-মতের মানুষ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, আবদুল মতিন খসরু বিনয়ী মানুষ ছিলেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি তিনি করতেন না। স্বজনরা  জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিদের চোখ ভিজে ওঠে। করোনা ও লকডাউনের মধ্যেও প্রতিটি জানাজায় মানুষের ঢল নামে।