শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৭

নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত শুভলং

আলম শাইন

নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত শুভলং
Google News

উড়ুউড়ু মন; ছটফট করছে ঘুরে বেড়াতে, ধড়ফড় করছেন বন-জঙ্গল চষে বেড়াতে? তাহলে নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘুরে আসতে পারেন শুভলং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে কিংবা ঝরনার জলে সিক্ত হতে পারেন মুহূর্তেই। এমন চমৎকার জায়গা রাঙামাটিতে খুব কমই আছে। এটি রাঙামাটির জেলার বরকল উপজেলাধীন অবস্থিত। একেবারে কাপ্তাই হ্রদের গা-ঘেঁষেই শুভলং পাহাড়ের অবস্থান; ঝরনাও একই স্থানে অবস্থিত। রাঙামাটি সদর থেকে শুভলংয়ের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। দুভাবেই যাওয়া যায় শুভলং। তবে জলপথে অর্থাৎ কাপ্তাই হ্রদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করাটাই উত্তম। পর্যটকরা বেশির ভাগ জলপথেই যাতায়াত করেন, তাতে নয়নাভিরাম কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্যও উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

কাপ্তাই হ্রদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মানুষ্যসৃষ্ট সুপেয় জলের বৃহত্তম একটি হ্রদ। যার অবস্থান বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলায়। এটি রাঙামাটি জেলার সদর, কাপ্তাই, লংগদু, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। প্রায় ৬৬৩ বর্গকিলোমিটার (৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর) আয়তনের এ  হ্রদটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে ১৯৬২ সালে। হ্রদটি জলবিদ্যুৎ তৈরির লক্ষ্যে তৈরি হলেও এটি বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে অন্যতম একটি পর্যটন স্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, যখন কাপ্তাই হ্রদের ওপর দিয়ে ট্রলার সর্পগতিতে এগিয়ে চলে, তখন পাহাড়, বনপ্রান্তর আর হ্রদের স্বচ্ছ নীল জলের জাদুকরি টানে পর্যটক নিমেষেই মোহিত হয়ে পড়েন। হ্রদের রূপে মুগ্ধ হয়ে গুনগুন সুরে গান গাইতে থাকেন। তার ওপর দুপাশে রয়েছে বেলে পাথরের পাহাড়ের সারি, যেন জলতল থেকে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবার পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাসও। নজরে পড়ে শত প্রজাতির গাছ-গাছালি, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের সমাহার। নজরে পড়ে নীল গগনে ভেসে বেড়ানো সফেদ, শুভ্র মেঘপুঞ্জের হাতছানি। ঘণ্টাদুয়েক প্রকৃতির সঙ্গে হেসে-খেলে হ্রদের কয়েকটি বাঁক পেরিয়ে একসময় শুভলং পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছে যান পর্যটক। ডাঙ্গায় পা রাখতেই মনটা মজে যায় উল্লাসে। চারদিকে সবুজ আর সবুজের সমাহার। মনে হবে বুঝি মনোহারী সৌম্যসাজে সজ্জিত, নিঝুম, নিস্তব্ধ নৈসর্গিক কোনো স্থানে পৌঁছেছেন। শুভলং পাহাড়ের গায়েই ‘শুভলং ঝরনা’। ঝরনায় নেমে ক্লান্তি দূর করার সুযোগও আছে। নয়নাভিরাম সেই ঝরনা বর্ষা এলেই সতেজ হয়ে ওঠে। সে দৃশ্যও দেখার মতো। শুষ্ক মৌসুমে ঝরনা খানিকটা নি®প্রভ থাকলেও জৌলুস কমেনা একটুও। সব মিলিয়ে স্থানটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ভীষণ উপভোগ্য। একবার গেলে বারবার যেতে মন চাইবে শুভলংয়ের পাদদেশে। উল্লেখ্য, শুভলং যেতে হলে রাঙামাটি শহরের রির্জাভ বাজার ঘাট থেকে ট্রলারে বা স্পিডবোটে যাওয়াই উত্তম। ট্রলার ভাড়া সাধ্যের মধ্যেই। আর যাতায়াতে সময় লাগবে ঘণ্টাচারেকের মতো। লেখক : আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক লেখক।

এই বিভাগের আরও খবর