শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০২১ ২৩:৪৩

সানেম ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের জরিপ

ব্যবসায়ীদের আস্থা অনেক কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত জানুয়ারির তুলনায় এপ্রিলে এসে ব্যবসায়ীদের আস্থা অনেকখানি কমে গেছে বলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ জরিপে ওঠে এসেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার টিকা প্রদান কর্মসূচি চালু হলে আস্থা ফিরে আসবে। গতকাল ওয়েবিনারে প্রকাশিত ওই জরিপে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত জরিপে বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স বা ব্যবসার আস্থা সূচকের মান যেখানে ৫৭.৯০ ছিল, সেখানে এপ্রিলে পরিচালিত জরিপে এই সূচক ছিল ৪১.৩৯। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের এপ্রিলের ৬ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে দেশের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৩৬টি জেলার মোট ৫০৩টি ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর এই জরিপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৩টি উৎপাদন খাতের এবং ২৫০টি সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান। উৎপাদন খাতের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা প্রকৌশল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো জরিপের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেবা খাতের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশন, আর্থিক খাত ও রিয়েল এস্টেট খাত জরিপের অন্তর্ভুক্ত ছিল। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর মাত্র ২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন অর্থনীতি শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের দিকে যাচ্ছে। মাঝারি মানের পুনরুদ্ধারের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন ৩১ শতাংশ এবং দুর্বল মানের পুনরুদ্ধারের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী। এই জরিপে দেখা গেছে হালকা প্রকৌশল, পরিবহন এবং রেস্টুরেন্ট খাতের ব্যবসায় আস্থা সবচেয়ে কম। জরিপে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার আস্থা সূচক ৩৯.০২, মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ৪০.৮৩ এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের আস্থা সূচক ৪৬.৬১। ওয়েবিনারে জানানো হয়, এই জরিপের অংশ নেওয়া ২২ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন তারা প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেয়েছেন। ৬৯ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন তারা প্রণোদনা প্যাকেজ পাননি এবং ৯ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন তারা প্যাকেজ সম্পর্কে জানেন না। জরিপকৃত বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ পেয়েছে ৪৬ শতাংশ, মাঝারি ৩০ শতাংশ এবং ৯ শতাংশ ক্ষুদ্র ও ছোট প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা পেয়েছে।  ওয়েবিনারে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায় আস্থা বাড়ানোর জন্য সরকারকে খাতভিত্তিক গাইডলাইন তৈরি করতে হবে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে মহামারীর প্রভাব থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। তিনি বলেন, বিদেশি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আগে মূলত দেশের করকাঠামো ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা বিবেচনায় নেন। এ জন্য দেশীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিবেশের ওপর আস্থা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তিনি করজাল বা করের আওতায় অধিক সংখ্যক নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে আনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সরকারের করোনার টিকা কূটনীতির প্রশংসা করে বলেন চীন ও রাশিয়ার টিকা প্রদান শুরু হলে ব্যবসার আস্থার উন্নতি হবে। মহামারীর সময় দেশীয় অনলাইন বা ফেসবুকভিত্তিক উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তা প্রদানের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।