শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মে, ২০২১ ২৩:৫৩

আজ বিশ্ব মা দিবস

মহামারীতে ভালো নেই মায়েরা

জিন্নাতুন নূর

মহামারীতে ভালো নেই মায়েরা
Google News

করোনা মহামারীতে ভালো নেই মায়েরা। গৃহিণী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মায়েরা সবাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে ঘরের কাজ বেড়েছে, অন্যদিকে কর্মজীবী মায়েরা সংসার সামলে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। নিম্ন আয়ের বিভিন্ন পেশায় জড়িত শ্রমজীবী মায়েরা করোনায় কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সন্তানের জন্য খাবার জোগাড় করতে গিয়ে তারা এখন বাধ্য হয়েই মানুষের কাছে হাত পাতছেন। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন গর্ভবতী মায়েরা। নিজের ও সন্তানের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া এবং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা নিয়ে বেশ উদ্বেগজনক সময় পার করছেন এ হবু মায়েরা। আর এ অবস্থায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব মা দিবস।

মহামারীর এ দুঃসময়ে ভালো নেই গর্ভবতী মায়েরা। একদিকে নিজের সংক্রমণের ভয়, অন্যদিকে অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেক গর্ভবতী। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মহামারী চলাকালে গর্ভধারণ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. নওশিন শারমিন পূরবী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের কাছে সব মিলিয়ে গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসার জন্য এখন কম আসছেন। কোনো একজন মায়ের হয়তো টিউমার কাটতে হবে। সেই অস্ত্রপচার রোগাটি দীর্ঘায়িত করছেন। খুব জরুরি না হলে রোগীকে আমরাও চিকিৎসার জন্য তাড়া দিচ্ছি না। ধারণা করছি, কিছু রোগী আর্থিক সংকটে আছেন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছে যেতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন কি না সে দুশ্চিন্তা করছেন। আবার আগের তুলনায় চিকিৎসকদের সংখ্যাও কম।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মহামারীতে মায়েদের ‘ওয়ার্কলোড’ বৃদ্ধি পেয়েছে। লকডাউনে সন্তান ও স্বামী সবসময় বাসায় থাকছে আবার গৃহকর্মীদেরও কাজ থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসা নিয়ে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তুলনামূলক কম গর্ভবতী নারী চিকিৎসার জন্য আসছেন। গর্ভবতীদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসক পাবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহামারীর মধ্যে মা ও গৃহিণীদের গৃহস্থালি কাজকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। স্কুল ও অফিস-আদালতে ছুটি থাকায় সন্তান ও স্বামী ঘরবন্দী আছে। এতে এ মায়েদের আগের তুলনায় বেশি গৃহশ্রম দিতে হচ্ছে। আবার সংক্রমণের ভয়ে অনেকে এখন বাসার গৃহকর্মীকে ছুটি দেওয়ার পুরো সংসারের কাজের ভার এ মায়েদের ওপর পড়েছে। রাজধানীর কাজীপাড়া এলাকার গৃহিণী সুহানা পারভীনের তিন সন্তান। স্কুল শিক্ষক স্বামী ও সন্তানরা সবাই গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ঘরবন্দী। আগে স্বাভাবিক সময়ে অবসরে সুহানা কবিতা লিখতেন। এখন সংসারের কাজ একাই করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ কিছুদিন আগেই সুহানা করোনা সংক্রমিত হন। কিন্তু এরপরও গোটা সংসার ও সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন। কথা হলে সুহানা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘শরীর খুব দুর্বল কিন্তু করার কিছু নেই, সন্তানদের দিকে তাকিয়ে হলেও কাজ করতে হবে।’ ভালো নেই কর্মজীবী মায়েরাও। কারণ এ মায়েদের করোনা মহামারীর মধ্যেও সন্তান ও সংসার সামলানোর পাশাপাশি অফিসের কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপ আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় বেশি। এর মধ্যে ঘরে থেকে যেসব মায়েদের কাজ করতে হচ্ছে তাদের সমস্যা বেশি। কথা হলে মিরপুরের এক ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা হাসিনা বেগম বলেন, ‘স্কুল থেকে এসে আগে সন্তানের জন্য কিছুটা সময় বের করতে পারতাম। কিন্তু এখন সেটি পারছি না। একদিকে ঘরের কাজ অন্যদিকে অনলাইনের ক্লাস- সব মিলিয়ে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি। সন্তানের সঙ্গেও আগের মতো সময় কাটাতে পারছি না।’ করোনায় বিপদে পড়েছেন নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রমজীবী মায়েরাও। পোশাক শ্রমিক ও গৃহশ্রমিক মায়েদের অনেকেই এ মহামারীতে কাজ হারিয়েছেন। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ক্ষুধা মেটাতে অনেক মা তার সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেছেন। এমনই এক মা সুমি আক্তারের সঙ্গে মিরপুরের কালশী এলাকায় কথা হয়। তিনি বলেন, ‘এক বাসায় সারা দিন কাজ করতাম। করোনার কারণে আমারে বিদায় কইরা দেয়। এরপর কয়েক বাসায় কাজ খুঁজতে গেলেও কেউ কথা কইতে চায় না। ছোট বাচ্চারে নিয়া বিপদে পড়ছি। এহন মানুষের কাছে হাত পাইতা খাই।’ করোনায় স্বাস্থ্যসেবায় জড়িত আছেন যেসব মায়েরা তারাও খুব একটা ভালো নেই। বিশেষ করে যে মায়েরা চিকিৎসক ও নার্স, আগের চেয়ে দায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবার ও সন্তান থেকে তাদের দূরে থাকতে হচ্ছে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় এসব পেশায় জড়িত মায়েরা সহজে সন্তানের কাছে আসেন না। একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দায়িত্ব শেষে যখন বাসায় ফিরি তখন আমাদের থেকে সন্তানরা করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন এমন আশঙ্কা প্রায়ই কাজ করে। তখন চাইলেও সন্তানের কাছে যেতে পারি না।’

এই বিভাগের আরও খবর