শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০২১ ২৩:৩২

শাড়ি নিয়ে বিপাকে তাঁতিরা

আবদুস সামাদ সায়েম, সিরাজগঞ্জ

শাড়ি নিয়ে বিপাকে তাঁতিরা
Google News

করোনার প্রভাবে সিরাজগঞ্জের ব্যান্ড তাঁতশিল্প হুমকির মুখে। একদিকে তাঁতের উপকরণের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাটে পাইকার না আসায় ঈদে কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁতিরা। বিক্রি বন্ধ থাকায় শ্রমিকদেরও বেতন দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় ঈদ উৎসব করা নিয়ে শঙ্কায় পড়ছেন তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা। তাঁত মালিকরা বলছেন, করোনায় যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সরকারি সহায়তা না পেলে তাঁতশিল্প বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিরাজগঞ্জের অর্থনীতিতে প্রধান ভূমিকা রাখে তাঁতশিল্প। এখানকার উৎপাদিত শাড়ি-থ্রি পিস, লুঙ্গি ও গামছা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়। দেশের বড় বড় কোম্পানি সিরাজগঞ্জের উৎপাদিত শাড়ি-লুঙ্গি কিনে নিজেদের কোম্পানির লেভেল লাগিয়ে বাজারজাতও করে। জেলার তাঁতশিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে ৫ লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। উৎপাদনের ভিত্তিতে কাজ করে শ্রমিকরা সংসার চালান। করোনার কারণে কাজ কম হলেও ঈদের আগে দুই টাকা বেশির জন্য অধিক সময় পরিশ্রম করছেন তারা। কিন্তু তাঁত মালিকরা হাটে কাপড় বিক্রি করতে যেমন মজুরি দিতে পারছেন না তেমনি কাজও দিতে পারছেন না। ফলে শ্রমিকরা মহাসংকটে পড়েছেন। তাঁতশ্রমিক আলমাস, আবদুল হাদি ও আবুল হোসেন জানান, পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভালোভাবে ঈদ করতে বেশি পরিশ্রম করছি। কিন্তু মহাজনরা কাপড় বিক্রি করতে না পারায় বিল পরিশোধ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় ঈদ তো দূরের কথা দুই মুঠো ডাল-ভাত খাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। শ্রমিকরা আক্ষেপ করে বলেন, করোনার কারণে বহু মানুষ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু তাঁতশ্রমিকদের দিকে একটু নজরও দেয়নি সরকার। মনে হয় আমরা দেশের নাগরিক নই।

তাঁতমালিক নুরুল ইসলাম, ইয়াসিন ও কাওসার বলছেন, ‘ঈদের আগে কাপড় উৎপাদন করে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু করোনায় লকডাউনে হাটবাজার ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাটে পাইকার আসছে না। কাপড়ও বিক্রি করতে পারছি না। শ্রমিকদেরও বেতন দিতে পারছি না। মহাজনদের ঋণও পরিশোধ করতে পারছি না। এ ছাড়া তাঁতের উপকরণ রং-সুতার দাম বাড়লেও কাপড়ের দাম বাড়ছে না। এতে তাঁতিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। অনেক তাঁতি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেউলিয়া হয়ে গেছেন।’ এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা না পেলে তাঁতশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন মালিকরা।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য্য জানান, করোনা মহামারীতে তাঁতিরাও ভয়াবহ ক্ষতির শিকার। এ অবস্থায় শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে তাঁতমালিকদের কম সুদে বা ২% সুদে অর্থ সহায়তার পাশাপাশি শ্রমিকদের খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করার জন্য চেম্বারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।