শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০২১ ২৩:৩২

দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বন্ধে কঠোর হতে হবে

বেনজীন খান

দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বন্ধে কঠোর হতে হবে
Google News

যশোরের বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চাভিত্তিক সংগঠন প্রাচ্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক, গবেষক বেনজীন খান বলেন, বাজেট ঘোষণার পূর্বে সরকারকে প্রথমেই দেখতে হবে জনগণের সত্যিকার চাহিদা বা প্রয়োজনটা কী। তিনি বলেন, আমাদের মতো অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোতে এখনো জনগণের মৌলিক চাহিদা হলো সেই আদিম চাহিদাগুলো- অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসা ও বাসস্থান। জনগণের এই চাহিদা পূরণের জন্য রাষ্ট্রের প্রয়োজন হয় মজবুত অর্থনীতি। এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মজবুত অর্থনীতি বিকাশে রাষ্ট্রের প্রধান অন্তরায় দুটি। প্রথমত, দুর্নীতি। দ্বিতীয়ত, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। দুর্নীতি বন্ধে বাজেট ঘোষণার পূর্বেই রাষ্ট্রকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিচার ব্যবস্থায় বিশেষ পরিবর্তন সাপেক্ষে দুর্নীতিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে কঠিন শাস্তি প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। মৌলিক চাহিদার প্রথমটি অর্থাৎ অন্ন আসে কৃষি থেকে। আমরা আমাদের কৃষিটাকে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা পূরণের স্থানে না রেখে এটাকে রপ্তানিযোগ্য করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উপায় হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। ‘খাদ্যনিরাপত্তা’র দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে ‘খাদ্য-সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিভঙ্গিতে যেতে হবে। যে জমিতে যে খাদ্য প্রাকৃতিকভাবেই নির্বাহিত হয়েছিল, সেই জমিতে সেই খাদ্যকেই রাখতে হবে। প্রথম প্রথম কৃষককে (কৃষিতে নয়) পর্যাপ্ত ‘ভর্তুকি’ দিতে হবে। কৃষকের কাছ থেকে লাভজনক মূল্যে সেই পণ্য রাষ্ট্রকেই কিনতে হবে। এই ক্রয়-বিক্রয়ের মাঝখানে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। অর্থাৎ কৃষিকে কোনোভাবেই বেসরকারীকরণ করা চলবে না। যে ফসল বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়, যে ফসল বাংলাদেশের ভূমিজাত, সেই সব ফসল, খাদ্য বা পণ্য কোনোভাবেই বাইরে থেকে আমদানি করা যাবে না। বেনজীন খান বলেন, রাষ্ট্রীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাকে উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করতে হবে। নানামুখী বা মাধ্যম থেকে শিক্ষাকে একমুখী-মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং অবশ্যই সেটি হবে মাতৃভাষা বাংলা মাধ্যম। তিনি বলেন, উচ্চতর শিক্ষায় মানুষ যেমন রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ে, তেমনি কেউ চাইলে ধর্মতত্ত্ব পড়তে পারবে, চাইলে বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্যও পড়তে পারবে। এর জন্য পৃথক পৃথক শিক্ষা কারিকুলামের প্রয়োজন নেই। এমনকি রাষ্ট্রের প্রয়োজনের নিরিখে বিদেশি ভাষা ইনস্টিটিউটকে আরও বেশি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর করে তুলতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে আশু এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আশু প্রয়োজন হলো কর্মমুখী শিক্ষা, যে শিক্ষা শেষে মানুষ উৎপাদন কাজে সরাসরি নিয়োজিত হতে পারে। রাষ্ট্রের হয়ে সরকারকে সেদিকেই অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে ভর্তুকি দিতে হবে, যাতে এই মানুষেরা দেশের এমনকি বিদেশেও মানব সম্পদ রূপে পরিগণিত হতে পারে। শিক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের খরচ পুনরুৎপাদনমুখী হতে হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে নানামুখী প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান ও নৈতিকতার শিক্ষাকে সুদুরপ্রসারী লক্ষ্যের নিমিত্তে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে ঘরে ঘরে প্রকৃতিবান্ধব ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠতে পারে এবং বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জোগান বা রসদ সৃষ্টি হতে পারে। বেনজীন খান বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক ভর্তুকির কোনো বিকল্প নেই। দেশেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতাল তথা চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রতি বছর দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে চলে যায়, ওই অর্থ যদি আমরা ঠেকাতে পারি তাহলে সেটা আমাদের আয় হিসেবে গণ্য হবে।

এই বিভাগের আরও খবর