শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০২১ ২৩:৪১

এই চরম বিপর্যয় মোকাবিলায় নীতি-সহায়তা চাই

আমিনুল হক শামীম

এই চরম বিপর্যয় মোকাবিলায় নীতি-সহায়তা চাই
Google News

মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে পর্যটনশিল্পে চরম বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারের কাছে কিছু নীতি-সহায়তা চেয়েছেন এ খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর পর্যটন খাতে মন্দা যাবে। চলমান বিপর্যয় ও মন্দা মোকাবিলায় পর্যটন খাতে ভ্যাটের হার করোনাকালে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক। এই সময়ে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করা হোক। পাশাপাশি দেশের তারকা হোটেলগুলোকে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুবিধা দেওয়া হোক। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নতুন এই সহসভাপতি বলেন, ‘বিদায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ বাজেট বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। আর পর্যটন খাতের জন্য মাত্র ৭২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এমনকি পর্যটন খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনাও দেওয়া হয়নি বিগত বাজেটে। অথচ এখন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রত্যাশা ছিল ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু করোনার দাপটে এমন পরিসংখ্যানের বাস্তবায়ন নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’ কক্সবাজারের তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় ফের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে পর্যটন ব্যবসা। পর্যটন খাত এখন অনেকটাই কফিনে শুয়ে আছে। তাই পর্যটন খাতের জন্য আলাদা বাজেটের দাবি এই শিল্পপতির। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ধারা পুনরুদ্ধারে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য সব ধরনের সুবিধা আসন্ন ২০২১- ২০২২ অর্থবছরের বাজেটে রাখতে হবে। আমিনুল হক শামীম বলেন, আসন্ন বাজেটে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো এবং সেই সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আড়াই শতাংশ করপোরেট হার কমানো হোক। এ ক্ষেত্রে তার যুক্তি হলো, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের করপোরেট খাতের করহার বাংলাদেশের চেয়ে কম। ভারতে ২৫-৩০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ২২ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ২০ শতাংশ করে। এ ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ আয়কর প্রদান সাপেক্ষে শিল্পে বিনিয়োগ করার সুবিধা দিলে নতুন বিনিয়োগ, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার রোধ করা সম্ভব হবে। এফবিসিসিআইর সহসভাপতি বলেন, ২০২০-২১ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয় ৯২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা কর প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। এ সুবিধা আগামী বাজেটে অব্যাহত রাখলে দেশের টাকা দেশেই বিনিয়োগ হবে।

ময়মনসিংহ চেম্বারের এই সভাপতির মতে, গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি অথবা গ্রুপ অব কোম্পানি তৈরির মাধ্যমে ব্যবসা প্রসারিত করার চেষ্টা করে থাকেন শিল্পমালিকরা। কিন্তু ভালো উদ্যোক্তারা অনাকাক্সিক্ষত লোকসানে পড়লে অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চাপ প্রয়োগ করে। এ ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত খেলাপি প্রতিষ্ঠানের দায় অন্য প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে পরিশোধ করার নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর