শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মে, ২০২১ ২৩:২২

স্পেন-ব্রাজিলকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা বাংলাদেশের

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

Google News

ইউরোপের উন্নত রাষ্ট্র স্পেন এবং ল্যাটিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশ ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে পৃথক পৃথক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন দেশ দুটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। ওই পরিকল্পনায়  ইউরোপ ও আমেরিকার দেশ দুটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিটিসহ সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্পেন ও ব্রাজিলে বৈধ পথে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানেও জোর দেওয়া হয়েছে কর্মপরিকল্পনায়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দেশ দুটির সমর্থন পেতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে ওই পরিকল্পনা তুলে ধরেন স্পেন ও ব্রাজিলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ ও মোহাম্মদ মাসুদ। এ সম্পর্কিত সভার কার্যবিবরণী সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সভায় উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, স্পেন ও ব্রাজিলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে। সভায় বলা হয়েছে, ব্রাজিল এমন একটি দেশ যারা স্বাধীনতার প্রথম বছরেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসাকারী দেশ ব্রাজিল। এ ছাড়া খেলাধুলা বিশেষ করে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করেও বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্কোন্নয়ন সম্ভব।

ব্রাজিলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মাসুদ দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ব্রাজিল জাতিসংঘ এবং দক্ষিণ আমেরিকায় রাষ্ট্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিধায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ জলবায়ু ইস্যুতে দেশটির সমর্থন আদায়ে জোর দেবেন বলে জানান। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়াতে উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো মেনে চলা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একযোগে কাজ করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গৌরবময় ভূমিকা তুলে ধরার ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে স্পেনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ বাংলাদেশের সঙ্গে স্পেনের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন। স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ বিধায় ইইউ প্রটোকল অনুসরণ করলেও দেশটির সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব বলে মতামত প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে স্পেনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জনশক্তি রপ্তানি, কারিগরি জ্ঞান ও দুই দেশের তথ্য বিনিময়ের ওপরও জোর দেন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত।

সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি ঘাটতির ওপর আলোকপাত করে ওই ঘাটতি কমানোর ওপর জোর দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, ব্রাজিলে ওষুধ ও তৈরি পোশাকের বড় বাজার রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে। দেশীয় পণ্য নিয়ে স্পেন ও ব্রাজিলে এ ধরনের মেলা করার পরামর্শ দেন তারা। সদস্যরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধসহ কৃষি ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ডিজিটাল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে কেন্দ্র করে রপ্তানি আয় বাড়াতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে স্পেন ও ব্রাজিলেও এ ধরনের কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, স্পেনে বিশ্ব পর্যটনের সদর দফতর অবস্থিত। বাংলাদেশের ট্যুরিজমের সম্ভাবনা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার ক্ষেত্রে ওই সংস্থাটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি রাষ্ট্রদূতকে পরামর্শ দেন। তিনি স্পেনে জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সার্ভিস ডেলিভারি সিস্টেম উন্নত করার পরামর্শ দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক খান ব্রাজিল থেকে গরুর মাংস আমদানির বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দেন। তিনি বাণিজ্যিক দিক দিয়ে স্পেনের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণ করার পরামর্শ দেন। বাণিজ্য, পর্যটন মেলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি স্পেন ও ব্রাজিলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ফুটবল কূটনীতিও ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, ব্রাজিলের কিছু ফুটবল খেলোয়াড় বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থেকে খেলাধুলা ও কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্রাজিল আয়তনের দিক থেকে অনেক বড় হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে কনসাল জেনারেল নিয়োগের সুপারিশ জানান।

এই বিভাগের আরও খবর