শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ জুন, ২০২১ ০০:২৯

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবার রাজশাহীতে

এক দিনে শনাক্ত ১৬৮৭, মৃত্যু ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

করোনায় এখন পর্যন্ত ৫৬ শতাংশের বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। মোট মৃত্যুর মাত্র ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ রাজশাহীতে হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি মৃত্যু দেখেছে রাজশাহী বিভাগ। এই সময়ে রাজশাহীতে মারা গেছেন ৮ জন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। সারা দেশে মারা গেছেন ৩০ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত চার দিন ধরে টানা বাড়ছে শনাক্তের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৯৭২টি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৮৭ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার ৯৮০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১২ হাজার ৭২৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৭০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩০ জনের মধ্যে ২১ জন ছিলেন পুরুষ ও ৯ জন নারী। হাসপাতালে ২৮ জন ও বাড়িতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ১৮ জন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব, ছয়জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, দুজন চল্লিশোর্ধ্ব ও চারজনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

এর মধ্যে ছয়জন ঢাকা, ছয়জন চট্টগ্রাম, আটজন রাজশাহী, তিনজন খুলনা, একজন বরিশাল, দুজন সিলেট ও চারজন রংপুর বিভাগে মারা গেছেন। এদিকে সীমান্তবর্তী ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী, দিনাজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার শতকরা ২৫ ভাগ। এর আগে গত ২ জুন ৩০ জনের ও ১ জুন ২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। রাজশাহীতে এক দিনের ব্যবধানে ফের বেড়েছে মৃত্যু। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছিল সাতজনের। হাসপাতালে উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ২৯ জন। যার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১১, রাজশাহীর ১৪, নওগাঁর তিনজন ও পাবনা জেলার একজন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২২৪ জন করোনা রোগী। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী জানান, দিনদিন করোনা ইউনিটে রোগী বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩০ জন চিকিৎসকের চাহিদা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি পাঠিয়েছে। খুলনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ায় আজ থেকে মহানগরীর খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর ও রূপসা উপজেলায় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জরুরি সেবা ব্যতীত ১০ জুন পর্যন্ত ওইসব এলাকার সব দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মল বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি দোকান বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার ও ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে এবং হোটেল রেস্তোরাঁগুলো প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করতে পারবে। সন্ধ্যার পর একাধিক মানুষ একসঙ্গে চলাফেরা করতে পারবে না।

এই বিভাগের আরও খবর