শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুন, ২০২১ ২৩:২৮

আগামী জুনে চালু হবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

আগামী জুনে চালু হবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল
Google News

নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) চলতি জুনে চালুর কথা থাকলেও এ সময়সীমা আরও এক বছর পেছানো হয়েছে। ফলে ২০২২ সালের জুনে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত টার্মিনালটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চালু করার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি সময়সীমা অনুযায়ী না হওয়ায় তা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রথম দফা পেছানো হয়। শতভাগ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় আরও এক দফা পেছানো হলো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পতেঙ্গার চট্টগ্রাম ড্রাইডক থেকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাব পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল। এর মধ্যে থাকছে তিনটি কনটেইনার জেটি ও একটি তেল খালাসের ডলফিন জেটি। প্রকল্পের আওতায় ৩২ একর এলাকা নিয়ে নির্মাণ করা হবে ৬০০ মিটার দীর্ঘ তিনটি জেটি। ২২০ মিটার দীর্ঘ একটি ডলফিন জেটি ও ১ লাখ ১২ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ ইয়ার্ড এবং সড়ক। টার্মিনালটি চালু হলে ৪ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে। এর বাইরে থাকবে ডলফিন জেটিতে তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বর্তমান যে প্রবৃদ্ধি রয়েছে, তা মোকাবিলার জন্যই সরকার দ্রুত এ টার্মিনালটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। মুজিববর্ষে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালুর কথা থাকলেও করোনার কারণে এর নির্মাণকাজেও প্রভাব পড়ে এবং অপারেশনে যাওয়ার পরিকল্পনাও পিছিয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরসূত্রে জানা যায়, পিসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় প্রকল্প। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বন্দরের নিজস্ব তহবিলের ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের শেষ সময় ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর। পরে ব্যয় আরও ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আরডিপি বরাবর আবেদন করে প্রকল্প সংস্থা। ২০১৯ সালেই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করে মুজিববর্ষে টার্মিনাল অপারেশনে যাওয়ার কথা থাকলেও সময়ের হিসাব অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম জানান, মুজিববর্ষে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কাজ শেষ করে অপারেশনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশে দেখা দিলে ক্রমে সব ধরনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

এর প্রভাব এই টার্মিনালের নির্মাণকাজকেও বাধাগ্রস্ত করে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ ৭০-৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে গেল মার্চে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল’ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকার। টার্মিনাল অপারেশন পরিচালনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাবে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ভারতের আদানি পোর্ট আ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড ও সিঙ্গাপুরের পিসিএর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাক-সমীক্ষা অনুযায়ী প্রকল্পটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৮ মিলিয়ন ডলার এবং বার্ষিক পরিচালন ব্যয় ৮ মিলিয়ন ডলার।