রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

যমুনার ভাঙনে দিশাহারা মানুষ তিস্তা তীরে দুর্ভোগ

প্রতিদিন ডেস্ক

যমুনার ভাঙনে দিশাহারা মানুষ তিস্তা তীরে দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। অন্যদিকে রংপুরে তিস্তার পানি কমলেও তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুস সামাদ সায়েম জানান, যমুনায় গতকালও ভাঙন অব্যাহত ছিল। ভাঙনে বসতভিটাসহ সবকিছু হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে যমুনা পাড়ের মানুষ। গত কয়েক দিনে চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউয়িনের বিনাননুই পশ্চিমপাড়া, চরনাকালিয়া, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, রেহাই পুকুরিয়া নতুন পাড়া, চর ছলিমাবাদ, ভূতের মোড়, খাসপুকুরিয়া ইউপির মেটুয়ানি বাজার, খাসপুকুরিয়া বাজারসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মসজিদ ও ফসলি জমিসহ শতাধিক বসতিভটা বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও হাটবাজারসহ বহু স্থাপনা। এ ছাড়া এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চৌহালী ভাঙনে পাউবো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এনায়েতপুরে জিওব্যাগ ফেললেও তা কোনো কাজে আসছে না। জিওব্যাগসহ সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাহহার সিদ্দিকী জানান, বঙ্গবন্ধুকন্যা শহরের উন্নয়ন গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছেন অথচ আমরা নদী ভাঙনের কবলে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছি, বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারাচ্ছি, ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কবরস্থান বিলীন হয়েছে। তারপরেও পাউবো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, দেড় সপ্তাহ ধরে যমুনার পানি একবার কমছে একবার বাড়ছে। বর্তমানে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১২.৪১ সে.মি লেভেলে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপৎসীমার ৯৩ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমা-বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার অরক্ষিত তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় জিওব্যাগ ফেলেও কোনো কাজে আসছে না।

রংপুর থেকে নজরুল মৃধা জানান, তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপরে। এ সময় গঙ্গাচড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। শনিবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এদিকে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে তিস্তার পানি  কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও শনিবার দুপুর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানান, পানি কমলেও চরাঞ্চলের অনেকে এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ দেওয়া হয়ে তা খুবই অপ্রতুল।

গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, তিস্তার পানি কমে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত।

সর্বশেষ খবর