শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩৩

শেষ চেক পয়েন্টে পড়লেন ধরা

মিসরের যাত্রীর কাছে মিলল আট দেশের মুদ্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর ১১ লাখ ৬৫ হাজার সৌদি রিয়াল জব্দ করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে মিসরে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে এপিবিএন। গতকাল ভোরে মুদ্রাগুলো জব্দ করা হয়। এ সময় মিসরের ওই যাত্রীকেও আটক করা হয়। জানা গেছে, আটক ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর গাজী। তিনি টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মিসরের রাজধানী কায়রোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছিলেন।

বিমানবন্দরে গতকাল বেলা ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, ওই যাত্রীর কাছে আট দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল সৌদি রিয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মান প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আটক জাহাঙ্গীর গাজী গুলিস্তানের একজন কাপড় ব্যবসায়ী। দুই বছর ধরে তিনি মুদ্রা পাচারে জড়িত। এই সময়ে তিনি ৬৫ বার বিদেশ গেছেন। তার পাসপোর্টে মোট পাঁচ দেশের ভিসা ও ইমিগ্রেশনের ১২৫টি সিল লাগানো আছে। তিনি বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে মিসরে যাওয়ার কথা ছিল জাহাঙ্গীরের। ফ্লাইটে ওঠার আগে সর্বশেষ চেক পয়েন্টে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে চ্যালেঞ্জ করে     এপিবিএন। তার কাছে বৈদেশিক মুদ্রা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে দেহ তল্লাশি করে ৫০ হাজার রিয়াল জব্দ করা হয়। তাকে স্ক্যানিং করে দেহ ও ব্যাগ থেকে ১১ লাখ ৬৫ হাজার সৌদি রিয়ালসহ আট দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়। তিনি এসব পাচারের চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, একজন যাত্রীর পক্ষে পাসপোর্টে এন্ডোর্সমেন্ট করেও এত বৈদেশিক মুদ্রা বহন করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাহাঙ্গীর প্রবাসীদের থেকে রিয়াল সংগ্রহ করেন এবং তা একত্রিত করে পাচার করতেন। এ প্রক্রিয়ায় বিদেশে মুদ্রা গেলে বাংলাদেশ সরকার কোনো রাজস্ব পায় না। কমার্শিয়াল যাত্রীদের লাগেজ বহনের ক্ষেত্রে সরকার কিছু সুবিধা দেয়। জাহাঙ্গীর সে সুযোগ নিয়েই মুদ্রা পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, মুদ্রাগুলো মিসরে যাওয়ার কথা ছিল। পরে সেখানে গিয়ে বাল্ক অ্যামাউন্টে সোনা কেনা হতো। সে সোনাগুলো আবার বাংলাদেশেও আসতে পারত। এতে দুই দিকেই বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হতো। একদিকে টাকা পাচার হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধভাবে ট্যাক্স ছাড়া সোনা বাংলাদেশে পাচার হতো।

এই বিভাগের আরও খবর