শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

জনবিরোধী প্রস্তাব দিয়ে ইসি আরও ক্ষতি করছে

-------- ড. বদিউল আলম মজুমদার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনবিরোধী প্রস্তাব দিয়ে ইসি আরও ক্ষতি করছে

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিদায়ের সাড়ে তিন মাস আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর সংশোধন প্রস্তাব জনবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন বিশ্লেষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তাদের  কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা বিদায়ের আগে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে আমাদের আরও ক্ষতি করে যাচ্ছে। সংশোধনের যেসব নতুন প্রস্তাব তারা করছে তা জনবিরোধী।’ গতকাল বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে আলাপকালে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেন। এই নির্বাচন বিশ্লেষক বলেন, ‘বর্তমান কমিশন বিদায়ের আগে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইন করার উদ্যোগ নিতে পারত, কিন্তু তা করেনি। তাদের নিজের যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল তা করেনি। তারা নতুন করে আইন সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা করে আমাদের আরও ক্ষতি করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, বিশেষ করে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে আরও ১০ বছর সময় বাড়ানো কোনোভাবেই সঠিক হবে না। এটা নারীদের স্বার্থবিরোধী কাজ হবে। নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন দরকার। রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অঙ্গসংগঠনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা দরকার। ঋণখেলাপির সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থী হওয়ার জন্য সব ধরনের ঋণ ও বিল পরিধোধের ক্ষেত্রে আগের অবস্থায় তথা আগের বিধানে ফিরে যাওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আছে সাড়ে তিন মাস। আগামী বছরের ১৫ ফেব্রয়ারি তাদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ১০টি সংশোধন আনার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে এই ইসি। সোমবার নির্বাচন কমিশনাররা এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। তাতে আরপিওতে ১০টি ধারায় সংশোধন আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ক্ষুদ্র ঋণ ও বিল খেলাপিদের বিল পরিশোধে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সময় আরও ১০ বছর বাড়ানো, নিবন্ধনের জন্য সংশোধিত গঠনতন্ত্র ৩০ দিনের মধ্যে জমা দেওয়া, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের পোস্টাল ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা ইত্যাদি। এ ছাড়া পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন অনলাইনভিত্তিক করারও প্রস্তাব রয়েছে।

সর্বশেষ খবর